Cyclone Arnab : 'সব শেষ হয়ে গেল...গায়ের এই কাপড়টুকু ছাড়া কিচ্ছু নেই' অর্ণবের ধাক্কায় তছনছ জীবন
বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে চলবে ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া। এই ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে ব্যাপক।

আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড়় 'অর্ণব'। অন্ধ্র উপকূলে ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'-এর ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে রাত ১.২৩ নাগাদ। পুদুচেরির ইয়ানাম উপকূলে আছড়ে পড়ে শক্তিশালী 'অর্ণব'। সেই সময় ঝড়ের গতি ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার । ঝড়ের সবথেকে বড় দাপট ছিল অন্ধ্রের বাপাটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যে । তবে এখনও বিপদ কাটেনি। বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে চলবে ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া। এই ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে ব্যাপক।
উপড়ে যায় বহু গাছপালা। বিস্তীর্ণ এলাকার বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে অন্ধ্রের উপকূল সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় জল জমেছে। এই ঝড়ের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবার । কার্যত সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে ঠাঁই হয়েছে বেশ কয়েকটি পরিবারের।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণব স্থলভাগে আঘাত হেনে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটানোর পর অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাদার এক ব্যক্তি বলেন, "ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কায় আমরা সবকিছু হারিয়ে ফেললাম ।" সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই ব্যক্তি বলেন, " আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে তছনছ হয়ে গিয়এছে । গায়ের এই কাপড়টুকু ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। সরকারের কাছে আমরা অনুরোধ করছি, আমাদের উদ্ধার করুন, এগিয়ে আসুন এবং জীবনটা চালিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দয়া করে কিছু সাহায্য করুন। "
অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'-এর জেরে ওড়িশার বিভিন্ন অংশেও শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। বইছে ঝোড়ো হাওয়া। ওড়িশার গজপতি, গঞ্জাম, রায়গাড়া, কোরাপুট, নওরংপুর, মালকানগিরি জেলায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া পুরী, খুর্দা, সম্বলপুর, দেওগড়, কালাহান্ডি, কান্ধামাল, নুয়াপাড়াতেও ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি চলছে অবিরাম। উপড়ে গিয়েছে বহু গাছ। ত্রস্ত মাটির বাড়িতে থাকা মানুষ। প্রতি বছর এই একেকটি ঝড় এদের সবটুকু কেড়ে নেয়। 'অর্ণব'ও যেন এমন সর্বগ্রাসী না হয় , এই আশা নিয়েই রয়েছে ওড়িশার মানুষ।
ঝড়ের দাপটে উত্তাল হয়েছে সমুদ্র। বিশালাকায় ঢেউয়ের দাপটে বিচ এলাকায় একাধিক জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' ঘণ্টায় ৩ কিলোমিটার গতিতে এগোচ্ছে উত্তর-পশ্চিম দিকে। অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল এলাকার একাধিক জায়গায় উপড়ে পড়েছে গাছ, ছিঁড়ে গেছে বিদ্যুতের তার। বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত। আইএমডি-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রস্থলের তীব্রতা ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। গত তিন ঘণ্টায় ঘণ্টায় ৩ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার পর, ঝড়টি প্রথমে ধীরে ধীরে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোবে এবং পরে উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। "আগামী ৩ ঘণ্টা ধরে স্থলভাগে আঘাত হানার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে," বলছে আইএমডি।
Before You Go
Haldiram Raid: রেস্টুরেন্টের ভিতরে খাবার তৈরির জায়গা অপরিচ্ছন্ন, অভিযান খাদ্য সুরক্ষা দফতরের























