UPI Fee Row: ‘UPI লেনদেন থেকে ফি প্রত্যাহার করুন, নইলে নগদে ফিরতে হবে’, এবার কেন্দ্রকে চিঠি দিল ব্যবসায়ীদের সংগঠন
UPI MDR Charges: ২০০০ টাকার বেশি UPI লেনদেনে MDR বা ব্যবসায়িক লেনদেন ফি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ওই নীতি কার্যকর হতে চলেছে।

নয়াদিল্লি: UPI লেনদেনে ফি বসানোয় এবার কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়াতে শুরু করল Chamber of Trade and Industry (CTI). ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের উপর যাতে ফি বসানো না হয়, সেই মর্মে কেন্দ্রকে আর্জি জানাল তারা। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছেন CTI-এর চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গয়াল। ২০০০ টাকার উপর UPI লেনদেনের উপর থেকে MDR প্রত্যাহারের আর্জি জানানো হয়েছে। (UPI MDR Crages)
২০০০ টাকার বেশি UPI লেনদেনে MDR বা ব্যবসায়িক লেনদেন ফি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ওই নীতি কার্যকর হতে চলেছে। কেন্দ্রের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল। সেই নিয়ে এবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামবকে চিঠি দিলেন CTI-এর চেয়ারম্যান ব্রিজেশ। বড় অঙ্কের লেনদেনের উপর থেকে ফি প্রত্যাহারের আবেদন জানালেন। (UPI Fee Row)
কেন্দ্রের নয়া নীতি অনুযায়ী, ২০০০ টাকার বেশি অঙ্কের ব্যবসায়িক লেনদেনের উপর ০.৪ শতাংশ ফি আদায় করা হবে। সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত ফি আদায়ের কথা বলা হয়েছে। সেই নিয়ে ব্রিজেশ জানিয়েছেন, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট দেশের ৬ কোটি দোকানদার, ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তা। তাঁদের উপর বাড়তি অর্থনৈতিক বোঝা চাপতে চলেছে এতে।
শুধু তাই নয়, UPI লেনদেনে ফি বসানোর ফলে আবারও নগদ ব্যবস্থা ফিরবে বলে জানিয়েছেন ব্রিজেশ। তাঁর যুক্তি, ফি বসানোর ফলে UPI পেমেন্ট নেওয়ার খরচ বাড়বে। সেক্ষেত্রে ডিজিটাল পেমেন্টের রাস্তা থেকে সরে আসতে পারেন তাঁরা। পরিবর্তে নগদে লেনদেনের উপর জোর দিতে পারেন সকলে।
UPI লেনদেনে ফি বসানো নিয়ে কেন্দ্রের যুক্তি ছিল, সাধারণ মানুষ বা ছোট ব্যবসায়ীদের উপর এর কোনও প্রভাব পড়বে না। বড় ব্যবসায়ীদেরই ফি দিতে হবে। কিন্তু CTI আশঙ্কা করছে, এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। কারণ সাধার লেনদেনের তুলনায় ব্য়বসায়িক লেনদেনে টাকার মূল্য অনেক বেশি হয়। ফি বসানো হলে ২০০০ টাকা বা তার বেশি অঙ্কের UPI লেনদেন কমে যেতে পারে ৫০ শতাংশ। বড় অঙ্কের কেনাকাটার ক্ষেত্রে ক্রেতা থেকে বিক্রেতা, সকলেই ফের নগদ লেনদেনে ফিরে যেতে পারেন।
এ নিয়ে পরিসংখ্যানও পেশ করেছে CTI. তারা জাবিয়েছে, এক্ষেত্রে লেনদেনের সংখ্যা নয়, বরং আর্থিক মূল্যই বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত। ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে UPI-এর মাধ্যমে যে ৩১৪ লক্ষ কোটি টাকার লেনদেন হয়, তার মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৯৮ লক্ষ কোটি টাকা। মোট UPI লেনদেনের ৪ শতাংশ ২০০০ টাকার উপর হলেও, অর্থমূল্যের নিরিখে তা প্রায় ১৩১ লক্ষ কোটি টাকা।
২০১৬ সালে নোটবন্দির পর ডিজিটাল লেনদেনের উপর জোর দিয়েছিল কেন্দ্র। সরকারি পরিসংখ্যানই বলছে, গত এক দশকে UPI লেনদেনের হার বেড়েছে উল্লেখযোগ্য ভাবে। ২০১৬-’১৭ সালে যেখানে ১.৭৮ কোটি UPI লেনদেন হয়, ২০২৫-’২৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় প্রায় ২৪ হাজার ১৬২ কোটি।
ব্যবসায়িক UPI লেনদেনে যে ০.৪ শতাংশ ফি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র, তাতে ২০০০ টাকার UPI পেমেন্ট গ্রহণ করলে, তার উপর ১২ টাকা মাশুল দিতে হবে ব্যবসায়ীদের। ১০০০০ টাকার লেনদেনে ৪০ টাকা, ৫০ হাজার টাকার লেনদেনে ২০০ টাকা। ৭৫ হাজার টাকা বা তার বেশি লেনদেনে ওই মাশুলের সর্বোচ্চ সীমা ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, MDR-এর উপর বসছে GST-ও। সেক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকার লেনদেনে ফি দিতে হবে ৪০ টাকা। ওই ৪০ টাকার উপর আবার ১৮ শতাংশ GST কার্যকর হবে, অর্থাৎ ৭.২০ টাকা। অর্থাৎ মোট ৪৭.২০ টাকা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে।
এমন পরিস্থিতিতে, মোটা অঙ্কের ব্যবসায়িক UPI লেনেদেনকে ফি-মুক্ত রাখতে আবেদন জানিয়েছে CTI.
সেরা শিরোনাম






















