লর্ডস: নানারকম ফাঁদ পেতেছিলেন ইংরেজ অধিনায়ক বেন স্টোকস (Ben Stokes)। কখনও লেলিয়ে দিলেন এক্সপ্রেস গতির ফাস্টবোলার জোফ্রা আর্চারকে। কখনও পেসার ক্রিস ওকসকে দিয়ে বোলিং করালেন উইকেটকিপার জেমি স্মিথকে সামনে রেখে। নিজে বোলিং করে গেলেন শরীর লক্ষ্য করে। মিড উইকেট, ডিপ স্কোয়্যার লেগ রেখে অনসাইড ফাঁদ পাতলেন।

কিন্তু ইংরেজ শিবিরের সব কৌশল নির্বিষ করে দিয়ে লর্ডসে তৃতীয় দিন প্রথম সেশনে দাদাগিরি করলেন ভারতীয় ব্যাটাররাই। ঝকঝকে হাফসেঞ্চুরি করলেন ঋষভ পন্থ। কে এল রাহুলও সেঞ্চুরির দোরগোড়ায়। 

তবু, লাঞ্চ বিরতির ঠিক আগে বড় ধাক্কা খেল ভারত। লাঞ্চের আগে শেষ ওভার। কে এল রাহুল ৯৮ রানে অপরাজিত এবং নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে। রাহুল নিজে তো বটেই, গোটা ভারতীয় শিবির চেয়েছিল, যেন লাঞ্চের আগেই সেঞ্চুরি সম্পূর্ণ হয় রাহুলের। পন্থও চেয়েছিলেন, খুচরো রান নিয়ে সতীর্থ রাহুলকে স্ট্রাইক দিতে। ইংরেজ স্পিনার শোয়েব বশিরের বল শর্ট কভারে ঠেলে দ্রুত সিঙ্গল নিতে গেলেন। সেখানে ফিল্ডিং করছিলেন স্টোকস। তিনি দ্রুত গতিতে বল তুলে নিয়ে অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় নন স্ট্রাইকিং প্রান্তের উইকেট ভেঙে দিলেন নিখুঁত থ্রো করে।

মাঠের আম্পায়ার সাহায্য চাইলেন থার্ড আম্পায়ারের। রিপ্লেতে দেখা গেল, স্টোকসের থ্রোয়ে স্টাম্প ভাঙার সময় ঋষভ নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে পৌঁছতে পারেননি। ৭৪ রান করে রান আউট হয়ে যান পন্থ। লাঞ্চ বিরতি ঘোষণা করা হয়। প্রথম সেশনে যেখানে ইংরেজ বোলাররা কোনও উইকেট নিতে ব্যর্থ, তখন রান আউট হয়ে ইংল্যান্ডকে সামান্য হলেও যেন স্বস্তি দিলেন পন্থ।

 

লাঞ্চ বিরতিতে ভারতের স্কোর ২৪৮/৪। ইংল্যান্ডের চেয়ে এখনও ১৩৯ রানে পিছিয়ে রয়েছে তারা। কে এল রাহুল সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছেন। ৯৮ রান করে ক্রিজে রয়েছেন তিনি। একটি নজিরও গড়েছেন। ভারতীয় ওপেনারদের মধ্যে সেনা দেশগুলিতে (দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজ়িল্যান্জ ও অস্ট্রেলিয়া) রান করার নিরিখে বীরেন্দ্র সহবাগকে ছাপিয়ে গেলেন তিনি। রাহুলের সামনে শুধু সুনীল গাওস্কর।