নয়াদিল্লি: প্রজননের গবেষণায় ফের বড় সাফল্য পেলেন চিনের বিজ্ঞানীরা। দুই বাবার সন্তান হিসেবে একটি ইঁদুরের আগমন আগেই শোরগোল ফেললেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, সেই ইঁদুরছানা এবার প্রাপ্তবয়স্কে পৌঁছে গেল। ইউনিসেক্সুয়াল প্রজনন (একই লিঙ্গের প্রজনন) ঘটিয়ে বিজ্ঞানের জগতে নয়া মাইলফলক তৈরি করলেন তাঁরা। ইঁদুরছানার জন্মে প্রয়োজন পড়ল না মায়ের।


বেজিংয়ের Chinese Academy of Sciences-এর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক উই লি নেতৃত্বাধীন গবেষণাকারী বিজ্ঞানীরা এই অসাধ্যসাধন করলেন। ভ্রূণের বৃদ্ধিতে নয়া যুগের সূচনা ঘটল তাঁদের হাত ধরে। ভবিষ্যৎ প্রজনন বিজ্ঞানের জন্য তাঁদের এই গবেষণা নয়া দিগন্ত উন্মোচন করল।


আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে দুই মায়ের একই সন্তান হিসেবে একটি ইঁদুরছানার জন্ম হয়। কিন্তু দুই বাবার এক সন্তান ভূমিষ্ঠ করার পথ ছিল কঠিন। শেষ পর্যন্ত, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ল্যাবরেটরিতে প্রযুক্তির সাহায্যে সেই কাজে সাফল্য মেলে। ইমপ্রিন্টেড জিনের মাধ্যমে এই অসাধ্য সাধন করা সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে মা-বাবার জিনের একটি অনুলিপির প্রকাশ ঘটে, অন্যটি থাকে সুপ্ত। এক্ষেত্রে ভ্রূণের স্টেম সেলে সংশোধন ঘটান বিজ্ঞানীরা। ফলে একটি ইঁদুরছানা দুই বাবার জিন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বিপরীত লিঙ্গের, অর্থাৎ স্ত্রী ইঁদুরের প্রয়োজনই পড়েনি। দুই পুরুষ ইঁদুরের সন্তান হিসেবেই জন্মেছে ইঁদুরছানাটি। 


Chinese Academy of Sciences-এর বিজ্ঞানীরা Cell Stem Cell জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে জানিয়েছেন, ২০টি অণুলিপিতে সংশোধন ঘটিয়ে দুই বাবার সন্তান হিসেবে একটি ইঁদুরছানা সৃষ্টি করেছেন তাঁরা। ইউনিসেক্সুয়াল রিপ্রোডাকশন মাধ্যমে বিজ্ঞানের জগতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন তাঁরা।


প্রাণীজগতে প্রজননের বিভিন্ন ব্যাখ্যা মিলেছে এতদিনে। এর মধ্যে একমাত্র কিছু প্রজাতির টিকটিকে সঙ্গম ছাড়াই সন্তানের জন্ম দিতে পারে। তাদের ডিম একটা সময় পর আপনাআপনিই ভ্রূণের আকার ধারণ করে। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রে তা ঘটে না। বিপরীত লিঙ্গের দুই প্রাণীর মিলনেই সাধারণত প্রজনন ঘটে স্তন্যপায়ীদের।


গবেষণায় দেখা যায়, স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রে একক ভাবে সন্তান জন্ম দেওয়ার পথে মূল বাধা ছিল ইমপ্রিন্টেড জিন। সাধারণত স্তন্যপায়ী প্রাণীরা মা-বাবার থেকে একটি করে জিন পায়। জিনোমিক ইমপ্রিন্টিং পদ্ধতিতে সেই দু’টি বা একটি জিনের প্রকাশ ঘটে। সামান্য বিচ্যুতি বলেও ভ্রূণের বৃদ্ধির উপর প্রভাব পড়ে। তাই নয়া এই গবেষণা শোরগোল ফেলে দিয়েছে।


তবে এই গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে এক্ষেত্রে। এর সাফল্যের হার অত্যন্ত কম, মাত্র ১১.৮ শতাংশ। এমন অনেক ইঁদুরের জন্ম হলেও, অধিকাংশই বেঁচে থাকতে পারেনি। সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠাই এখন মূল লক্ষ্য বিজ্ঞানীদের। হনুমানের উপরও এই পরীক্ষা চালাতে বদ্ধপরিকর বিজ্ঞানীরা।