কলকাতা: আইপিএলের (IPL) সর্বকালের সর্বসেরা ক্রিকেটারদের মধ্যে আন্দ্রে রাসেলের (Andre Russell) নাম তালিকার একেবারে উপরের সারিতে থাকবে। এক দশকের লম্বা আইপিএল কেরিয়ারে একা হাতে কেকেআরকে (KKR) অগণিত ম্যাচ জিতিয়েছেন রাসেল। ক্যারিবিয়ান তারকা কেকেআরের জার্সিতে আইপিএল তো জিতেছেনই, জিতেছেন টুর্নামেন্ট সেরা পুরস্কারও। আইপিএলে রাসেলের ১৭৫.৩৭-র স্ট্রাইক রেটই সর্বকালের সর্বোচ্চ। যে কোনও প্রতিপক্ষের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য 'দ্রে রাসের' নামই যথেষ্ট। 


ব্যর্থ ব্যাটার রাসেল


কিন্তু চলতি মরসুমে ব্যাট হাতে একেবারেই সন্তোষজনক পারফর্ম করতে পারেননি 'মাসেল রাসেল'। এ মরসুমের আট ম্যাচে ১৮ গড় নিয়ে মাত্র ১০৮ রান করেছেন রাসেল। কমেছে স্ট্রাইক রেটও (১৩৮.৪৬)। তাঁর সর্বাধিক স্কোর অপরাজিত ৩৮ রান। পরপর ব্যর্থতার পর ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞদের একাংশ প্রশ্ন তুলছে রাসেলকে আর কতদিন সুযোগ দেওয়া হবে? এবার কি সত্যিই রাসেলকে বাদ দেওয়ার সময় এসেছে? তিনি কি এখন নাইটদের বোঝা হয়ে উঠেছেন?


এই প্রশ্নের উত্তর বুধবার কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর (RCB vs KKR) ম্যাচের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে। রাসেল ব্যাট হাতে আরসিবির বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। তিনি দুই বলে মাত্র এক রান করেই সাজঘরে ফেরেন। মহম্মদ সিরাজের নিখুঁত ইয়র্কার রাসেলের স্টাম্প ভেঙে দেয়। তবে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও, রাসেল কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বল হাতে জ্বলে উঠেন। চিন্নাস্বামীর মাঠে যেখানে উমেশ যাদব, সুনীল নারাইনরা ব্যাটারদের রানের গতি রুখতে চাপে পড়ছিলেন, সেখানেই রাসেল নিজের চার ওভারে মাত্র ২৯ রান খরচ করে দুইটি উইকেট নেন। 


আরও পড়ুন: গরমের মরসুমে ত্বকের কী কী সমস্যা দূর করে অ্যালোভেরা? কীভাবে কাজে লাগাবেন?


বিরাট কোহলির (Virat Kohli) উইকেট যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আলাদা করে বোঝানোর প্রয়োজন হয় না। কেকেআরের বিরদ্ধে বড় রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোহলি কিন্তু শুরুটা দুরন্তভাবে করেছিলেন। নিজের ৪৯তম আইপিএল অর্ধশতরানও হাঁকিয়ে ফেলেছিলেন কোহলি। কিন্তু রাসেলই তাঁকে দায়িত্ব নিয়ে সাজঘরে ফেরত পাঠান। ৩৭ বলে ৫৪ রানে আউট হন কোহলি। তাঁর উইকেটই নাইটদের হাতে ম্যাচের রাশ তুলে দেয়। এরপর ইনিংসের ডেথ ওভারে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকেও আউট করেন রাসেল। তাঁর এই দুই উইকেট ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, তা বলাই বাহুল্য।


এ মরসুমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ম্যাচেও তিন উইকেট নিয়েছিলেন রাসেল। এবার এখনও পর্যন্ত তাঁকে খুব বেশি বল করতে দেখা যায়নি। রাসেল মাত্র ৯.১ ওভার বল করেই পাঁচটি উইকেট নিয়েছেন। তাই একদিকে যেখানে ব্যাটার রাসেল ব্যর্থ হচ্ছেন, সেখানে কিন্তু বল হাতে পেলেই বোলার রাসেল ম্যাচে প্রভাব ফেলছেন। সেই কারণেই রাসেলের মতো অলরাউন্ডাররা যে কোনও দলেরই সম্পদ। সেই কারণেই এক দশক পেরিয়ে গেলেও, তিনি আজও কেকেআর দলের সম্পদ। তবে ব্যাট হাতে রাসেল ঝড় দেখার প্রত্যাশায় যে সকলেই রয়েছেন,তা বলাই বাহুল্য।


ফর্মে ফেরার অপেক্ষা


সমর্থকদের আকাঙ্খা পূরণ করে কবে 'রাসেল ঝড়' উঠে, এখন সেটাই দেখার। রাসেল নিজেও ব্যাট হাতে দ্রুত ফর্মে ফিরতে মুখিয়ে রয়েছেন। তিনি আরসিবির বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষে বলেন, 'আমি বল হাতে পেলে সবসময়ই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। যেভাবে হোক দলের জয়ে অবদান রাখতে চাই। তবে ব্যাট হাতেও আমি দ্রুত ফর্মে ফিরব। আজকে সিরাজের একটা দুরন্ত ইয়র্কারে আউট হতে হয়। ক্রিকেটে এমন তো হয়েই থাকে।' এরপর ২৯ এপ্রিল, শনিবার গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে ইডেন গার্ডেন্সে আবার মাঠে নামাবে কেকেআর। সেই ম্যাচে কি অবশেষে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠবেন রাসেল? সেটাই দেখার


আরও পড়ুন: পরপর হার সত্ত্বেও দলের ওপর আস্থা অটুট ছিল, আরসিবিকে হারিয়েই দাবি নাইট অধিনায়ক রানার