দুবাই: সপ্তাহান্তে মায়াবী রাতে মরুদেশে ফের একবার এশিয়া কাপ (Asia Cup 2025) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারতীয় দল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে (IND vs PAK) টানটান ম্যাচে হারিয়ে নবমবার মহাদেশের সেরা হয়েছে টিম ইন্ডিয়া। তিলক বর্মা ও শিবম দুবের দুরন্ত পার্টনারশিপের পর হ্যারিস রউফের বলে চার মেরে ভারতের হয়ে জয় সুনিশ্চিত করেন রিঙ্কু সিংহ (Rinku Singh)।

রিঙ্কু গোটা টুর্নামেন্টে একটিও ম্যাচে সুযোগ পাননি। তবে হার্দিক পাণ্ড্য চোটের জেরে খেলতে না পারায় একেবারে ফাইনালে রিঙ্কুর ভাগ্য খোলে। তিনি যে বলে চার মেরে ম্যাচ জেতান, গোটা টুর্নামেন্ট সেটি তাঁর খেলা একমাত্র বল। ঘটনাক্রমে, রিঙ্কু কিন্তু এই ভবিষ্যদ্বাণী আগেই করেছিলেন। টুর্নামেন্টপূর্বে ব্রডকাস্টারদের সঙ্গে খেলা এক রাউন্ডে ভারতীয় ক্রিকেটারদের ভবিষ্যদ্বাণী করতে বলা হয়েছিল। সেখানে রিঙ্কু লিখেছিলেন, 'WIN RUN' অর্থাৎ তিনি দলের হয়ে এশিয়া কাপজয়ী রানটা করবেন, এটাই ছিল তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী। সেই কথাটা কিন্তু অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল।

 

হ্যারিস রউফের বল মিড উইকেটের উপর দিয়ে উড়িয়ে ভারতের জয় সুনিশ্চিত করার পর রিঙ্কুর উচ্ছ্বাস কিন্তু ছিল চোখে পড়ার মতো। এ বিষয়ে ম্য়াচ শেষে রিঙ্কুকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, 'আর কিছুতে যায় আসে না। আমার কাছে এই একটা বলই গুরুত্বপূর্ণ। এক রানের দরকার ছিল, আমি চার মেরে ম্যাচ জেতালাম। সবাই আমায় ফিনিশার হিসাবেই জানেন এবং সেটাই আমি করে দেখিয়েছি। দল জিতেছে, আমার কাছ থেকে এর থেকে খুশির আর কিছুই হতে পারে না।'  

তবে এবারের টুর্নামেন্ট শেষ হলেও কিন্তু বিতর্ক থামল না। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বিতর্ক। টুর্নামেন্টের শুরুটা হয়ে ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের ডাক থেকে। শেষটা হল পুরস্কার বিতরণী নিয়ে চূড়ান্ত নাটকের মাধ্যমে। ভারতীয় দল দীর্ঘ সময় পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে গেল, সেলিব্রেশনও হল। তবে গোটাটাই হল ট্রফি ছাড়া। টিম ইন্ডিয়া এদিন এশিয়া কাপের ট্রফিই নিল না।

নিয়ম অনুযায়ী যেমন কোনও আইসিসি টুর্নামেন্ট শেষে আইসিসি ট্রফি তুলে দেন ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার চেয়ারম্যান। তেমনই এশিয়ার কোনও টুর্নামেন্ট শেষে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধানেরই বিজয়ী দলকে ট্রফি তুলে দেওয়ার কথা। তবে এক্ষেত্রে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নখভিই এসিসিরও প্রধান। ভারতীয় দল গোটা টুর্নামেন্টে কোনও পাক ক্রিকেটার বা আধিকারিকের সঙ্গে হাত মেলায়নি। শেষমেশ তাঁরা পাকিস্তানের নখভির হাত থেকে ট্রফিও নিল না।