লন্ডন: সালটা ২০১৯, মে মাস। ইংল্যান্ডের মার্সিসাইডে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে কার্যত এক অসাধ্য সাধনে নেমেছিল লিভারপুল দল। প্রথম লেগে হারার পর লিভারপুলকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে পৌঁছতে বার্সাকে চার গোলের ব্যবধানে হারাতে হত। প্রতিপক্ষে লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজরা ছিলেন। অপরদিকে, লিভারপুলের তারকা ফুটবলার মহম্মদ সালাহ কনকাশনের কারণে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে মাঠেই নামতে পারেননি। তবে দলকে সমর্থন জানাতে মাঠে এসেছিলেন। তাঁর পরনে যে টি-শার্ট ছিল, তাতে লেখা ছিল, 'Never Give Up' অর্থাৎ কখনও হাল ছেড় না। তারপরের ঘটনা সকল ফুটবলপ্রেমীর জানা। বার্সাকে চার গোলে হারায় লিভারপুল।
২০২৫ সালের ৪ অগাস্ট যেন অনেকটা সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। সেই ইংল্যান্ডের মাটিতেই, দক্ষিণ লন্ডনে আজ কার্যত এক অসম্ভবকে সম্ভব করার লক্ষ্যে নেমেছিল ভারতীয় দল। এক সময় ৩৭৪ রান তাড়া করতে নেমে তিন উইকেট হারিয়ে ৩০১ রান তুলে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। সেখান থেকে কামব্যাক করলেও ওভালে পঞ্চম টেস্টের (IND vs ENG 5th Test) পঞ্চম দিনে ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল মাত্র ৩৫ রান। হাতে ছিল চারটি উইকেট। তবে ভারতীয় দল আশাহত হয়নি। এক কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে আত্মবিশ্বাস জোগাতে মহম্মদ নামের আরও এক ব্যক্তি এক কাজ করলেন। তিনি টি-শার্ট পরে মাঠে আসেননি, তবে গুগল থেকে এক ছবি ডাউনলোড করলেন তিনি। তাতে লেখা 'believe' অর্থাৎ বিশ্বাস।
এই বিশ্বাসে ভর করেই মহম্মদ সিরাজ (Mohammed Siraj) ভারতীয় দল এবং সমর্থকদের এক অবিশ্বাস্য জয় উপহার দিলেন। ম্যাচ মোট নয় উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরাও নির্বাচিত হলেন। ম্যাচের পর সিরাজকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'আমি আজ সকালে ঘুম থেকে উঠার পর নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস ছিল। আমার মনে হয়েছিল আমি পারব। আমি গুগল থেকে believe লেখা একটি ছবি ডাউনলোড করি এবং সেটাকেই নিজের ওয়ালপেপার হিসাবেও সেট করি।' নিজের দক্ষতায় তিনি বিশ্বাস করেন এবং সেই বিশ্বাসের জোরেই সিরাজই দলকে ওভাল টেস্টও জেতালেন।
লর্ডস টেস্টে টানটান লড়াইয়ের পর শেষ উইকেট হিসাবে আউট হয়ে যেখানে ক্রিজের মাঝে হতাশায় ডুবেছিলেন সিরাজ, সেখানে ওভালে ম্যাচ জিতিয়ে রোনাল্ডোর বিখ্যাত 'সিউউউউ' সেলিব্রেশনে উচ্ছ্বাসে ভাসলেন তিনি। তবে লর্ডস টেস্টের পরাজয়টা যে তাঁর হৃদয় ভেঙে দিয়েছিল সেই কথাও মেনে নিচ্ছেন সিরাজ। ভারতের তারকা বোলার বলেন, 'লর্ডসের পরাজয়টা খুবই হৃদয়বিদারক ছিল। জাড্ডু ভাই আমায় সোজা ব্য়াটে খেলতে বলছিলেন। আমার খাটা খাটনি, বাবার আত্মত্যাগের কথা মনে করাচ্ছিলেন। বলছিলেন আমি যেন নিজের ডিফেন্সে ভরসা করি।'
সেক্ষেত্রে তিনি ভারতীয় দলের হয়ে টিকে থেকে ম্যাচ জেতাতে পারেননি। তবে কথায় আছে 'সব ভাল যার শেষ ভাল'। সেইমতোই সিরাজের অনবদ্য বোলিংয়ে ভর করেই এক স্মরণীয় সিরিজ় ড্র করল ভারতীয় দল।