কলকাতা: গরুপাচার মামলায় (Cattle Scam) আজ জেল হেফাজত হয়েছে  অনুব্রত মণ্ডলের। আসানসোলের সিবিআই আদালতের নির্দেশের পরেই তাঁকে জেলে নিয়ে যাওয়া হয় এদিন। এদিকে সিবিআই হানার পর ইতিমধ্যেই বোলপুরে অনুব্রত-র একের পর এক রাইসমিলের হদিশ মিলেছে। অনুব্রত-ঘনিষ্ঠদের সম্পত্তিও নজরে রেখেছে সিবিআই। আর এদিন এই ইস্যুতে মুখ খুললেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)।

এদিন সুকান্ত মজুমদার বলেন, 'প্রমাণ করছে, পশ্চিমবঙ্গ কোন অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। একজন বিচারপতির সঙ্গে যদি এই কাজ হতে পারে, অনুব্রতকে আমরা নিদান দিতে দেখেছি বিজেপি কর্মীকে গাঁজা কেস দিয়ে দাও। সেটা সত্য প্রমাণিত হচ্ছে। অনুব্রত-র গরুপাচার মামলায় বিচারপতিকে 'হুমকি চিঠি' দেওয়ার ঘটনায় কটাক্ষ করলেন এদিন সুকান্ত মজুমদার। ইতিমধ্যেই হুমকি চিঠি ইস্যুতে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। এদিন নিজাম প্যালেস থেকে বেরিয়েই বলেছিলেন,  বিচারকের হুমকি-চিঠি প্রসঙ্গে তিনি সিবিআই তদন্ত চান। সেই কথা এবার তিনি জিগ্যেস করলেন তাঁর আইনজীবীকে। তিনি জিগ্যেস করেন , ‘আমি কি সিবিআই তদন্ত চাইতে পারি?’। বিচারকের হুমকি-চিঠি প্রসঙ্গে আইনজীবীকে বললেন অনুব্রত। 

আরও পড়ুন, 'গরু পাচারকাণ্ড ন্যাশনাল ক্রাইম,' অনুব্রত ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া রাহুল সিনহার

প্রসঙ্গত, পার্থ-অর্পিতার পর এবার অনুব্রতর  অ্যাকাউন্টেও মিলেছে কোটি কোটি টাকা। অনুব্রতর কাছ থেকে প্রায় ১৭ কোটি বাজেয়াপ্ত করেছে সিবিআই।  প্রায় ১৬ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অনুব্রত-সহ ঘনিষ্ঠদের অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার হদিশ। অনুব্রত-কে  নিয়ে সম্প্রতি বিস্ফোরক দাবি করেন বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা। তিনি বলেন, '৩-৪ কোটি হাজার টাকার মালিক অনুব্রত।  কাঁধে করে গরু নিয়ে পাচার করতেন অনুব্রত, তৃণমূলে সব লোকজন বলত, এমনটাই শুনতাম, বলে জানান বিজেপি নেতা। অনুব্রত-র ইস্যুতে তিনি আরও বলেন, 'যদি সাধারণ মানুষ হিসেবে দেখি, দিনের শেষে আমরা মানুষ। উনি গ্রেফতার হয়েছেন। আস্তে আস্তে আরও অনেক জিনিস খুলবে। আরও রাঘব বোয়ালদের নাম বেরিয়ে আসবে। ততটাই কামাও, যতোটা ভোগ করতে পারবে। উনি এতটাই কামিয়ে ফেলেছেন, মানে আমাদের কাছে এখনও যা কাগজ পত্র জমা পড়েছে, তাতে করে উনি ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকার মালিক। এটা একটা রোগ। একটা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য কত টাকা লাগে ! উনি যা উপর্জন করেছেন , এরপরের ১০টা জেনারেশন বসে খাবে। যখন আমি তৃণমূলে ছিলাম, তখন আমি শুনতাম, বলতেন , আমার এক ঘর টাকা হবে।'