লন্ডন: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই লর্ডসে তৃতীয় টেস্টে মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত ও ইংল্যান্ড (ENG vs IND 3rd Test)। এজবাস্টনের খরা কেটেছে। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার বার্মিংহামে ইংল্যান্ডের শক্ত ঘাঁটিতে বেন স্টোকসদের পরাজিত করেছে ভারতীয় দল। এবার ঐতিহ্যবাহী লর্ডসে শুভমন গিলদের লক্ষ্য সিরিজ়ে ২-১ এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু  'হোম অফ ক্রিকেটে' ভারতীয় দলের রেকর্ড কী বলছে?

লর্ডসের ভারতীয় দলের রেকর্ড এজবাস্টনের থেকে তুলনামূলক ভাল। এই মাঠে ভারতীয় দল মোট ১৯ বার টেস্ট ক্রিকেটে থ্রি লায়ান্সদের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় দল ১২ ম্যাচে পরাজিত হয়েছে। তবে ভারত চারটি ম্যাচ ড্র করতেও সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও এসেছে তিনটি স্মরণীয় জয়। ১৯৮৬ সালে ভারতীয় দল প্রথমবার লর্ডসে জয় পায়। ২০১৪ সালে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির তত্ত্বাবধানেও ভারতীয় দল এখানে জিতেই মাঠ ছাড়ে। আর সর্বশেষ সফরে আসে সেই অবিস্মরণীয় জয়।

বিরাট কোহলির নেতৃত্বে মহম্মদ শামি ও যশপ্রীত বুমরার দুরন্ত পার্টনারশিপে ভর করে ভারতীয় দল ইংল্যান্ডকে ২৭২ রানের লিড দেয়। পঞ্চম দিনে ম্যাচ ড্রয়ের সম্ভাবনাই সবথেকে বেশি ছিল। গোটা দিনও হাতে ছিল না। বোলিংয়ের আগে কোহলি বোলার এবং ফিল্ডারদের টিম হাডেলে স্পষ্ট বার্তা দেন, 'ইংল্যান্ডের জীবন নরক করে দাও'। ঠিক সেটাই হয়। স্বল্প সময়ে মহম্মদ সিরাজ ও যশপ্রীত বুমরার স্পেলে ভর করে মাত্র ১২০ রানে ইংল্যান্ডকে গুটিয়ে দেয় ভারতীয় দল। ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। সেই জয় এখনও সকলের মনে তাজা। শুভমন গিলের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলও এমনই কিছু করার আশায় মাঠে নামবে।

গত ম্যাচে বিশ্রামের পর এই ম্যাচে ভারতীয় একাদশে বুমরার ফেরার সম্ভাবনা প্রবল। তবে ইংল্যান্ডও তৈরি। এজবাস্টনের পাটা পিচে হারের পর লর্ডসে ইংল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফাস্ট বোলিং সহায়ক পিচের অনুরোধ করেছে বলে শোনা যাচ্ছে। পিচের প্রথম প্রকাশিত ছবিতেও তেমনই পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছে। এমসিসির প্রধান মাঠ প্রস্তকারক কার্ল ম্যাকডারমট জানান ইংল্যান্ড কোচ ব্র্যান্ডন ম্যাকালাম চান, 'এমন পিচ যাতে আরেকটু গতি থাকবে, বাউন্স থাকবে এবং বল একটু স্যুইংও করবে।'

অনেকটা গত মাসের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের মতোই পিচের আবদার করেছে ইংল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট। ইংরেজ টেস্ট দলে চার বছর পর ফিরেছেন জোফ্রা আর্চার। আর্চারের বাড়তি গতিকে যে কাজে লাগাতে আগ্রহী স্টোকসরা। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের পথটা যে সহজ হবে না, তা কিন্তু বলাই বাহুল্য়।