Flex Fuel Cars : বাইক বাজারে বিপ্লবের পর এবার কার মার্কেটে বড় পরিবর্তন করল মারুতি (Maruti Suzuki Flex Fuel Cars)। দেশের বাজারে প্রথম ফ্লেক্স-ফুয়েল (Flex-Fuel) গাড়ি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল বহুল জনপ্রিয় ওয়াগন আর (Wagon R Flex-Fuel)। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি ও পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এই গাড়ির আবরণ উন্মোচন করলেন। বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই নতুন প্রযুক্তির ফলে সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ কমবে। পাশাপাশি এই নতুন প্রযুক্তি পরিবেশবান্ধব হবে, যাতে দূষণের হার কমবে।
ই৮৫ (E85) জ্বালানি কী, এটি কেন সস্তা ?ই৮৫ হল এমন এক ধরনের জ্বালানি যেখানে ৮৫% ইথানল এবং মাত্র ১৫% পেট্রোল মেশানো থাকে। বর্তমানে ব্যবহৃত ই২০ (২০% ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল) জ্বালানির তুলনায় এই ই৮৫ ফুয়েলের দাম অনেকটাই কম হবে। ফলে গাড়ি চালানোর দৈনিক খরচ বা রানিং কস্ট অনেকটাই কমে আসবে। তবে ইথানলের মাত্রা বেশি থাকায় গাড়ির মাইলেজে কিছুটা হেরফের হতে পারে, যদিও মারুতি সুজুকি এখনও এর সঠিক মাইলেজ প্রকাশ করেনি।
ওয়াগন আর ফ্লেক্স-ফুয়েলে কী কী পরিবর্তন ?বাইরে থেকে দেখতে এই গাড়িটি সাধারণ ওয়াগন আর-এর মতোই, শুধু পেছনে একটি ছোট ফ্লেক্স-ফুয়েল ব্যাজ থাকবে। তবে আসল পরিবর্তন করা হয়েছে গাড়ির ইঞ্জিনের ভেতরে।
ইঞ্জিন ক্ষমতা: এতে রয়েছে ১.২ লিটারের চেনা পেট্রোল ইঞ্জিন এবং এটি শুধুমাত্র ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের সঙ্গেই পাওয়া যাবে।
ভেতরের পরিবর্তন: বেশি মাত্রায় ইথানল ব্যবহারের ফলে ইঞ্জিনে যাতে মরচে বা ক্ষয় না ধরে, তার জন্য এর ফুয়েল ট্যাঙ্ক, ফুয়েল পাম্প এবং ইসিইউ (ECU - Engine Control Unit)-তে বিশেষ পরিবর্তন করা হয়েছে।
জ্বালানি স্টেশন নিয়ে পরিকল্পনা: ই৮৫ ফুয়েলের জন্য আলাদা ডিস্পেন্সার বা পাম্পের প্রয়োজন হবে। প্রাথমিকভাবে দেশজুড়ে ৫০ থেকে ১০০টি স্টেশন দিয়ে শুরু করা হলেও, আগামী বছরের শেষের মধ্যে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৫,০০০ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
কারা কিনতে পারবেন ?আপাতত গাড়িটির দাম ঘোষণা করা হয়নি। শুরুর দিকে এই ফ্লেক্স-ফুয়েল ওয়াগন আর-টি কমার্শিয়াল বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের (যেমন অ্যাপ-ক্যাব) জন্য বাজারে আনা হতে পারে। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ই৮৫ জ্বালানি সহজে উপলব্ধ হলে সাধারণ ক্রেতারাও এটি কিনতে পারবেন।
দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের বড় লাভকেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মতে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল দুটি:১ জ্বালানির আমদানি কমানো: অপরিশোধিত তেলের জন্য বিদেশের ওপর ভারতের নির্ভরতা কমিয়ে দেশকে জ্বালানি ক্ষেত্রে স্বনির্ভর করা।২ পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ: ইথানল ব্যবহারে কার্বন নির্গমন অনেক কমে, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এমনকি আগামীদিনে ডিজেলের সাথেও 'আইসোবিউটানল' মেশানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সব মিলিয়ে, কম খরচে পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের লক্ষ্যে মারুতির এই নতুন ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি ভারতীয় অটোমোবাইল বাজারে এক নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে।
আরও পড়ুন : বাইক বাজারে বিপ্লব, দেশে প্রথম ফ্লেক্স-ফুয়েল স্প্লেন্ডার ও এইচএফ ডিল্যাক্স আনল হিরো
Car loan Information:
Calculate Car Loan EMI