লন্ডন: ৪৯ তম ওভারের চতুর্থ বল। ডিপ মিড উইকেটে বল পাঠিয়ে ২ রানের জন্য ছুটছেন বেন স্টোকস এবং আদিল রাশিদ। বল তুলে নিয়ে ব্যাটসম্যান এন্ডের দিকে থ্রো মার্টিন গাপ্টিলের। অন্যদিকে দ্বিতীয় রান সম্পন্ন করতে মরিয়া ডাইভ বেন স্টোকসের, বল উইকেট পৌঁছনর আগেই স্টোকসের ব্যাটে লেগে বাউন্ডারিতে চলে যায় বল। আম্পায়রের ঘোষণায় ছয় রান যুক্ত হয় ইংল্যান্ডের স্কোরবোর্ডে। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই তোলপাড় গোটা ক্রিকেট বিশ্বে। কত রান দেওয়া উচিত ছিল ইংল্যান্ডকে? পাঁচ না ছয়? সাইমন টাফেল, কে হরিহরণের মতো প্রাক্তনীরা বলছেন ইংল্যান্ডের পাঁচ রানই পাওয়ার কথা। ভুল করেই ছয় রান দেওয়া হয়েছে। যদিও পাঁচ বারের আইসিসি স্বীকৃত সেরা আম্পায়ারের মত একেবারেই মানছে না আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থার সাফ কথা, অনফিল্ড আম্পায়ররা খেলা চলাকালীন তাঁদের মত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই বিষয়ে আইসিসি কিছু বলবে না।

এমসিসি ম্যানুয়্যালের ১৯.৮ ধারা অনুযায়ী, এই রকম ক্ষেত্রে ফিল্ডার বল রিলিজ করার সময় দেখা হয়, ব্যাটসম্যানরা কোনও রানের জন্য একে অপরকে ক্রস করেছেন কিনা। ক্রস করে থাকলে, তবেই ওভার থ্রো-র সঙ্গে সেই রানটি স্কোরবোর্ডে যুক্ত হবে।  সেদিক থেকে দেখলে, গাপ্টিলের থ্রো-র অনেক পরেই দ্বিতীয় রান নেওয়ার সময় একে অপরকে ক্রস করেন আদিল রাশিদ ও বেন স্টোকস। সেই মতো ইংল্যান্ডকে পাঁচ রান (দৌড়ে নেওয়া এক রান সহ পেনাল্টির চার রান) দেওয়াই উচিত এবং স্ট্রাইকেও থাকার কথা আদিল রাশিদের। আর সেটা হলে ২ বলে চার রান করতে হত ইংল্যান্ডকে এবং নিউজিল্যান্ডেরও ম্যাচ জয়ের সুযোগ অনেক বেশি থাকত।

সাইমন টাফেল যেমন বলছেন, “এটা নিশ্চিতভাবে ভুল। ইংল্যান্ডকে পাঁচ রানই দেওয়া উচিত ছিল, ছয় নয়।”  আরও একধাপ এগিয়ে অনফিল্ড আম্পায়র শ্রীলঙ্কার কুমার ধর্মসেনাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে কে হরিহরণ বলছেন, “নিউজিল্যান্ডের জন্য ফাইনাল ম্যাচটাকে খুন করেছে কুমার ধর্মসেনা। পাঁচ রান দেওয়া উচিত ছিল, ছয় নয়।” প্রাক্তনীদের বক্তব্য, কুমার ধর্মসেনা ও মারিয়াস এরাসমাসের উচিত ছিল বারবার করে দেখার, ফিল্ডার বল রিলিজের আগে ব্যাটসম্যানরা আদৌ একে অপরকে ক্রস করেছে কিনা। প্রয়োজনে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে টিভি ফুটেজ দেখে আম্পায়াদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার ছিল। সাইমন টাফলের মতে ওই ভুল সিদ্ধান্ত প্রত্যক্ষভাবে খেলায় প্রভাব ফেলেছে। যদিও এই ইস্যুতে ‘ধৃতরাষ্ট্রের’ ভূমিকা নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল।