নয়াদিল্লি: মহাকাশের অন্য গ্রহ-উপগ্রহের থেকে আকার একেবারে আলাদা। এমনকি শারীরিক গড়নও বেশ অন্যরকম। লালগ্রহ মঙ্গলের দুই উপগ্রহ, ফোবোস এবং ডিমোসকে নিয়ে তাই কৌতূহল বরাবরের। এতদিন পর সম্ভাব্য কারণ বুঝতে করতে সফল হলেন বিজ্ঞানীরা। অন্তত ডিমোসের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে, তার আন্দাজ পাওয়া গেল। (Mars Moon Deimos)

Continues below advertisement

গ্রিক দেবতা আরেসের ছেলের নামানুসারে ডিমোস নামকরণ, যার অর্থ শঙ্কা। রোমান পুরাণ অনুযায়ী আরেস আবার পরিচিত ‘মার্স’ নামে। সেই অনুযায়ীই মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহের নামকরণ হয়। ডিমোস একটি অমসৃণ, পাথুরে, ছোট আকারের উপগ্রহ, যার আকার আলুর মতো।  ডিমোসের আয়তন ১২ কিলোমিটার। দক্ষিণ মেরুতে একটি ১০ কিলোমিটার গহ্বর রয়েছে। (Science News)

আরও পড়ুন: ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে FIR দায়ের, একাধিক অপরাধমূলক ধারায় মামলা

Continues below advertisement

মঙ্গলের মাটি থেকে ২৪০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ডিমোস। সাতের দশক থেকেই সেটির উপর নজর বিজ্ঞানীদের। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির ‘Hera’ স্যাটেলাইট সেটির গা ঘেঁষে বেরিয়ে আসে। ডিমোসের কিছু ছবিও তুলে পাঠায় পৃথিবীতে। সেই ছবি দেখে কৌতূহল আরও বেড়ে যায়। কারণ সহোদর ফোবোস খানাখন্দে ভর্তি হলেও, ডিমোসের শরীর মসৃণ দেখায়। ধুলো এবং পাথরের টুকরোর আবরণে ঢাকা ছিল উপরিভাগ। 

মহাকাশ থেকে প্রাপ্ত চিত্রে দেখা গেছে যে, প্রাচীন গ্রিক ভাষায় ‘ভয়’ অর্থবহ নামধারী এবং অসংখ্য গর্তে ভরা তার ‘সহোদর’ উপগ্রহ ফোবোসের তুলনায় ডেইমস অনেক বেশি মসৃণ—এবং এটি ‘রেগোলিথ’ (regolith) নামক ধুলো ও পাথরের টুকরোর এক রহস্যময় আস্তরণে আবৃত। ডিমোসের বুকে কী করে বিশালাকার গহ্বরের সৃষ্টি হল, ধুলোর আবরণ কোত্থেকে এল, এতদিন ধরে তা জানার চেষ্টা করছিলেন বিজ্ঞানীরা। 

আরও পড়ুন: অনেক এগিয়ে চিন, এগোচ্ছে পাকিস্তানও, ভারত এখনও ফোর্থ জেনারেশন যুদ্ধবিমানে আটকে? অবসরের পরই মুখ খুললেন বায়ুসেনার এয়ার মার্শাল

মঙ্গলবার Nature Astronomy জার্নালে যে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে, তাতে সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, গ্রহাণু আছড়ে পড়ে ডিমোসের বুকে। সেই আঘাত সহ্য করতে না পেরেই আকার বদলে যায়। দক্ষিণ মেরুতে সৃষ্টি হয় বিশালাকার ওই গহ্বরের। চলতি বছরের শেষে মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহ দু’টিকে পর্যবেক্ষণ করতে MMX মহাকাশযান পাঠাচ্ছে জাপান, তাতে আরও বিশদ তথ্য উঠে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফোবোস এবং ডিমোস থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে তাদের সৃষ্টিতত্ত্ব বুঝতে পারবেন বিজ্ঞানীরা।

কম্পিউটার কোড Bern Smoothed Particle Hydrodynamics তথা SPH ব্যবহার করেই ডিমোস সম্পর্কে জানতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। একটি মাত্র গ্রহাণু আছড়ে পড়েই ডিমোসের ওই অবস্থা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সুইৎজ়ারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অফ বার্ন সেটি তৈরি করে দু’দশকেরও বেশি সময় আগে, যার দ্বারা গ্রহাণু, ধূমকেতু এবং গ্রহ সম্পর্কে সম্যক ধারণা মেলে। সিমুলেশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য় অনুযায়ী, ৩২০ মিটার আয়তনের কোনও গ্রহাণু, ৪৫ ডিগ্রি কোণে আছড়ে পড়ে থাকতে পারে ডিমোসের বুকে। তাতেই বিশালাকার ওই গহ্বর, ধুলো ও পাথরের টুকরোর আস্তরণ তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

ফোবোস এবং ডিমোসের সৃষ্টি নিয়েও ভিন্ন ভিন্ন তত্ত্ব রয়েছে। বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, মঙ্গলের বুক থেকে কিছু অংশ ছিটকে গিয়েই তাদের সৃষ্টি। ডিমোসকে পর্যবেক্ষণ করে এবং সিমুলেশন চালিয়ে বিজ্ঞানীদের ধারণা, ডিমোসের ভিতরকার অংশ ছিদ্রযুক্ত। মহাজাগতিক পাথরের সমষ্টি সেটি, যা মঙ্গলের অভিকর্ষ বল দ্বারা আটকে রয়েছে।