কলকাতা: ফুটবল মানেই ভাঙা-গড়ার খেলা। সব খেলাতেই যেমন নজির গড়ে তেমনই সেগুলি গড়া হয় ভাঙার জন্যই। কিছু কিছু নজির দীর্ঘদিন টিকে থেকে, যেগুলি ভাঙতে অনেক দেরি হয়। আবার কিছু কিছু নজিরের ভাঙা গড়া চলতেই থাকে।
শুধু নজিরই নয়, বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় পরিসংখ্যান অবাক করে দেয় ক্রীড়াপ্রেমীদের। এমন কিছু পরিসংখ্যান, যা আকষর্ণীয় করে তোলে খেলাকে। সে রকমই কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে, যেগুলি জানলে আগামী শনিবারের আইএসএল ফাইনাল ফুটবলপ্রেমী ও সমর্থকদের কাছে হয়ে উঠবে আকর্ষণীয়, রোমাঞ্চকর।
- মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও বেঙ্গালুরু এফসি—আইএসএল ফাইনালে ওঠা দুই দলই চতুর্থবার এই লিগের ফাইনালে উঠেছে। আর কোনও দল এতবার করে ফাইনালে উঠতে পারেনি। মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট আবার বেঙ্গালুরুর (Mohun Bagan Super Giant vs Bengaluru FC) চেয়ে একধাপ এগিয়ে রয়েছে। তারা টানা তিনবার ফাইনালে উঠেছে, যা আইএসএলের ইতিহাসে প্রথমবার করে দেখাল কোনও দল।
- এ বারের লিগে মোট ১৮টি ম্যাচে জিতেছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, যা এই লিগে এক রেকর্ড। একই মরশুমে এতগুলি জয় আর কোনও ক্লাব অর্জন করতে পারেনি। বেঙ্গালুরু এফসি এখন পর্যন্ত ১৩টি ম্যাচে জিতেছে। এ মরশুমে ১৬টি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছে সবুজ-মেরুন বাহিনী, যা এক নজির। দশটি গোল তারা করেছে হেড করে।
- যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের বিরুদ্ধে শেষ দুই ম্যাচে কোনও গোল করতে পারেনি বেঙ্গালুরু এফসি। দুই ম্যাচেই ০-১-এ হারে তারা। আরও বিস্তারিত খোঁজখবর নিলে দেখা যাবে আইএসএলের ইতিহাসে যে ১১ বার দেখা হয়েছে দুই দলের, তার মধ্যে সাতটিতে কোনও গোল করতে পারেনি বেঙ্গালুরু। মুম্বই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধেও এমনই রেকর্ড সুনীল ছেত্রীর দলের। তবে আরও কোনও দলের বিরুদ্ধে এত ম্যাচে গোলহীন থাকেনি তারা। আইএসএলে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে শেষ দুটি হোম ম্যাচেই জয় পেয়েছে মোহনবাগান। দু’বারই ১-০-য় জেতে তারা।
- চলতি আইএসএলে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে জামশেদপুর এফসি-র বিরুদ্ধে যে জয় পায় সবুজ-মেরুন বাহিনী, সেটি এই লিগে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তাদের টানা ১৪ নম্বর অপরাজিত ম্যাচ, যার মধ্যে টানা ১৩টি জয় আছে। এও এক নজির। একই মাঠে কোনও দলের এতদিন ধরে টানা অপরাজিত থাকার নজির আইএসএলে আর নেই।
- সারা মরশুমে প্রতিপক্ষের বক্সের মধ্যে মোট ৬৩০ বার বল ছুঁয়েছেন মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের খেলোয়াড়রা, যা চলতি মরশুমে সর্বোচ্চ এবং বেঙ্গালুরু এফসি-র চেয়ে ১১৯টি বেশি। গত মরশুমে এফসি গোয়া প্রতিপক্ষের বক্সে ৬৮১ বার বলে পা লাগিয়েছিল। সেটিই এখনও লিগ রেকর্ড।
- মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের স্প্যানিশ কোচ হোসে মোলিনা আইএসএলে এর আগে এটিকে-র কোচ ছিলেন। সব মিলিয়ে ৪৩টি ম্যাচে দল নামিয়েছেন তিনি। তার মধ্যে ২৩টিতে জিতেছে তাঁর দল। তাঁর সাফল্যের শতকরা হার ৫৩ শতাংশ। এই হারের বিচারে সবচেয়ে সফল আইএসএল কোচেদের তালিকায় তিনি রয়েছেন তিন নম্বরে। আলবার্ট রোকা (৬৬.৭) ও ডেস বাকিংহামের (৫৭.৪) পরেই।
- এ মরশুমে বেঙ্গালুরু এফসি ৪৪টি গোল করেছে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে। বক্সের মধ্যে থেকে এত গোল আর কোনও দলই করতে পারেনি। গত মরশুমে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ৪৫ট গোল করেছিল প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে। চলতি মরশুমে তারা ৫১টি গোলের বড় সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে। এ বার তাদের কনভারশন রেট ৬২.৮%, যা তাদের আইএসএল ইতিহাসে সেরা। অর্থাৎ, এ মরশুমেই গোলের লক্ষ্যে রাখা শটগুলি থেকে সবচেয়ে বেশি গোল পেয়েছে তারা। ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে (৭৬-৯০) সবচেয়ে বিপজ্জনক বেঙ্গালুরু এফসি। এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৭টি গোল পেয়েছে তারা, যা এ মরশুমে সর্বোচ্চ।
- আইএসএল প্লে অফে এ পর্যন্ত ১৮টি ম্যাচে মাঠে নেমেছে মনবীর সিং। তাঁর মতো প্লে-অফ অভিজ্ঞতা আর কোনও ফুটবলারের নেই। সুনীল ছেত্রী ও শুভাশিস বোস রয়েছেন তাঁর পরেই, খেলেছেন ১৭টি করে প্লে অফ ম্যাচ। চারটি ফাইনাল খেলেছেন মনবীর। আর কোনও ফুটবলার এতগুলি ফাইনালে মাঠে নামার সুযোগ পাননি।
- আইএসএল ফাইনালে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন সুনীল ছেত্রী ও দিমিত্রিয়স পেট্রাটস। দু’জনেই দু’টি করে গোল করেছেন। শেষবার যে ফাইনালে এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল, সে বার পেট্রাটস দু’টি ও সুনীল একটি গোল করেছিলেন। শনিবারও হয়তো ফাইনালে এই দু’জন মুখোমুখি হবেন।
- জামশেদপুর এফসি-র বিরুদ্ধে দুই সেমিফাইনালেই গোল করার সঙ্গে সঙ্গে টানা চারটি প্লে অফ ম্যাচে গোল করে ফেলেছেন জেসন কামিংস। শনিবার ফাইনালেও গোল করতে পারলে টানা পাঁচটি প্লে অফ ম্যাচে গোল করবেন তিনি। তাঁর আগে অবশ্য টানা সাতটি প্লে অফ ম্যাচে গোল করার নজির আছে রয় কৃষ্ণার এবং টানা পাঁচটি প্লে-অফে গোল করেছিলেন ডেভিড উইলিয়ামস। এ মরশুমে জেমি ম্যাকলারেন গোল পেয়েছে যে ম্যাচগুলিতে এমন ন’টি ম্যাচে হারেনি (জয় ৮, ড্র ১) মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট।
(তথ্য: আইএসএল মিডিয়া)