সন্দীপ সরকার, কলকাতা: দেখতে দেখতে এক মাস কেটে গিয়েছে। ম্যাঞ্চেস্টারে ইংল্যান্ডের (India vs England) মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়েছিল ভারত। আরও নিখুঁতভাবে বললে, রবীন্দ্র জাডেজা ও ওয়াশিংটন সুন্দর জুটি। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ইংল্যান্ডের মুঠো থেকে কার্যত হারা ম্যাচ ছিনিয়ে এনেছিলেন ভারতের দুই ক্রিকেটার। অসমসাহসী সেঞ্চুরি করেছিলেন। যে ম্য়াচে বিতর্কও কম হয়নি। ইংরেজ অধিনায়ক বেন স্টোকস চেয়েছিলেন, গোল্ডেন হ্যান্ডশেক করে ম্যাচে ইতি টানতে। কিন্তু রাজি হননি জাডেজা ও সুন্দর। দুজনই ব্যাটিং চালিয়ে যান। সেঞ্চুরিও করেন।
সেই ঘটনায় অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল ভারত ও ইংল্যান্ড - দুই শিবিরের আবহ। সেই ঘটনার একমাস পরেও যেন আকাশ দীপের স্মৃতিতে টাটকা। এখনও ইংরেজ শিবিরের সেই দ্রুত ম্যাচ শেষ করার অনুরোধের কথা মনে পড়লে যেন জ্বলে উঠছেন। শনিবার আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে সিএবি-র বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন ভারতীয় দলের পেসার। সেখানেই তিনি বললেন, 'কেউ-ই নিজের সেঞ্চুরি করার সুযোগ হারাতে চাইবে না। আমাদের দল থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল একেবারে ঠিক ছিল। সব দলই ওই পরিস্থিতিতে ব্যাটিং চালিয়ে যেত। জাডেজা ও ওয়াশি দুজনই সেঞ্চুরির মুখে দাঁড়িয়েছিল।'
ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফেরার পর প্রথমবার কলকাতায় এলেন আকাশ। শনিবার তাঁকে সিএবি বিশেষ সংবর্ধনা জানাল। আকাশ খুশির খবর দিলেন। তাঁর হাল্কা চোট ছিল। তবে রবিবার থেকেই বোলিং শুরু করবেন বলে জানালেন। বললেন, 'সাধারণ চোট ছিল। কলকাতা থেকেই বেঙ্গালুরুতে বোর্ডের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে যোগ দিচ্ছি। কাল থেকে বোলিং শুরু করব। তাছাড়া ছ'মাস টানা ক্রিকেট খেলছি। একটু বিশ্রামেরও প্রয়োজন ছিল।'
তবে ইংরেজ ক্রিকেটারদের সঙ্গে মাঠের বচসা মনে পুষে রাখতে চান না আকাশ। ইংরেজ ওপেনার বেন ডাকেটের সঙ্গে তর্কাতর্কিও ভুলে যেতে চান। বললেন, 'বেন ডাকেট আমার বন্ধু। এসব হয়েই থাকে। ম্যাচে পরিস্থিতি বুঝে কথা হয়। আগে থেকে বিষয় ভেবে রেখে কথা বলি না। আর ছ'মাসে অনেক কথা হয়েছে, সব মনে নেই।'
ইংল্যান্ডে যশপ্রীত বুমরা তিনটি টেস্টে খেলেছেন। তাঁকে তরতাজা রাখতে সব টেস্টে খেলানো হয়নি। আকাশ যা নিয়ে বলছেন, 'আমরা সবাই দলকে জেতাতে মাঠে নামি। কে আছে কে নেই সেসব নিয়ে ভাবি না। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের বিষয়টি চিকিৎসক-ফিজিওর উপর নির্ভর করে। ওরা বলে দেয় কখন বিশ্রাম প্রয়োজন। আমাদের হাতে কিছু নেই।' যোগ করলেন, 'ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ায় পেসারদের দায়িত্ব বেশি থাকে। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ হয়। এমন নয় যে হঠাৎ করে স্কিল বদলে ফেলা সম্ভব। ফলে এসব দেশে শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ।'