কলকাতা: ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার (India vs South Africa) প্রথম টেস্ট ম্যাচ সময়ের আগেই মাত্র আড়াই দিনে শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে শহরেই রয়েছেন ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা। মঙ্গলবার গুরু গম্ভীরের নির্দেশে ইডেনে অনুশীলনেও নেমেছিলেন ভারতীয় তারকাদের একাংশ। তবে ভারতীয় অধিনায়ক শুভমন গিলকে (Shubman Gill) ধারেকাছেও দেখা গেল না।

Continues below advertisement

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন ব্যাট করতে নেমে স্যুইপ মারার পরেই ঘাড়ে টান অনুভব করেন গিল। তারপরেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথম ইনিংসে তিনি রিটায়ার্ড হার্ট হন, দ্বিতীয় ইনিংসেও গিলকে ব্য়াটিংয়ে নামতে দেখা যায়নি। খবর অনুযায়ী সদ্যই তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। তবে ভারতীয় অনুশীলনে তিনি এলেন না।

খবর অনুযায়ী গিল বাকি ভারতীয় দলের সঙ্গে গুয়াহাটিতে সফর করবেন না। তাঁকে দ্বিতীয় টেস্টেও খেলতে দেখা যাবে না বলে বাড়ছে জল্পনা। তিনি যদি গুয়াহাটিতে একেবারেই খেলতে না পারেন, তাহলে ইডেনে দ্বিতীয় ইনিংসের মতোই ফের একবার টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক ঋষভ পন্থকে দলের অধিনায়কত্ব করতে দেখা যাবে।

Continues below advertisement

এদিন গিল অনুপস্থিত থাকলেও ধ্রুব জুড়েল, সাই সুদর্শন, ওয়াশিংটন সুন্দর, রবীন্দ্র জাডেজা, আকাশ দীপদের অনুশীলন করতে দেখা গেল। এক পায়ে প্যাড পরে দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিং করলেন রবীন্দ্র জাডেজা, সাই সুদর্শন, দেবদত্ত পাড়িক্কলরা। গম্ভীরকে দেখা গেল সুদর্শন ও দেবদত্তের সঙ্গে লম্বা আলোচনা করছেন। দ্বিতীয় টেস্টে শুভমন খেলতে না পারলে তাঁর পরিবর্ত হতে পারেন দুজনের যে কেউ।

আর একটা ছবিও নজর কাড়ল। শুভমনের ঘাড়ে ব্যথার পর সিএবি-র কাছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চেয়েও সময়ে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল। যে কারণে মঙ্গলবার ভারতের প্র্যাক্টিসের সময় এক ঝাঁক চিকিৎসককে দেখা গেল। শহরের যে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সিএবি-র চুক্তি রয়েছে, সেখানকার বেশ কয়েকজন চিকিৎসক মাঠে ছিলেন। কেউ কেউ বলাবলি করলেন, ঐচ্ছিক প্র্যাক্টিসে ক্রিকেটারের চেয়ে চিকিৎসকের সংখ্যা বেশি! 

প্রথম টেস্টে ভারতের লজ্জার হারের পর ইডেন গার্ডেন্সের পিচ নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ইডেনের বাইশ গজ ভাল ক্রিকেটের উপযুক্ত নয়। সিএবি থেকে পাল্টা বলা হয়, ভারতীয় দল যেরকম চেয়েছে, সেরকম পিচই বানানো হয়েছিল। এ-ও বলা হয় যে, ইডেনের কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়কে নাকি কাজই করতে দেওয়া হয়নি। সুজন যে তাতে খুশি হয়েছিলেন, এমন অভিযোগ নেই। বরং বেশ মনক্ষুণ্ণই হয়েছিলেন বলে খবর।

তবে মঙ্গলবার যেন উলটপুরাণ দেখা গেল। সুজনকে দেখেই তাঁর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন গম্ভীর। সঙ্গে সহকারী কোচ সীতাংশু কোটাকও। সুজনকে জড়িয়ে ধরেন গম্ভীর। বেশ কিছুক্ষণ গল্প করেন কিউরেটরের সঙ্গে।