নয়াদিল্লি: ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভূমিকম্পে জর্জরিত গোড়া থেকেই। ২০২৫ শেষ হওয়ার আগেও ভেলকি দেখিয়ে চলেছে প্রকৃতি। সকলকে চমকে গিয়ে অবলুপ্ত হয়ে যাওয়া ভূমিকম্প এবার জেগে উঠল। এত বছর পর ইরানের তাফতান আগ্নেয়গিরি থেকে নতুন করে ধোঁয়া বেরোতে শুরু করল। জ্বালামুখের অংশটি ফুলেও গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। শীগ্রই সেখানে তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হতে চলেছে বলে জানালেন বিজ্ঞানীরা। (Taftan Volcano)
কয়েক দশক বা কয়েক শতক নয়, বিগত ৭ লক্ষ ১০ বছর ধরে নিষ্ক্রিয় ছিল ইরানের তাফতান আগ্নেয়গিরিটি। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের মে মাসের মধ্য়ে আগ্নেয়গিরির চূড়ার অংশ স্ফীত দেখায়। ওই ফোলাভাব কমার পরিবর্তে দিনে দিনে আড়ে-বহরে বাড়তে শুরু করে। সেই আগ্নেয়গিরি থেকেই এই মুহূর্তে ধোঁয়া বেরোতে শুরু করেছে। (Science News)
এখনও পর্যন্ত তাফতান আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ পুরোপুরি খোলেনি। বরং ঘাড়ের কাছের অংশ ফুলেই চলেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, হতে পারে গলার কাছে গ্যাসের চাপ বাড়ছে। গত ৭ অক্টোবর Geophysical Letters জার্নালে এ নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এই মুহূর্তে ওই আগ্নেয়গিরির উপর নজরদারি চলছে।
গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী, ইনস্টিটিউন ন্যাচরাল অ্যান্ড রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাগ্রোবায়োলজির গবেষক পাবলো গঞ্জালেজ জানিয়েছেন, এতদিন ওই আগ্নেয়গিরি বিপজ্জনক ছিল না। কিন্তু এবার নজরদারি চালাতে হচ্ছে।
হোলোসিনের আগে থেকে অগ্ন্যুৎপাত না ঘটা আগ্নেয়গিরিগুলিকে অবলুপ্ত বা মৃত আগ্নেয়গিরি বলা হয়। শেষ তুষার যুগের পর, আজ থেকে ১১ হাজার ৭০০ বছর আগে থেকে অগ্ন্যুৎপাত না ঘটা আগ্নেয়গিরিগুলিকে মৃত বা অবলুপ্ত আগ্নেয়গিরি বলা হয়। কিন্তু তাফতানের ক্ষেত্রে অগ্ন্যুৎপাত ঘটেনি ৭ লক্ষ ১০ বছর ধরে। তাই তাফতানকে কোন গোত্রে ফেলা উচিত, তা নিয়ে ভাবনা চিন্তার সময় এসেছে বলে মত বিজ্ঞানী গঞ্জালেসের। তিনি জানিয়েছেন, তাফতান থেকে ফের অগ্ন্যুৎপাত ঘটতে চলেছে। এই মুহূর্তে না হলেও, হবে। তার রূপ ভয়াবহ হতে পারে, আবার ততটাও ভয়ঙ্কর না হতে পারে। তাই এখন থেকে নজরদারি চালাতে হবে।
তাফতান আগ্নেয়গিরির উচ্চতা ১২ হাজার ৯২৭ ফুট। ইরানের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সেটি। তাফতান একটি স্ট্র্যাটোভলক্যানো, অর্থাৎ যৌগিক আগ্নেয়গিরি। এই ধরনের আগ্নেয়গিরি অত্যন্ত বিধ্বংসী প্রকৃতির হয়। পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত যত শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে, তার জন্য যৌগিক আগ্নেয়গিরিই দায়ী। উদাহরণস্বরূপ ১৯৮০ সালের মাউন্ট সেন্ট হেলেন্স, আইজফিয়োলোয়োকুল, মাউন্ট এটনার কথা বলা যায়।
ইউরেশিয়ান মহাদেশের নীচে আরব মহাসাগরের অবনমনের ফলে তাফতান আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়। তাফতান আগ্নেয়গিরিতে একটি সক্রিয় ‘হাইড্রোথার্মাল সিস্টেম’ রয়েছে, যার আওতায় ফাটলের মাধ্যমে সালফার উঠে আসে, যার গন্ধও পাওয়া যায়। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এতদিন তা দেখা যায়নি। তবে তাফতান থেকে এমন নির্গমন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে তাফতান আগ্নেয়গিরি থেকে ধোঁয়ার আকারে গ্যাস বেরিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে। প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খাশ শহরেও ওই গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে খবর। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির সেন্টিনেল-১ স্যাটেলাইট তাফতানের ছবিতে ধোঁয়া ধরা পড়লেও, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত বলে তাফতানের উপর নজরদারি চালানোর কোনও GPS প্রযুক্তি নেই। ঠিক কী কারণে এতদিন পর জেগে উঠছে তাফতান, তা এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট ভাবে জানা যাচ্ছে না। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভূমিকম্প এবং অতিবৃষ্টি এর জন্য় দায়ী হতে পারে।