নয়াদিল্লি: রকেট আছড়ে পড়ে চাঁদের মাটিতে নতুন গহ্বরের সৃষ্টি হল। গত ৫ অগাস্ট ধনকুবের ইলন মাস্কের সংস্থা SpaceX-এর Falcon 9 রকেট আছড়ে পড়েছিল চাঁদের বুকে। সেই আঘাতের দরুণই বিরাট গহ্বরটির সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীর উপগ্রহে। এবার সেই ছবি প্রকাশিত হল। ( Falcon 9 Crater on Moon)
আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-র স্যাটেলাইট LRO চাঁদের বুকে সৃষ্টি হওয়া ওই নতুন গহ্বরের ছবি তুলেছে। ১১-১২ অগাস্টের মধ্যে তোলা হয়েছে ছবিটি। দেখা গিয়েছে, চার পাশে পাথর পড়ে রয়েছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। মধ্যিখানে রয়েছে গর্তটি। সেটি প্রায় ৬০ ফুট চওড়া। (New Lunar Crater)
২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি SpaceX-এর Falcon 9 রকেটটির উৎক্ষেপণ হয়। চাঁদে দু’টি ল্যান্ডার পৌঁছে দেওয়াই কাজ ছিল সেটির। রকেটের নিম্নভাগটি পুনর্ব্যবহারের জন্য পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু ঊর্ধ্বভাগটির ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। ফলে মহাকাশেই দিশাহীন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল সেটি।
Falcon 9 রকেটের ঊর্ধ্বভাগটি প্রায় এক বছর পৃথিবীর গা ঘেঁষে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। কিন্তু চাঁদের অভিকর্ষ টান এবং সৌর বিকিরণের প্রভাবে ঝাঁকুনি খায় ৪ মেট্রিক টনের ওই রকেটের অংশ বিশেষ। পৃথিবীর পরিবর্তে ক্রমশ চাঁদের দিকে সরতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত আছড়ে পড়ে চাঁদের বুকে।
আরও পড়ুন: পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি ভরার সময় তীব্র বিস্ফোরণ, ফাটল CNG সিলিন্ডার, মৃত বেড়ে ৩
রকেট আছড়ে পড়ার ফলে চাঁদের মাটিতে নতুন গহ্বরের সৃষ্টি হবে বলে আগেই বুঝতে পেরেছিলেন বিজ্ঞানীরা। তবে দূর থেকে সেটি খুুঁজে পাওয়া কঠিন কাজ ছিল। সেই অসাধ্য সাধন করেছে LRO. NASA জানিয়েছে, চাঁদের বুকে, আইনস্টাইন গহ্বরের কাছে আছড়ে পড়ে রকেটটি। সেই সময় চাঁদের ওই অংশ সূর্যের দিকে ছিল। তাই পৃথিবী থেকে দেখা যায়নি।
চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ার সময় রকেটটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৭০০ কিলোমিটার। সেই কারণেও বিষয়টি জটিল হয়ে ওঠে। সাধারণত চাঁদের মাটিতে গ্রহাণু আছড়ে পড়লে গতিবেগ থাকে ঘণ্টায় ৭২৪২০ কিলোমিটারের মতো। সেই তুলনায় শ্লথ গতিতেই চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ে রকেটটি। ফলে অভিঘাতের দরুণ সৃষ্ট গহ্বরটিও আয়তনে তুলনামূলক ছোট।
Falcon 9 রকেটটি চাঁদের বুকে আছড়ে পড়তে পারে বলে মে মাসে প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী করেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী বিল গ্রে। এর পর, দিন ক্ষণ, স্থান সম্পর্কে সকলকে অবহিত করে NASA. প্রথম বার চাঁদের বুকে সৃষ্ট নতুন গহ্বরটিকে শনাক্ত করে দক্ষিণ কোরিয়ার Danuri Lunar Orbiter. গত ৬ অগাস্ট অস্পষ্ট একটি ছবি প্রকাশ করে তারা, যা বহু দূর থেকে তোলা। গর্তটিও বেশ ছোট দেখাচ্ছে ছবিতে। এর ছ’দিন পর NASA-র LRO ছবি তোলে গহ্বরটির।
