নয়াদিল্লি: মহাকাশচারী হিসেবে সুদীর্ঘ কেরিয়ার। একের পর এক মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। এবার অবসর গ্রহণ করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস। মঙ্গলবার সুনীতার অবসরের কথা ঘোষণা করল আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA. ঘটনাচক্রে, সুনীতা ভারত সফরে থাকাকালীনই তাঁর অবসরের ঘোষণা হল। (Sunita Williams Retires)

Continues below advertisement

NASA জানিয়েছে, বড়দিনের পর পরই, গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে সুনীতার অবসর কার্যকর হয়েছে। অবসর গ্রহণ করেছেন ৬০ বছর বয়সি সুনীতা। NASA-র বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মানুষের মহাকাশ অভিযানে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন সুনীতা। ভবিষ্যৎ মহাকাশ গবেষণার রূপকার তিনি। পৃথিবীর কক্ষপথের নিম্নভাগে বাণিজ্যিক অভিযানের পথ প্রশস্ত করেছেন’। (Sunita Williams)

NASA-র প্রশাসনক জ্যারেড আইজ়্যাকম্য়ানের কথায়, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে যে ভূমিকা পালন করেছেন সুনীতা, তাতেই চন্দ্রাভিযান আর্টেমিস এবং মঙ্গল অভিযানের ভিত্তিস্থাপন হয়েছে। আগামী প্রজন্ম ওঁর থেকে অনুপ্রেরণা পাবে, স্বপ্ন দেখতে শিখবে। অবসরকালে অভিনন্দন জানাই ওঁকে। NASA এবং দেশের যে সেবা করেছেন, তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ’।

Continues below advertisement

১৯৯৮ সালে সুনীতা NASA-য় নিযুক্ত হন।  তিন-তিনবার মহাকাশ অভিযানে গিয়েছেন তিনি। মহাকাশে কাটিয়েছেন ৬০৮ দিন। মহাকাশে কাটানো মোট দিনের নিরিখে, NASA-র মহাকাশচারীদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে আছেন তিনি। একবার অভিযানে গিয়ে দীর্ঘদিন মহাকাশে থাকার নিরিখে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন। NASA-র আর এক মহাকাশচারী, সুনীতার সহযাত্রী ব্যারি বুচ উইলমোরও যুগ্ম ভাবে রয়েছেন ষষ্ঠ স্থানে। SpaceX Crew-9 অভিযানে ২৮৬ দিন মহাকাশে ছিলেন তাঁরা। 

সবমিলিয়ে মোট ন’টি স্পেসওয়াকের রেকর্ড রয়েছে সুনীতার। স্পেসওয়াকে সময় কাটিয়েছেন ৬২ ঘণ্টা ৬ মিনিট, যা মহিলা মহাকাশচারীদের মধ্যে সর্বাধিক এবং নারী-পুরুষ সকলের মধ্যে চতুর্থ। মহাকাশে ম্যারাথনে অংশ নেওয়া প্রথম মহাকাশচারীও সুনীতা। 

২০০৬ সালের ৯ ডিসেম্বর প্রথম মহাকাশে পাড়ি দেন সুনীতা। দ্বিতীয় অভিযানে যান ২০১২ সালের ১৪ জুলাই। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তৃতীয় এবং শেষ মহাকাশ অভিযানে বেরোন সুনীতা ও ব্যারি। মাত্র আটদিনের পরিকল্পনা নিয়ে বেরিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই অভিযানই দীর্ঘতম হয়ে ওঠে তাঁদের জন্য। সাড়ে ন’মাস মহাকাশে কাটিয়ে পৃথিবীতে ফেরেন। 

সুনীতার বাবা পেশায় নিউরোঅ্যানাটমিস্ট। জন্ম গুজরাতের মেহসানার। স্লোভেনিয়ার বনি পান্ড্যর সঙ্গে বিয়ের পর আমেরিকা চলে যান। আমেরিকার ওহায়োতেই জন্ম সুনীতার। স্বামী মাইকেল এবং পোষ্যদের নিয়ে সংসার সুনীতার। তবে সুনীতা জানিয়েছেন, মহাকাশই তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জায়গা।

অবসরকালে সুনীতার বক্তব্য, “NASA-র দীর্ঘ ২৭ বছরের অসাধারণ কেরিয়ার আমার। সহকর্মীদের অফুরন্ত ভালবাসা এবং সমর্থনের জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন, সব মানুষজন, ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজ্ঞানের দৌলতেই চাঁদ এবং মঙ্গলে অভিযান চালানোর পথ প্রশস্ত হয়েছে। আশা করি, আগামীর কাজ আরও সহজ হবে। আমি ইতিহাস তৈরি হতে দেখার অপেক্ষায় রইলাম”।