ফ্লোরিডা: WWE দেখেছেন আর হাল্ক হোগেনকে (Hulk Hogan) চেনেন না, এমন ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। প্রো রেসলিংকে জনপ্রিয়তার একেবারে শিখরে পৌঁছে দেওয়ার পিছনে হাল্ক ভূমিকা অপরিশীম। তিনি প্রো রেসলিংয়ের একেবারে প্রথমদিকের সম্ভবত সবথেকে বড় তারকা। সেই কারণে সম্ভবত তাঁর আসল নাম টেরি জেন বোলে নয়, তাঁকে সকলে হাল্ক হোগান বলেই চিনতেন, জানতেন। সেই হোগানই বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই না ফেরার দেশে চলে গেলেন। 

রিপোর্ট অনুযায়ী হোগানের বাড়িতে চিকিৎসকদের পাঠানো হলে তাঁরা জানান হৃদরোগে আক্রান্ত তিনি মারা গিয়েছেন। ব্যবসায় তাঁর পার্টনার এরিক বিশফ হোগানের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন। এই বিশফও কিন্তু WWE-র দর্শকদের জন্য পরিচিতমুখ। তিনি একদা এই রেসলিং সংস্থার একাধিক শোয়ের অংশও ছিলেন। তাঁর সঙ্গে মিলেই হোগান সম্প্রতি রিয়াল আমেরিকা ফ্রি স্টাইল অ্যামেচার রেসলিং লিগ লঞ্চ করেছিলেন। সেখানে আবার ভারতীয় কুস্তিগীর বজরং পুনিয়াও যোগ দিয়েছিলেন। তবে সেই কোম্পানিকে উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। 

৭১ বছর বয়সেই সকলকে ছেড়ে চলে গেলেন হাল্ক হোগান। WWE-র তরফে হোগানের মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপনও করা হয়েছে। প্রো রেসলিং সংস্থার তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা হয়, 'হল অফ ফেমার হাল্ক হোগানের মৃত্যুর খবর পেয়ে WWE গভীরভাবে শোকাহত। পপ কালচারের সবথেকে পরিচিত মুখগুলির একজন হোগান ১৯৮০-র দশকে WWE-কে বিশ্বস্তরে জনপ্রিয় করে তুলতে বিরাট ভূমিকা নিয়েছিলেন। WWE-র তরফে হোগানের পরিবার, পরিজন ও অনুরাগীদের প্রতি সমবেদনা রইল।'

ছয় ফুট সাত ইঞ্চির হোগান ছয় বার WWE চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। তাঁর কেরিয়ারে বিতর্কেরও অন্ত ছিল না। একাধিকবার প্রেম, বিয়ের পাশাপাশি বৈষম্যমূলক মন্তব্যের জন্য তাঁকে WWE থেকে বাতিলও করা হয়। তবে এই শতকের শুরু দিকে তিনি পুনরায় WWE-তে ফেরেন। নিজের দিনে মাসল ফোলানো, লম্বা গোঁফের হোগানের জনপ্রিয়তা ছিল আকাশছোয়া। 

 

 

প্রো রেসলিংয়ের পাশাপাশি হোগান কিন্তু হলিউডেও কাজ করেছেন। রকি থ্রি সিনেমার মাধ্যমে তিনি রুপোলি পর্দায় অভিষেক ঘটান। 'নো হোল্ডস বারড', 'মিস্টার ন্যানি'-র মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। তবে আর নয়, এখানেই ইতি।