বার্মিংহাম: যশপ্রীত বুমরা বার্মিংহামে খেলবেন কি না, আর তিনি না খেললে তাঁর বদলে কে? এই দুই প্রশ্ন ভারত বনাম ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচের আগে বারংবার সকল টিম ইন্ডিয়া সমর্থকের মুখে শোনা যাচ্ছিল। শেষমেশ বুমরার বদলে দলে জায়গা পান আকাশ দীপ। অন্তত প্রথম ইনিংসের ভিত্তিতে বলতেই হবে তিনি কিন্তু নিজের নির্বাচনের প্রতি সুবিচার করতে পেরেছেন। 

এজবাস্টনে বল হাতে ২০ ওভার হাত ঘুরিয়ে আকাশ দীপ ৮৮ রানের বিনিময়ে চার উইকেট নেন। ইংরেজদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দলকে ১৮০ রানের বড় লিড নিতে সাহায্য করেন। তৃতীয় দিনের খেলাশেষে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে নিজের এই সাফল্যের জন্য আকাশ দীপ একজনকে কৃতিত্ব দিলেন। বাংলার ফাস্ট বোলার বলেন, 'ওঁ (গৌতম গম্ভীর) আমার সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করছিলেন। আমি দলে যোগ দেওয়ার পর একেবারে প্রথম দিন থেকে কোচ হিসাবে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন। এই আত্মবিশ্বাসটাই ম্যাচে আমার খেলার মধ্যে ফুটে ওঠে। যখন তোমার কোচ তোমার পাশে থাকেন, তখন তো আত্মবিশ্বাসটা বাড়বেই।'

এরপর বল করার সময় নিজের পরিকল্পনাও জানান ফাস্ট বোলার। পরিবেশ, পরিস্থিতি যাই হোক, সঠিক জাগায় বল রাখলে, পরিকল্পনামাফিক সবটা কম করে কাজটা সহজ হয়ে যায়। 'বোলার হিসাবে ঠিকঠাক লাইনে, পরিকল্পনামাফিক বল করাটা তো আপনার হাতে। আমরা জিনিসপত্র বেশি জটিল না করে ম্যাচে আমাদের মতো করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে সবটা সহজ হয়ে যায়। পরিবেশ, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, সেটা আর কঠিন চ্যালেঞ্জ বলে মনে হয় না।' দাবি তাঁর।

প্রসঙ্গত, এর আগে ভারতীয় দল এজবাস্টনে আট টেস্ট খেলে একটিও জিততে পারেনি। সাত ম্যাচে পরাজিত হয়েছে ভারতীয় দল, ড্র হয়েছে একটি ম্যাচ। তবে অতীত যদি ইঙ্গিতবাহী হয়, তাহলে এই মাঠে অবশেষে ভারতীয় দলের ভাগ্য খুললেও খুলতে পারে। ২০২২ সালে ভারতীয় দল এই মাঠে ৪১৬ রান তুলেছিল। সেই রানের গণ্ডি পার করে এই ম্যাচেই এজবাস্টনে নিজেদের সর্বকালের ,সর্বোচ্চ ৫৮৭ রান তুলেছে ভারত। প্রথম ইনিংসে ১৮০ রানের লিডও নিয়ে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। 

এই সবই কিন্তু ভারতীয় দলকে ম্যাচে এগিয়ে রাখছে। উপরন্তু, এজবাস্টনের ইতিহাস বলছে এই মাঠে কোনও ইনিংসে পাঁচশোর গণ্ডি পার করার পর কোনও দল পরাজিত হয়নি। সুতরাং, বর্তমান পরিস্থিতিতে শুভমন গিলের ভারতীয় দল আগে কোনও টিম ইন্ডিয়া যা করে উঠতে পারেনি, সেই কাজটাই যে করার পথে অগ্রসর, তা বলাই বাহুল্য। তবে ম্যাচের চতুর্থ দিনে খেলা কোন দিকে গড়ায়, তার ওপর কিন্তু ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভরশীল।