নয়াদিল্লি: আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে লাভা তখন ফুটছে। আচমকাই সবুজ হয়ে উঠল চারিদিক। আকাশ থেকে সজোরে আছড়ে পড়ল আগুনের গোলা। আর তাতেই চোখ ধাঁধিয়ে গেল সকলের। সেই বিরল দৃশ্য ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে। সেই বিরল দৃশ্য দেখে শিহরিত সকলে। (Meteor Explodes Behind Volcano)

Continues below advertisement

ফিলিপিন্সের মাউন্ট মায়োন আগ্নেয়গিরিটি এই মুহূর্তে ফুঁসছে। জ্বালামুখে টগবগ করে ফুটছে তরল লাভা। গা বেয়ে নেমে আসছে লাভার নদী। দিনভর ওই আগ্নেয়গিরির দিকে ক্যামেরা তাক করে রেখেছেন বিজ্ঞানীরা। রবিবার সেই ক্যামেরাতেই অদ্ভুত দৃশ্য ধরা পড়ল। (Science News)

আরও পড়ুন: ভারত মহাসাগরে তীব্র বিস্ফোরণ, বিধ্বংসী আগুন গিলে খেল চারপাশ, ছিন্নভিন্ন প্রকাণ্ড রকেট

স্থানীয় সময় রাত ১০টা বেজে ৩৩ মিনিট নাগাদ ওই ঘটনা ঘটে। আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে তখন লাভা টগবগ করছে। সেই সময় হঠাৎই সবুজ আলোর বিস্ফোরণ ঘটে কার্যত। নীরব বিস্ফোরণ ঘটে, যার সামনে ফিকে হয়ে যায় আগ্নেয়গিরির গনগনে রূপ। তবে মাত্র কয়েক মুহূর্তই স্থায়ী হয় ওই দৃশ্য। ফের অন্ধকার নেমে আসে। টগবগ করে ফুটতে থাকে আগ্নেয়গিরির লাভা। 

আরও পড়ুন: সূর্যাস্তের পরও বেজায় গরম, নিজের ঘরেই টেকা যাচ্ছে না, কেন হচ্ছে এমন?

ওই সবুজ আলোর বিস্ফোরণ অন্য কিছু নয়, বরং উল্কা বিস্ফোরণ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। গ্রহাণু বা ধূমকেতুর টুকরো হতে পারে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। সরাসরি আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে আছড়ে পড়েনি সেটি। বরং পর্বতের ঢালে আছড়ে বলেই ঠাহর হয় দূর থেকে। যদিও বিজ্ঞানীদের মতো, আসলে শূন্য়েই বিস্ফোরণ ঘটে ছাই হয়ে যায় মহাজাগতিক বস্তুটি। আগ্নেয়গিরির প্রেক্ষাপটে গোটা ঘটনা ঘটে বলে, সেটি পর্বতে আছড়ে পড়েছে বলে ঠাহর হয়। 

মায়োন একটি সুউচ্চ আগ্নেয়গিরি। সেখান থেকে অগ্ন্যুৎপাত ঘটলে খনও তা ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে, কখনও আবার সৌন্দর্য মন কাড়ে। লাভা-বিধৌত ওই অঞ্চল প্রায়শই গলিত শিলা এবং বিষাক্ত গ্যাসের প্রকোপ সহ্য করে। মে মাসে অগ্ন্যুৎপাত এতটাই ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে যে বিস্ফোরণ ঘটে। বহু দূর পর্যন্ট ছিটকে পড়ে ছাই, পাথর। ফলে এলাকা খালি করে দিতে হয়।

ওয়েবক্যাম বসিয়ে মায়োনের উপর নজরদারি চালানো হয়। সেই ওয়েবক্য়ামেই গোটা ঘটনা ধরা পড়েছে। মহাশূন্য থেকে নেমে আসা আগুনের গোলাটি কয়েক মুহূর্তের জন্য আগ্নেয়গিরির লাভার ঔজ্জ্বল্যকে ম্লান করে দেয়। মায়োন থেকে যে লাভা বেরিয়ে আসে, তার তাপমাত্রা প্রায় ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে উল্কা বিস্ফোরণ ঘটলে, তাকে ঘিরে থাকা বাতাসের তাপমাত্রপা কয়েক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। ওই মহাজাগতিক বস্তুটির রাসায়নিক উপাদান বোঝা যায়নি। গোটা বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে।