চেন্নাই: গতকাল কাবেরী জলবণ্টন ইস্যুতে বিক্ষোভের জেরে চেন্নাই থেকে সরানো হচ্ছে আইপিএল-এর বাকি ৬টি ম্যাচ। এমনই জানিয়েছেন আইপিএল চেয়ারম্যান রাজীব শুক্ল। তিনি বলেছেন, ‘চেন্নাই পুলিশ বাকি ম্যাচগুলির জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে পারবে না বলে জানিয়েছে। তাই সিএসকে-কে তাদের বাকি হোম ম্যাচগুলি পুণেতে সরিয়ে নিয়ে যেতে বলা হবে।’ সিএসকে-র সিইও কাশী বিশ্বনাথনও জানিয়েছেন, ‘আমরা চেন্নাইয়ের পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। শহরের অস্থির পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে তিনি আমাদের ম্যাচ সরাতে বলেছেন।’ এর আগে বিসিসিআই-এর প্রশাসক কমিটির প্রধান বিনোদ রাই বলেন, ‘তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তার অবস্থার কথা মাথায় রেখেই চেন্নাই থেকে আইপিএল-এর ম্যাচ সরানোর কথা ভাবছি আমরা। চারটি কেন্দ্রকে তৈরি রাখা হচ্ছে। সেখানে ম্যাচ খেলতে পারে চেন্নাই সুপার কিংস। আমরা ওদের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছি। ওরাই সিদ্ধান্ত নেবে।’ বিসিসআই-এর কার্যনির্বাহী সভাপতি সি কে খন্না বলেন, ‘বিসিসিআই-এর সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে সিএসকে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমরা কয়েকটি বিকল্প কেন্দ্রের কথা ভাবছি।’ সিএসকে সূত্রে জানা যায়, সিইও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করছেন। ২০ তারিখ ঘরের মাঠে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে যে ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল, সেটি জয়পুরে হতে পারে। এরই মধ্যে বিকল্প কেন্দ্র ঠিক করে নেওয়া হবে। টিকিট, মার্কেটিং, লজিস্টিকস সহ বিভিন্ন বিষয় মাথায় রাখতে হবে। এ বিষয়ে আগামীকাল সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রজনীকান্ত, কমল হাসান সহ তামিলনাড়ুর বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় সরকার কাবেরী ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট বোর্ড গঠন না করা পর্যন্ত চেন্নাইয়ে আইপিএল-এর ম্যাচ আয়োজন করা চলবে না। তামিঝাগা বাঝুবুরিমাই কাটচি নামে একটি সংগঠন আইপিএল-এর ম্যাচের সময় মাঠে সাপ ছেড়ে দেওয়ারও হুমকি দেয়। গতকাল চেন্নাই সুপার কিংস বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে চিপক স্টেডিয়ামের কাছে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান একটি তামিলপন্থী সংগঠনের কয়েকশো সদস্য। তাঁরা দর্শকদের এই ম্যাচ বয়কট করার আহ্বান জানান। দর্শকদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তিও হয়। জোর করে অনেক দর্শকের জার্সি খুলে নিয়ে জ্বালিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। কয়েকটি জায়গায় পুলিশের সঙ্গেও বিক্ষোভকারীদের বচসা হয়।
শেষপর্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ম্যাচ হলেও, বিপত্তি এড়ানো যায়নি। খেলা চলাকালীন মাঠে চপ্পল ছোড়া হয় এবং চেন্নাই সুপার কিংসের জার্সি পোড়ানো হয়। মাঠে চপ্পল ছোড়ার অভিযোগে পাঁচজন দর্শককে আটক করে পুলিশ। বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলই বিক্ষোভকে সমর্থন করেছে। যদিও রজনীকান্ত ট্যুইট করে পুলিশকর্মীদের উপর হামলার নিন্দা করেছেন।