বেঙ্গালুরু: নীরজ চোপড়া ক্লাসিক। নিজের নামের টুর্নামেন্ট। আর সেখানেই সোনা জিতলেন অলিম্পিক্সে সোনাজয়ী ভারতীয় জ্যাভলিন থ্রোয়ার। চ্যাম্পিয়নশিপে সেরা থ্রোটি এল নীরজের হাত থেকেই। ৮৬.১৮ মিটার দূরত্বে জ্যাভলিন ছুড়েছিলেন পানিপথের তরুণ। প্রথম থ্রোটি ফাউল হয়েছিল নীরজের। কিন্তু তৃতীয় থ্রোয়ে ফাইনালের সেরা থ্রোটি করেন নীরজ। কেনিয়ার জুলিয়াস ইয়েগো দ্বিতীয় স্থানে ও শ্রীলঙ্কার রুমেশ পাথিরাগে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছিলেন। শনিবার বেঙ্গালুরুর কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে বাজিমাত করলেন নীরজ চোপড়া।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা কানাডার জ্যাভলিন থ্রোয়ার ৮৪.৫১ মিটার দূরত্বে জ্যাভলিন ছুড়েছিলেন। তৃতীয় স্থানে শেষ করা শ্রীলঙ্কার রুমেশ পাথিরাগে ৮৪.৩৪ মিটার দূরত্বে জ্যাভলিন ছুড়েছিলেন। চার ভারতীয় এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে চূড়ান্ত রাউন্ডে খেলেন ২ ভারতীয়। এদিন প্রথম থ্রোয়ে নীরজ ফাউল করেন। দ্বিতীয় থ্রোয়ে ৮২.৯৯ মিটার দূরত্বে জ্যাভলিন ছোড়েন পানিপথের তরুণ। এরপর তৃতীয় রাউন্ডেই প্রতিযোগিতার সেরা থ্রোটি করেন। চতুর্থ রাউন্ডে আরও একবার ফাউল করেছিলেন নীরজ। পঞ্চম রাউন্ডে ৮৪.০৭ মিটার অতিক্রম করেন তিনি। আর ষষ্ঠ তথা শেষ রাউন্ডে ৮২.২২ মিটার দূরে জ্যাভলিন ছোড়েন নীরজ। সোনা জয়ের পর নীরজ বলেন, ''বেঙ্গালুরুতে এই প্রতিযোগিতায় খেলে খুব ভাল অভিজ্ঞতা হল। আরও দূরে ছুড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু উল্টো দিক থেকে হাওয়া বইছিল আজ। তবে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, যে সমর্থন আমরা পেয়েছি তো ভোলার মতো নয়।''

এদিকে, এই নীরজ চোপড়া ক্লাসিকে আর্শাদ নাদিমের আমন্ত্রণ পাওয়া ও অংশ নেওয়া নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল। ভারত-পাকিস্তান টালমাটাল পরিস্থিতিতে প্যারিস অলিম্পিক্সে সোনাজয়ী আর্শাদকে বন্ধু হিসেবে মানেননি নীরজ। এরপরই দুজনের সম্পর্কও ধীরে ধীরে তলানিতে পৌঁছতে থাকে। নীরজ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, 'প্রথমেই আমি এটা স্পষ্ট করে দিতে চাই যে, আমার নদিমের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নেই । আমরা কখনওই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলাম না । ভারত-পাক সীমান্তে উত্তেজনা পরিস্থিতিতে এখন আমাদের মধ্যে আলাপচারিতা আগের মতো হবে না। কিন্তু যদি কেউ আমার সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে কথা বলে তাহলে আমিও সম্মানের সঙ্গে কথা বলি।''

এরপরই এশিয়ান অ্য়াথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য খেলতে যাওয়ার আগে নাদিমকে এই ইস্যুতে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "আমি নীরজের কোনও মন্তব্যের উত্তর দিতে চাই না এই পরিস্থিতিতে। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধকালিন পরিস্থিতি চলছে। আমি এটুকু জানি যে আমি একটি গ্রাম থেকে এসেছি। আমি ও আমার পরিবার সবসময় আমাদের আর্মিদের সমর্থনে গলা ফাটাব। ওঁদের পাশে থাকব।''