ঢাকা: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আগেই টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন। এবার চ্য়াম্পিয়ন্স ট্রফির পর ওয়ান ডে ফর্ম্য়াটকেও বিদায় জানিয়ে দিলেন তারকা বর্ষীয়াণ এই অলরাউন্ডার। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির খারাপ পারফরম্য়ান্সের পরই ওয়ান ডে ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। এবার সেই একই পথে হাঁটলেন মাহমুদুল্লাহও। ২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি ফর্ম্য়াটকে বিদায় জনিয়েছিলেন। তারও আগে ২০২১ সালে টেস্ট ফর্ম্যাট থেকে বিদায় জানিয়েছিলেন। এবার ওয়ান ডে ফর্ম্য়াটকেও আলবিদা জামালেন মাহমুদুল্লাহ।

নিজের সোশ্য়াল মিডিয়ায় অবসরের কথা ঘোষণা করে মাহমুদুল্লাহ লিখেছেন, ''আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি। আমার সহকর্মী, কোচ, আমার ভক্তদের আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যাঁরা আমাকে সমর্থন করেছে, তাঁদের বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমার মা, বাবা, শ্বশুরমশাই, আমার ভাই ও কোচ ও পরামর্শদাতা সবাইকে ধন্যবাদ। আমার শৈশব থেকে এঁনারা আমার পাশে আছেন।''

তারকা অলরাউন্ডার আরও লেখেন, ''আমার স্ত্রী ও বাচ্চাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাঁরা ভাল কিংবা মন্দ সব সময়ই আমাদের সমর্থন জুগিয়ে গিয়েছে। আমি জানি আমার ছেলে লাল-সবুজের জার্সিতে আমাকে ভীষণ মিস করবে। সবকিছু নিখুঁতভাবে শেষ হয় না। কিন্তু আপনাকে পজিটিভলি সামনে এগিয়ে যেতে হবে।''

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ওয়ান ডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কিউয়িদের বিরুদ্ধে কেরিয়ারের শেষ ওয়ান ডে ম্য়াচ খেলছেন। ২০২১ সালে শেষ টেস্ট খেলেছিলেন জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালে অক্টোবরে ভারতের বিরুদ্ধে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্য়াচ খেলেন। 

২০০৭-এ কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটেছিল মাহমুদউল্লাহর। চযাম্পিয়ন্স ট্রফিতে রাওয়ালপিণ্ডিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ম্যাচই তাঁর কেরিয়ারের শেষ ম্যাচ। ২৩৯টি ওয়ান ডে ম্য়াচে খেলেছেন। মোট ৪৩০টি ম্য়াচ খেলেছেন। 

কিছুদিন আগেই ওয়ান ডে ফর্ময়্াটকে বিদায় জানিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। ওয়ান ডে ফর্ম্যাটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রাহক হিসেবে ওয়ান ডে কেরিয়ারে ইতি টানলেন মুশফিক। ২৭৪ ম্যাচ খেলতে নেমে ৭৭৯৫ রান করেছেন ৩৬.৪২ গড়ে। ঝুলিতে আছে ৯টি সেঞ্চুরি ও ৪৯টি অর্ধশতরান। বিশ্বের পাঁচ উইকেটকিপারের মধ্যে মুশফিক একজন, যাঁর ঝুলিতে ২৫০ ম্যাচ রয়েছে। 

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মিডল অর্ডারে ভরসা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল মুশফিকের ওপর। কিন্তু তিনি সেই কাজে ব্যর্থ হন। ভারতের বিরুদ্ধে খাতাই খুলতে পারেননি। কিউয়িদের বিরুদ্ধে মাত্র ২ রান করেন। গত বছর মার্চে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে শেষবার ওয়ান ডে ফর্ম্যাটে অর্ধশতরান করেছিলেন। বয়স ও ফিটনেস বারবার ইস্যু হচ্ছিল। চোট আঘাতে মাঠের বাইরে কাটিয়েছেন অনেকটা সময়।