সমীরণ পাল, জয়ন্ত পাল ও রঞ্জিত সাউ, কলকাতা: উৎসবের মরশুমে রাজ্যে উদ্বেগজনক ডেঙ্গি পরিস্থিতি। কোথাও দেখা গেল সচেতনতার ছবি। কোথাও অপরিচ্ছন্নতার জন্য সাধারণ মানুষের কোর্টেই বল ঠেলছে প্রশাসন।
কোথাও গাছ বেয়ে পরিত্যক্ত বাড়ির ছাদে উঠে ডেঙ্গির লার্ভা নাশ করলেন পুরকর্মীরা। কোথাও শুরু হল মেডিক্যাল ক্যাম্প। জঞ্জাল সাফেও দেখা গেল বিশেষ তৎপরতা।
উৎসবের মরশুমে উদ্বেগজনক ডেঙ্গি পরিস্থিতি। লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তর সংখ্যা। পরপর মৃত্যু। উদ্বেগজনক বিধাননগরের পরিস্থিতিও। ইতিমধ্যেই, সেখানে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিধাননগর পুরনিগম সূত্রে খবর, গত ২ সপ্তাহে সেখানে প্রায় ৭৬০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। ডেঙ্গি প্রতিরোধে বাগুইআটিতে এদিন অভিযান চালায় বিধাননগর পুরসভা। পরিত্যক্ত বাড়িতে ডেঙ্গির মশার লার্ভার হদিশ পেয়ে গাছ বেয়ে ওই পরিত্যক্ত বাড়ির ছাদে ওঠেন পুরকর্মীরা।
পাশাপাশি, মাইক হাতে সচেতনতা প্রচার চালান ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। বিধাননগর পুরনিগমের এম আই সি(স্বাস্থ্য) বাণীব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "ডেঙ্গু কুড়ি একুশে লকডাউন ছিল সেভাবে পাওয়া যাইনি।। তবে ২০১৭ সালে ডেঙ্গির যে অবস্থা ছিল তার থেকে এখনও কম আছে। কিন্তু এটা যথেষ্ট চিন্তার বিষয়। ইমিডিয়েট কন্ট্রোল না করতে পারলে খারাপ হতে পারে। আমরা স্বাস্থ্য ভবনের সাথে যোগাযোগ রেখেছি। ক্লিনিকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১০ জন লোক দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় স্প্রে করা হচ্ছে। ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হচ্ছে।"
কয়েক দিনের ব্যবধানে ২ জন ডেঙ্গি আক্রান্তের মৃত্যুতে উদ্বেগ ছড়িয়েছে দক্ষিণ দমদম পুর এলাকায়। এই পরিস্থিতিতে, তৎপরতার ছবি দেখা গেল এলাকায়। রবিবার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পল্লি এলাকায় দেখা যায় ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল ভ্যান। শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
একদিকে যখন, সচেতনতার ছবি তখন এই ওয়ার্ডেই বিভিন্ন জায়গায় জল জমে থাকতে দেখা যায়। যদিও, পরিস্থিতির জন্য সাধারণ মানুষকেই দায়ী করেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর। এদিকে, ডেঙ্গি আতঙ্কে কাঁপছে উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা।দেগঙ্গার ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষের একমাত্র ভরসা বিশ্বনাথপুর হাসপাতাল। সকাল থেকে সন্ধে হাজার হাজার মানুষের লাইন। একদিকে পর্যাপ্ত চিকিৎসকের অভাব। অন্যদিকে হাসপাতালের ব্লাড সেল কাউন্টার মেশিন খারাপ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
এবিষয়ে দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ জানিয়েছেন, অত্যধিক রোগীর চাপে ব্লাড সেল কাউন্টার মেশিন খারাপ হয়ে গেছে। দ্রুত মেরামত করা হবে।