দার্জিলিংয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে ভয়াবহ ঘটনা, বার-বি-কিউ এর আগুনে জ্বললেন নববধূ, গা শিউরে ওঠা ভিডি
কালিম্পং জেলার সিটংয়ের একটি রিসর্টে বারবিকিউ চলাকালীন আচমকাই আগুনের গোলা ছিটকে আসে মহিলার দিকে। গায়ে আগুন ধরে যায় মহিলার ।

কালিম্পং: পাহাড়ে ছুটি কাটাতে গিয়ে ভয়ানক বিপত্তি। ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়ল এক দম্পতি। মধুচন্দ্রিমায় নববধূর সঙ্গে ঘটল গা-শিউরে ওঠা ঘটনা। । পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পং জেলার সিটংয়ের একটি রিসর্টে বারবিকিউ চলাকালীন আচমকাই আগুনের গোলা ছিটকে আসে মহিলার দিকে। আর তারপরই ঘটে সেই ভয়াবহ ঘটনা। গোটা ঘটনার দৃশ্য ধরা পড়েছে রিসর্টের সিসিটিভি ক্যামেরায়।
ইন্ডিয়া টু ডে সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গের চোপড়ার বাসিন্দা সমীর দাস তাঁর স্ত্রী নিকিতা দাসকে নিয়ে সিটংয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন। মাত্র দু’মাস আগেই বিয়ে হয়েছে। পাহাড়ি পরিবেশে কয়েকটি দিন নিজেদের মতো করে কাটাতা চেয়েছিলেন। বেছে নিয়েছিলেন জনপ্রিয় এক রিসর্টকে। ইন্ডিয়া টু ডে -র একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে খবরটি।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বারবিকিউয়ের পাশে বসেছিলেন সমীর ও নিকিতা। তাঁদের উল্টোদিকে বসে থাকা এক ব্যক্তি কিছুক্ষণ পর উঠে দাঁড়ান। এরপর তিনি একটি ক্যান থেকে একটি তরল পদার্থ বারবিকিউয়ের আগুনে ঢেলে দেন। এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আগুন আচমকা আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। একটি বড়সড় আগুনের গোলা নিকিতার দিকে ছিটকে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনে ঘিরে ফেলে নিকিতাকে। ভয়ঙ্কর বিপদ ঘটে যাওয়ার আগেই উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেন রিসর্ট কর্মীরা। রিসর্ট কর্মীরা ও মহিলার স্বামী সমীর ছুটে আসেন। নিকিতাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। রিসর্টের কর্মীরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। কোনওক্রমে নিকিতাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন কেমন আছেন নিকিতা, তা এখনও জানা যায়নি।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠছে, বারবিকিউয়ের আগুনে কী তরল ঢালা হল, কেনই বা ঢালা হল। এমন দাহ্য তরল কেন হাতের কাছে রাখা ছিল। কেনই বা ওই ব্যক্তি আগুনে ওই তরল ঢেলে দিলেন, উঠছে প্রশ্ন। তদন্ত করবে পুলিশ।
এই ঘটনার পর হঠাৎ গজিয়ে ওঠা হোমস্টেগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় মানুষজন। আতঙ্কিত পর্যটকরাও জানতে চাইছেন, রিসর্টে বারবিকিউয়ের ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে কি প্রশিক্ষিত কর্মী ছিলেন না? কেনই বা জ্বলন্ত কাঠের উপর হঠাৎ করে দাহ্য তরল ঢেলে দেওয়া হল, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
তবে ঘটনার পর আহত মহিলার স্বামী যে অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, তা আরও ভয়াবহ। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে পড়ার পর হোমস্টে বা রিসর্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনওরকম সাহায্য পাননি তাঁরা।
অভিযোগ, দগ্ধ অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ রিসর্টেই অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। তাঁরা মোটরবাইকে করে সেখানে গিয়েছিলেন। সঙ্গে কোনও চার চাকার গাড়ি ছিল না। কিন্তু রিসর্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেও দ্রুত গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর বহু কষ্টে একটি গাড়ি জোগাড় করে শিলিগুড়িতে পৌঁছন তাঁরা। ততক্ষণে আহত মহিলার যন্ত্রণা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। পাহাড় থেকে সমতলে নামার সেই কঠিন সময়ে তাঁদের অসহায়তার কথা জানিয়েছেন আহত মহিলার স্বামী।
হোমস্টের অব্যবস্থা এবং কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, শিলিগুড়ির দিশান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আহত মহিলা। তাঁর শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট গুরুতর। জানা গিয়েছে, তাঁর শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে।
অসহ্য যন্ত্রণার মধ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। এখন চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে তিনি কতটা সুস্থ হয়ে ওঠেন, সেদিকেই তাকিয়ে পরিবার এবং পরিজনরা।
Before You Go
Mamata Banerjee: 'তোমাদের দিদি দৃঢ়ভাবে তোমাদের পাশে আছে', CJP-র পাশে থাকার বার্তা মমতার | ABP Ananda























