কলকাতা: আই-লিগ ২০২৩-২৪ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (আইএসএল) খেলার যোগ্যতা অর্জন করা দ্বিতীয় দল এই মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব। কলকাতার তৃতীয় দল হিসেবে তাদের আইএসএলে অন্তর্ভুক্তি লিগের আকর্ষণকে আরও বাড়িয়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি তারা। আশা করা যায়, প্রথমবার খেলার পর তারা বুঝে নিয়েছে আইএসএলের মতো উঁচু মানের লিগে টিকে থাকতে হলে তাদের আগামী মরশুমে কী করতে হবে।
লিগ পর্বে পয়েন্ট তালিকার সর্বনিম্ন স্থানে থেকে মরশুম শেষ করে মহমেডান। নতুন বছরে তারা উন্নতির কিছু লক্ষণ দেখিয়েছিল ঠিকই, টানা চার ম্যাচ অপরাজিত থেকে একটিতে জয়লাভ করেছিল। কিন্তু টানা পাঁচটি হারের ফলে তাদের গতি ফের কমে যায় এবং এই সময়ে হেড কোচ আন্দ্রে চেরনিশভ দায়িত্ব ছেড়ে চলে যান। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু দায়িত্ব নেওয়ার পর বাকি মরশুম তাদের একেবারেই ভাল কাটেনি।
ইতিবাচক দিক
নানান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও হতাশাজনক মরশুমে কিছু ইতিবাচক দিকও ছিল মহমেডান এসসি-র। লিগে সপ্তম সর্বোচ্চ (পাঁচটি) ক্লিন শিট অর্জন করে তারা। তাদের অন্যতম স্মরণীয় জয় আসে বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে, যেখানে আন্ডারডগ হিসেবে নেমে কোনও গোল হজম না করে ম্যাচ জিতে সবাইকে চমকে দেয়। এই পারফরম্যান্স তাদের ক্ষমতাকে তুলে ধরে।
নেতিবাচক দিক
এ মরশুমে মহমেডান এসসির সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি ছিল আক্রমণ বিভাগের চরম ব্যর্থতা। তারা লিগের সর্বনিম্ন গোলসংখ্যা নিয়ে মরশুম শেষ করে। কারণ, তাদের ফরোয়ার্ডরা গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। যার ফলে তাদের গোল করা বিরল ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। আক্রমণের এই কার্যকারিতার অভাবেরই মূল্য চোকাতে হয় দলকে। কারণ, প্রতিটি ম্যাচেই যথেষ্ট লড়াই করে এবং ভক্তদের হতাশ করে। গোল করতে না পারার কারণে শুধু দলের মনোবলই ভেঙে পড়েনি বরং রক্ষণ বিভাগের ওপরও প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়, যা আগেই দুর্বল ছিল।
মহমেডান এসসি-র রক্ষণ বিভাগও কঠিন সময় পেরিয়েছে। লিগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল হজম করে তারা। যদিও কিছু ক্লিন শিট সাময়িক স্বস্তি দিয়েছিল, তবে রক্ষণভাগ প্রায়শই বেশ ভঙ্গুর ছিল। মরশুম যত এগোয়, আশার আলো ততটাই ম্লান হয়। প্রতিপক্ষ দলগুলো নিয়মিতভাবে তাদের রক্ষণের দুর্বলতা কাজে লাগায়।
ঘরের মাঠেও তাদের সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। মহমেডান এসসি মরশুম শেষ করে লিগের সবচেয়ে খারাপ হোম রেকর্ড নিয়ে, যেখানে তারা একটিও ম্যাচ জিততে পারেনি। হোম অ্যাডভান্টেজের অভাব শুধু খেলোয়াড়দের জন্য নয়, সেইসব সমর্থকদেরও হতাশ করে তোলে, যারা অনেক প্রত্যাশা নিয়ে নিয়মিত মাঠে হাজির ছিলেন। তথ্য সংগ্রহ: আইএসএল