দুবাই: পাকিস্তানকে দেখলেই যেন জ্বলে ওঠে তাঁর ব্যাট। সে যতই তিনি অফর্মে থাকুন না কেন, ঠিক ত্রাতা হয়ে ওঠেন। ঠিক যেমন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে  পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্য়াচে জ্বলে উঠল তাঁর ব্যাট। বিরাটের ব্যাট থেকে এল দুরন্ত অপরাজিত ১০০ রানের ম্য়াচ জেতানো ইনিংস। যা সাজানো ছিল ৭টি অনবদ্য বাউন্ডারিতে। ১১১ বলের ইনিংসে একবারও দেখে মনে হয়নি যে বিরাট অফফর্মে ছিলেন। একেবারে রাজকীয় ইনিংস খেলেই রাজার মত ফিরলেন। আর সমীহ আদায় করে নিলেন ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফারও। 

ফুটবলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে ম্য়াচ জেতানোর পর অনেক সময় গোল করে দেখা যায় নিজের উপস্থিতিত সম্পর্কে মাঠ থেকে জানান দিতে। এটাই তাঁর সেলিব্রেশনের এক ধরণ। যা রবিবারের ম্য়াচ বিরাটের ম্য়াচ জেতানো ইনিংসের পরও দেখা গেল। ভারতীয় ডাগআউটের দিতে ইশারা করে যেন এটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন যে তিনি মাঠে আছেন যখন, তখন কোনও চিন্তার কিছু নেই। সবাই রিল্যাক্স থাকুন। আর সেই ছবিটাই পােস্ট করেছে ফিফা।

 

ম্যাচের শেষে অনবদ্য সেঞ্চুরির পর বিরাট বলছেন, ''সত্যি কথা বলতে কী, গুরুত্বপূর্ণ এরকম ম্যাচে এভাবে ব্যাট করে দলের যোগ্যতা অর্জনে অবদান রাখতে পারলে ভাল লাগে। রোহিত দ্রুত আউট হয়ে গিয়েছে, এরকম ম্যাচে রান পেলে ভাল অনুভূতি হয়। আগের ম্যাচ থেকে কী শিখেছি, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাজ ছিল স্পিনারদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ঝুঁকি না নিয়ে মাঝের ওভারগুলো নিয়ন্ত্রণ করা। শেষের দিকে শ্রেয়স আগ্রাসী ব্যাটিং করল। আমিও কয়েকটা বাউন্ডারি পেয়ে গেলাম।''

এই ম্যাচের একেবারে শুরুর দিকেই কিন্তু দারুণ ক্রিকেটীয় স্পিরিটের পরিচয় দেন কোহলি। মতান্তরে দুই প্রতিপক্ষ দেশের সবথেকে জনপ্রিয় ক্রিকেটার বাবর আজম ও বিরাট কোহলি। তাঁদের দুইজনের মধ্যে কে সেরা ব্যাটার, সেই নিয়ে তাঁদের অনুরাগীদের মধ্যে প্রায়শই সোশ্যাল মিডিয়ায় বাগযুদ্ধ চলে। তবে আজকের ম্যাচের আগে দুইজনের সৌভ্রাতৃত্বের ছবি ধরা পড়ল।

সেঞ্চুরি ইনিংসের সুবাদে কোহলি ১৪ হাজার ওয়ান ডে রানের গণ্ডি পার করে ফেললেন। সচিন তেন্ডুলকর ও কুমার সঙ্গকারার পর মাত্র তৃতীয় ব্যাটার হিসাবে এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। তবে সচিন ১৪ হাজার ওয়ান ডে রান করতে নিয়েছিলেন ৩৫০টি ইনিংস, কোহলি নিলেন ২৮৭ ইনিংসে। এই ইনিংসের সুবাদেই রিকি পন্টিংকে পিছনে ফেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে সব ফর্ম্যাট মিলিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হয়ে গেলেন তিনি। পন্টিংয়ের ২৭,৪৮৩ রানের গণ্ডি পার করে ফেললেন তিনি। এক্ষেত্রেও তাঁর সামনে কেবল সচিন ও সঙ্গকারা।