নয়াদিল্লি: আর মাত্র ছ'দিন। ভরদুপুরে অন্ধকার নেমে আসবে পৃথিবীতে। আকাশ থেকে গায়েব হয়ে যাবে সূর্য। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সাক্ষী থাকবে অর্ধেক পৃথিবী। তবে ১২ অগাস্টের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ কি উল্টো, উঠছে প্রশ্ন। কারণ গ্রহণের গতিপথ দেখে তেমনই ঠাহর হচ্ছে।  কেন এমন মনে হচ্ছে, তার কারণ ব্যাখ্যা করলেন বিজ্ঞানীরা। (Total Solar Eclipse)

Continues below advertisement

১২ অগাস্ট পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ

পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়। পৃথিবীকে প্রদক্ষিণের সময় চাঁদও ওই একই পথ অনুসরণ করে, অর্থাৎ ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এগোয়। পৃথিবী নিজের অক্ষে যে গতিতে পাক খায়, তার চেয়ে দ্রুত গতিতে চাঁদের ছায়া পৃথিবীর উপর দিয়ে সরে যায়, যাকে ‘পূর্ণগ্রাসের পথ’ বা Path of Totality বলা হয়, বলা হয় Umbra-ও। ওই ‘পূর্ণগ্রাসের পথ’ও বিস্তৃত পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকেই। (Total Solar Eclipse on August 12)

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: অন্ধকারে ঢাকবে অর্ধেক পৃথিবী, ভরদুপুরে গায়েব হয়ে যাবে সূর্য, পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দু’সপ্তাহ পরই

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ নিয়ে কেন বিভ্রান্তি?

কিন্তু ১২ অগাস্ট পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের গতিপথ দেখে বিভ্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। কারণ এবার পূর্ণগ্রাসের পথ শুরু হচ্ছে সুমেরু বৃত্তের কাছাকাছি, উত্তর সাইবেরিয়া থেকে। ক্রমশ তা গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব অঞ্চলের দিকে এগোচ্ছে। ফলে চাঁদের ছায়া পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে একনজরে। কিছু দূর গিয়ে আইসল্যান্ডের পশ্চিম অঞ্চল এবং স্পেনের উত্তরে আবার বাঁক নিচ্ছে।

কিন্তু সত্যিই কি পূর্ব থেকে পশ্চিমমুখী এবারের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ? বিজ্ঞানীরা এই তত্ত্ব খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁদের মতে, সাইবেরিয়া থেকে গ্রিনল্যান্ডের দিকে পূর্ণগ্রাসের গতিপথ দেখতে পাওয়াটা আপাতদৃষ্টিতে বিভ্রম। কারণ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের গতিপথ দেখতে আমরা গ্লোবের পরিবর্তে সমান করে পেতে রাখা মানচিত্র দেখছি। চাঁদের ছায়া কোনও অবস্থাতেই গতি পরিবর্তন করে না। সুমেরু বৃত্তের এত কাছ থেকে এগোয় যে মানচিত্রে দেখলে মনে হয় উল্টো পথে এগোচ্ছে। বাস্তবে কিন্তু সেটি পৃথিবীর উপরের অংশ দিয়েই এগোয়।

আরও পড়ুন: পাঁচ তলা বাড়ির সমান রকেট আছড়ে পড়ল চাঁদের মাটিতে, নতুন গহ্বরের সৃষ্টি হল চন্দ্রপৃষ্ঠে

গ্রহণের গতিপথ

আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-র Scientific Visualisation Studio-র তরফে Live Science-কে জানানো হয় যে,  এবারের গ্রহণের গতিপথটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সেটির উত্তর এবং দক্ষিণ অভিমুখ রয়েছে। পৃথিবীর আহ্নিক গতি এবং কক্ষপথে পৃথিবী এবং চাঁদের হেলে থাকা অবস্থানের প্রভাবও রয়েছে এর উপর। পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সেই প্রভাব যুক্ত হয়েই প্রথমার্ধে চাঁদের ছায়ার পূর্বমুখী গতিপথ নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে চিরাচরিত পশ্চিম থেকে পূর্ব পথের পরিবর্তে সুমেরু অঞ্চলের উপর প্রশস্ত বাঁক নিচ্ছে ছায়াটি। মানচিত্রে ওই বাঁক দেখেই গতিপথ বদলে গিয়েছে বলে ঠাহর হচ্ছে একঝলকে। বাস্তবে কিন্তু তা ঘটছে না।

চাঁদের ছায়ার দু’টি অংশ রয়েছে- একটি সঙ্কীর্ণ Umbra-তে পূর্ণগ্রাস দেখা যায়। তুলনায় প্রশস্ত Penumbra-তে আংশিক গ্রহণ দেখতে পাই আমরা। পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব বাড়া এবং কমার উপর ছায়ার আয়তন নির্ভর করে। সেগুলির গতি নির্ধারণ করে চাঁদের কক্ষপথ, পৃথিবীর ঘূর্ণন এবং গ্রহণের জ্যামিতিক বিন্যাস। ১২ অগাস্ট যাঁরা Penumbra-তে থাকবেন, তাঁরা আংশিক গ্রহণ দেখতে পাবেন। Umbra-তে অবস্থান করলে দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।