লাহৌর: একটা সময় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের (England vs Afghanistan) খেলা নিয়েই প্রশ্নচিহ্ন ছিল। তালিবানি শাসনে আফগানিস্তানে লিঙ্গবৈষম্যের বাড়বাড়ন্ত এবং মহিলাদের 'দুরাবস্থা'র অসংখ্য অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ইংল্যান্ড।
তবু, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে (Champions Trophy) শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলার সিদ্ধান্তই নিয়েছে ইংল্যান্ড। যা নিয়ে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জস বাটলার। খেলোয়াড়দের উপর সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে বোর্ড যে নিজেরাই একটা অবস্থান নিয়েছে, তা নিয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাটলার। বুধবারই একে অপরের মহড়া নেবে দুই দেশ।
বাটলার নিজেও আফগানিস্তানের মহিলাদের দুর্দশার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেই সঙ্গে আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, লাহৌরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের ম্যাচ কঠিন সময়ে কিছুটা ইতিবাচক বার্তা দেবে। সান্ত্বনা দেবে পীড়িতদের।
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করা, এমনকী পয়েন্ট হাতছাড়া করার প্রবল চাপের মুখেও ইংল্যান্ড গ্রুপ বি-র ম্যাচটি খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানুয়ারি মাসে গ্রেট ব্রিটেনের ১৬০ জন সাংসদের একটি দল ইসিবি-কে চিঠি দিয়েছিল এ নিয়ে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের আহ্বান জানিয়েছিলেন সাংসদরা। চিঠিতে যুক্তি ছিল যে, একটি বড় টুর্নামেন্টে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করা হলে তালিবান শাসিত আফগানিস্তানে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছবে। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বয়কটের রাস্তায় হাঁটেনি ইংল্যান্ড।
বাটলার বলছেন, 'এই মুহুর্তে আফগানিস্তানের নারী ও মেয়েদের দুর্দশা এবং তাঁরা যে লড়াইয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন তাতে আমরা খুবই মর্মাহত। তবে আমরা আশা করি যে, আমাদের ম্যাচ কঠিন সময়ে আশা ও আনন্দের উৎস হতে পারে। আমরা ম্যাচটি নিয়ে সত্যিই উচ্ছ্বসিত। খেলাধুলো মানুষকে একত্রিত করার এবং আশা দেওয়ার জন্য একটি দুর্দান্ত মাধ্যম।'
আরও পড়ুন: শুধু জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে রান করেন! বিপর্যয়ের পর বেনজির আক্রমণের মুখে বাবর আজম
বাটলার আরও বলেন, 'হ্যাঁ, আমি মনে করি আমি অনেক বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে অনেক পরামর্শ নিচ্ছি। রব কী এবং ECB-কে কৃতিত্ব দেব কারণ তারা আমাকে এবং সমস্ত খেলোয়াড়দের সমর্থন করেছে। আমাদের এই বিষয়ে রাস্তা দেখিয়েছে।'
২০২১ সালে তালিবান ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জাতীয় মহিলা দলকে মাঠে নামাতে পারেনি। কারণ, দেশের আইন মহিলাদের খেলাধুলা, শিক্ষা বা চিকিৎসা প্রশিক্ষণ গ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করেছে। তালিবানের নীতিগুলি আন্তর্জাতিক স্তরে প্রবল সমালোচিত হয়েছে।
এই আবহে অস্ট্রেলিয়া আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বয়কট করেছে। যদিও আইসিসি টুর্নামেন্টে তাদের মুখোমুখি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ডও সেই পথেই হাঁটল।
আরও পড়ুন: এত কলা বাঁদরেও খায় না! বাবর-রিজওয়ানদের বিদ্রুপে ভরিয়ে দিলেন তাঁদের দেশেরই কিংবদন্তি