কলকাতা : 'যুবরাজ' অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল জমানায় একটা আলাদাই ইমেজ তৈরি হয়েছিল। বরাবরই তাঁর লাইফ স্টাইল চোখে পড়ার মত। কিন্তু সরকার পরিবর্তন ও দলের ভরাডুবির পর সেই 'সলতের আগুন' আজ নিভে গিয়েছে। তৃণমূলে ধরেছে ফাটল। দলের একাংশের ক্ষোভ অভিষেকের উপরে। আর এর মাঝে ফের নতুন বিতর্ক চার্টার্ড বিমানে দিল্লি যাত্রা ঘিরে। তাঁর এই ' VIP সফর' নিয়ে খোঁচা দেন বিজেপির বিধায়ক সজল ঘোষ। 

Continues below advertisement

ভোটের পর নিচুতলার কর্মীরা যখন কার্যত অভিভাবকহীন ও কোণঠাসা। ঠিক তখন 'কালীঘাট-তৃণমূলে'র সেকেন্ড ইন কমান্ডের এমন বিলাসিতাকে খোঁচা দিতে ছাড়েনি কেউই। খোদ তৃণমূলের পাশাপাশি বিজেপিও কটাক্ষ করেছে এই যাত্রা নিয়ে। বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, ''আপনারা জলসাঘর দেখেছেন, ছবি বিশ্বাস। শেষদিনও কিন্তু আগ্রা থেকে বাইজি এনে নাচ করবে এটাই ছিল তাঁর জীবনের শেষ ইচ্ছে। সেই চার্টার্ড ফ্লাইট আর যে ক'দিন আছে চড়ুক। আর যা টাকা আছে সেটা যদি ফ্রিজ হয়ে যায়, তাহলে আগামীদিনে সাইকেলও জুটবে না।'' আরও পড়ুন - পার্টির দুর্দিনেও চার্টার্ড বিমান, দিল্লি যেতে-আসতে কত খরচ হয় অভিষেকের ?

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত বেশ কয়েক বছর ধরে একটি বেসরকারি সংস্থার প্রাইভেট জেট এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মেঘালয় নির্বাচনে ওই সংস্থার বিমান চড়ার জন্য খরচ হয়েছিল প্রায় ৪ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের ভোটপ্রচারপর্বে তৃণমূল কংগ্রেস বিমান এবং হেলিকপ্টার বাবদ খরচ করেছিল ৪৬ কোটি টাকারও বেশি। একই ভাবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও প্রচারের সময় ওই সংস্থারই হেলিকপ্টার এবং বিমান ব্যবহার করেছিলেন 'যুবরাজ'। এমনিতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে অসন্তোষের আগুন ছড়িয়েছে কালীঘাট-তৃণমূলের অন্দরে। তার ওপর ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের এই চার্টার্ড সফর ঘিরে এই বিতর্ক কি সেই আগুনে ঘি ঢালল? জবাব দেবে সময়। আরও পড়ুন - ২১ জুলাই নিয়ে বিপাকে মমতা-অভিষেক, কী কাণ্ড ঘটিয়েছেন ? নোটিস জারির নির্দেশ হাইকোর্টের তবে এই বিতর্ক নিয়ে তৃণমূলের সাংসদ ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, '' যাঁরা বলছেন আমি কীসে আসছি, কীসে যাচ্ছি, কোথা থেকে নামছি, তাঁরা যদি লিখিত দিয়ে দেয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইকনমি ক্লাসে যাবে। আমার পাশের সিটে যদি কেউ বসে যেটা আমার সঙ্গে অনেকবার হয়েছে, আমার লিগাল ওপিনিয়ন নিয়ে এটা করা। কুণাল ঘোষ আমার সহকর্মী, সে যদি আমার বিরুদ্ধে বলে আমি তাঁর বিরুদ্ধে বলব না।''

Continues below advertisement