নয়াদিল্লি: মঙ্গলগ্রহে পৌঁছনোর ‘শর্টকাট’ আবিষ্কার হল। একেবারে দুর্ঘটনাবশতই লালগ্রহে পৌঁছনো এবং সেখান থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসার সোজা রাস্তার সন্ধান পেলেন এক বিজ্ঞানী। এত দিন মঙ্গলগ্রহে পৌঁছতে যে সময় লাগত, নয়া পথের সন্ধান মেলায় তার চেয়ে অর্ধেক সময় লাগবে বলে জানা যাচ্ছে। গ্রহাণুর গতিপথ নিয়ে গবেষণা চলাকালীনই নয়া পথটির সন্ধান মেলে বলে খবর। (Earth to Mars Shortcut)

Continues below advertisement

পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব যত, সেই নিরিখে মঙ্গলের দূরত্ব ৫০ শতাংশ। বর্তমানে পৃথিবী থেকে মঙ্গলগ্রহে পৌঁছতে সময় লাগে ৭ থেকে ১০ মাস। পৃথিবী এবং মঙ্গলগ্রহের মধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ী অভিযানের উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় ২৬ মাস অন্তর। ফলে অভিযান এবং প্রত্যাবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ফলে একবারের অভিযানই তিন-তিন বছর লেগে যায়। (Science News)

আরও পড়ুন: চাঁদের বুকে আছড়ে পড়বে SpaceX রকেট! তীব্র বিস্ফোরণ, নয়া গহ্বর তৈরি হওয়ার আশঙ্কা, পৃথিবী থেকে দেখা যাবে কি?

Continues below advertisement

বর্তমান অভিযানের রূপরেখা অনুযায়ী, মঙ্গলে পৌঁছাতে—যা পৃথিবী অপেক্ষা সূর্য থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ অধিক দূরত্বে অবস্থিত—মোটামুটি সাত থেকে দশ মাস সময় লাগে। যেহেতু জ্বালানি-সাশ্রয়ী ভ্রমণের উপযোগী অবস্থানে পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহের অবস্থান প্রতি ২৬ মাস অন্তর মাত্র একবারই মিলে যায়, তাই নভোচারীদের প্রত্যাবর্তনের উপযুক্ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়; ফলে পুরো আসা-যাওয়ার এই সফরটি প্রায় তিন বছর দীর্ঘ হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মারা যেতে পারেন রোগী, শুধুমাত্র চোখ দেখেই বলে দেওয়া সম্ভব! গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

কিন্তু Acta Astronautica জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র অনুযায়ী, সম্ভাব্য বিরদ থেকে বাঁচতে পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থানে থাকা গ্রহাণুর গথিপথ নিরীক্ষণ করে নয়া রাস্তার সন্ধান মিলেছে। গবেষক তথা স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নর্দার্ন রিও ডি জেনিরোর মহাকাশবিদ মার্সেলো ডি অলিভেরা সুজা বলেন, “মঙ্গলে অভিযানে দু’বছরের বেশি সময় লাগার যে ধারণা, তা হয়ত বদলাবে।”

সুজা জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে প্রথম বার বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেন তিনি। বিশেষ করে 2001 CA21-এর মতো মহাজাগতিক বস্তুটিকে নিরীক্ষণ করতে গিয়ে বোঝা যায়, পৃথিবী এবং মঙ্গলের কক্ষপথ পেরিয়ে আসতে অন্য় একটি রাস্তা ধরেছিল সেটি। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে পৃথিবী এবং মঙ্গল যখন সমান্তরাল অবস্থানে আসে, সেই সময়ই ‘শর্টকাট’টির সন্ধান মেলে। দেখা যায়, ওই রাস্তা ধরলে পৃথিবী থেকে মঙ্গলে পৌঁছনো সম্ভব ৩৪ দিনে।

তবে অত অল্প সময়ে মঙ্গলগ্রহে পৌঁছতে গেলে সেকেন্ডে ৩২.৫ কিলোমিটার গতিতে ছোটা মহাকাশযানের প্রয়োজন পড়বে। এই মুহূর্তে কোনও রকেট বা মহাকাশযানের সেই ক্ষমতা নেই। তবে সুজা আশাবাদী, ২০৩১ সালে যে অবস্থানে থাকবে পৃথিবী এবং মঙ্গলগ্রহ, তাতে দ্রুতগতির অভিযান সম্ভব। সেক্ষেত্রে ১৫৩ দিনে পৃথিবী থেকে মঙ্গলে যাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ ২০৩১ সালের ২০ এপ্রিল মহাকাশযানের উৎক্ষেপণ হলে, সেকেন্টে ২৭ কিলোমিটার গতিতে তা যদি ছোটে. তাহলে ২৩ মে সেটি মঙ্গলে পৌঁছতে পারবে। ৩০ দিন সেখানে কাটিয়ে আবার ২২ জুন যদি যাত্রা শুরু করে, তাহলে ২০ সেপ্টেম্বর পৃথিবীতে ফিরে আসবে।

সুজা বলেন, “আমার জন্য চমকপ্রদ বিষয় ছিল। আমি তো খুঁজছিলামই না।” সঠিক সময়ে, সঠিক জায়গায় থাকার জন্যই শর্টকাটের খোঁজ পান বলে জানান সুজা। ওই রাস্তা ফের আবিষ্কার সহজ নয়। কারণ গ্রহগুলির অবস্থান সদা পরিবর্তনশীল। পাশাপাশি, বাস্তবে ওই রাস্তা ধরে, উপযুক্ত প্রযুক্তির সাহায্য়ে অভিযান সম্ভব কি না, তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।