কলকাতা: তাড়াহুড়ো নয়, বরং পা ফেলা হচ্ছে মেপে মেপে। তাই খুব কাছাকাছি এসেও এক হতে পারল না ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO-র দুই কৃত্রিম উপগ্রহ। মাঝে মাত্র ৩ মিটারের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও পিছু হটতে হল তাদের। নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে ফের দুই কৃত্রিম উপগ্রহকে একত্রিত করার চেষ্টা চলবে বলে জানিয়েছে ISRO. (ISRO Space Docking)


ISRO-র বক্তব্য, 'আজ পরীক্ষামূলক ভাবে প্রথমে ১৫ মিটার এবং পরবর্তীতে ৩ মিটার ব্যবধানে এসে পৌঁছয় দুই কৃত্রিম উপগ্রহ। আপাতত নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাদের। এযাবৎকালীন তথ্য খতিয়ে দেখে ফের নোঙরের প্রক্রিয়া শুরু হবে'।মহাশূন্যে কৃত্রিম উপগ্রহ নোঙর করার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। তাই কখনও এগোচ্ছে, পর মুহূর্তেই আবার পিছু হটছে ISRO-র দুই কৃত্রিম উপগ্রহ। কৃত্রিম উপগ্রহ নোঙর করতে একেবারে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভারতীয় ডকিং সিস্টেম ব্যবহার করেই মাইলফলক ছুঁতে চাইছে ISRO. (ISRO SpaDeX Mission)


গত ৩০ ডিসেম্বর SpaDeX নামের এই অভিযানের সূচনা ঘটে।  অভিযানের আওতায় দু'টি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠায় ISRO, SDX01 (Chaser) এবং SDX02 (Target). দু'টির ওজন ২২০ কেজি করে। PSLV-C60 থেকে সেগুলির উৎক্ষেপণ হয়। এই অভিযান সফল হলে আমেরিকা, রাশিয়া, চিনের পাশাপাশি ভারতও মহাকাশ অভিযানে নয়া মাইলফলক ছুঁতে সফল হবে। চাঁদের মাটি পৃথিবীতে বয়ে আনা থেকে চাঁদের মাটিতে মানুষ নামানো, সব অভিযান আরও সহজতর হয়ে উঠবে।


মহাকাশ বিজয়ের লক্ষ্য নিয়েই এই মুহূর্তে ছুটে চলেছে পৃথিবীর সব দেশ। পৃথিবীর বিকল্প বাসস্থানের খোঁজ চলছে যেমন, তেমনই সৃষ্টিতত্ত্বের অনুধাবন, সম্ভাব্য বিপদের পূর্বাভাস প্রাপ্তি এবং মহাজাগতিক সম্পদকে পৃথিবীর কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে পাশাপাশি। কিন্তু মহাকাশ অভিযান মোটেই সহজ নয়। তাই বিপদে পড়লে দুই মহাকাশযান যাতে সংযুক্ত হতে পারে, বিদ্যুৎ, জ্বালানির আদানপ্রদান করতে পারে, একটি থেকে যাতে অন্যটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তার ব্যবস্থা থাকাও জরুরি। তাই এই নোঙর অভিযান।


বৃত্তাকারে পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরে চলেছে দুই কৃত্রিম উপগ্রহ। মহাকাশ গবেষণায় ISRO-র এই অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আওতায় মহাশূন্যে দু'টি কৃত্রিম উপগ্রহ ঘুরতে ঘুরতে পরস্পরের কাছাকাছি চলে আসবে এবং নোঙর করে সংযুক্ত হবে পরস্পরের সঙ্গে। এই অভিযান সফল হলে মহাকাশ গবেষণায় নয়া মাইলফলক ছোঁবে ISRO।