সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়, মানকুণ্ডু : বাংলার দুই ফুটবল ঐতিহ্যের রেষারেষি। স্কিল-আবেগ আর উত্তেজনার টানটান মিশেল। ফুটবল-জ্বর  খেলার মাঠ ছাড়িয়ে গেরস্থালিতে। কারও মন সবুজ মেরুনে। কেউ লাল হলুদ। জার্সি গায়ে সমর্থকদের হুল্লোড়, মাঠজুড়ে স্লোগান - এই হল বাঙালির ফুটবল আবেগ। কিন্তু সেই আবেগের রেশ এবার বিয়েতেও। সবু-মেরুন দলের ডাই-হার্ড ভক্ত নিজের বিয়ের থিমও রাখলেন মোহনবাগান। বিয়ের বাসর সাজ থেকে মেনু, সবেতেই পাল তোলা নৌকোর আবেগ। 

 খাঁটি মোহনবাগানী বিয়ে। বাড়ির সামনে সাজানো সবুজ-মেরুন সামিয়ানা। বিয়েতে প্রিয় দলের পতাকার রঙে প্যান্ডেল যেমন সাজিয়েছেন। তেমনই আলোকসজ্জাতেও রয়েছে বাগানী-আবেগ।  মেনু কার্ড থেকে সাজসজ্জা সবেতেই সবুজ মেরুনের ছোঁয়া।

পান্ডুয়ার বৈঁচি গ্রামের বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় ছেলেবেলা থেকেই মোহনবাগান ক্লাবের সমর্থক। গত ৪ মার্চ ছিল বিয়ে । ৬ মার্চ হয় রিসেপশন।  প্রিয় দলের থিম রং সবুজ মেরুন। তাই তাঁর বিয়েতেও ছিল সেই সবুজ মেরুন এর ছোঁয়া। সব মিলিয়ে একেবারে ময়দানী মেজাজ বিয়েতে। গ্যালারির মেজাজ এক্কেবারে রিসেপশনে। এই না হলে মোহনবাগানের ছেলের বিয়ে !

সবুজ মেরুন কাপড় দিয়ে সাজানো মণ্ডপ। সবুজ মেরুন আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছিল মণ্ডপ।  দিয়ে সাজানো বিয়ে বাড়ি। মেনু কার্ড থেকে ফুলের সাজ সবই সবুজ মেরুন। এমনকী বিয়ের কনের সাজেও সবুজ মেরুনের ছোঁয়া।

বিশ্বজিৎ নিজে অতিথি অভ্যাগতদের স্বাগত জানান মোহনবাগানের জার্সি পরে। আইএসএলে মোহনবাগান ভাল অবস্থায় রয়েছে। বাড়িতে থাকলে মোহনবাগানের খেলা মিস করেন না বিশ্বজিৎ। কিন্তু অফিসে থাকলে খেলা দেখা হয় না । তখন তাঁকে খেলার আপডেট দেন তার স্ত্রী পিয়ালী। পিয়ালী যদিও আগে ইস্টবেঙ্গলের সমর্থক ছিলেন। বিশ্বজিৎ এর সঙ্গে তার পরিচয় হওয়ার পর তিনিও মোহনবাগানের মেয়ে হয়ে যান ! মোহনবাগান বাড়িতে এমন অভিনব বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির অতিথিরা বেশ আনন্দ করেন।

আরও পড়ুন :

জেল মুক্তি মীনাক্ষির, ভর্তি হতে হবে হাসপাতালে