কলকাতা: অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠু পঞ্চায়েত নির্বাচনের ( Panchayat Election) দাবিতে জনস্বার্থ মামলা। জনস্বার্থ মামলা দায়ের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির পর্যবেক্ষণে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আবেদন। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের আবেদন (Central Force)। বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র পেশ নিশ্চিত করুক কমিশন, আবেদন মামলায়। ২৯ শে জুলাই গণনার বিজ্ঞপ্তি। তপশিলি জাতি, উপজাতি এবং ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্তদের গননার জন্য বিজ্ঞপ্তি। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি খারিজের আবেদন। '২০১৩ সালে রাজ্যের আপত্তি সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে শান্তিপূর্ণ পঞ্চায়েত নির্বাচন', দাবি শুভেন্দু অধিকারীর। '২০১৮ সালে রাজ্য পুলিশ দিয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ব্যাপক সন্ত্রাস', দাবি শুভেন্দুর। '২০২২ সালে কলকাতা পুরসভা ও কাঁথির নির্বাচনেও অশান্তি', দাবি শুভেন্দুর।

প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভার আগে একের পর এক হিংসা। হত্যাকাণ্ড। প্রায়দিনই দেহ উদ্ধারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। ভোটের মাঝে উত্তাল হয়ে ওঠে কোচবিহারের শীতলকুচি। ভোট শেষ হতেই হিংসা আরও বড় আকার নেয় বাংলায়। ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় হাইকোর্ট সিবিআই-কে তদন্তের নির্দেশ দেয়। কিন্তু এত গেল, রাজ্য বিধানসভার ভোটের গ্রাফ। তারপরে উপনির্বাচন শেষে কলকাতা পুরভোটের সময়েও কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে দাবি জানায় রাজ্য বিজেপি। মূলত ভোটের দিনগুলিতে রিগিং রুখতেই তাঁদের এই দাবি বরাবরাই চলে এসেছে। পুরভোটের সময় হাইকোর্ট যদিও রাজ্যপুলিশকে দায়িত্বভার নিয়ে কড়া নির্দেশ দেয়। কোনও কিছু হিংসার ঘটনা ঘটলে কৈফিয়ত দিতে হবে, জানানো হয়। তবে একাধিক জায়গায় রিগিংয়ের অভিযোগ বিরোধীরা তুললেও, সিসিটিভি, মেশিন কারচুপি, পুরভোটের দিন সকাল থেকেই আসতে থাকে। তবে তুলনামূলকভাবে রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলার পাশিপাশি এখন পঞ্চায়েত ভোটের আগে, জেলায় জেলায় বোমাবাজি হলেও বোমা উদ্ধার, অস্ত্র উদ্ধারও করছে কড়া হাতে রাজ্য পুলিশ। যদিও পঞ্চায়েত ভোটের আগেও এই ইস্যুকেই ঢাল করে সরব বিরোধীরা। আর এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ফের আবেদন। জনস্বার্থ মামলা দায়ের রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।

আরও পড়ুন, 'এটা ওনার মস্তিষ্ক প্রসূত নয়', পার্থ মুখ খুলতেই দাবি শমীকের, কী প্রতিক্রিয়া কুণাল-সুজনের ?

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এখনও জায়গায় জায়গায় অস্ত্রশস্ত্র, বোমা উদ্ধার। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগও সামনে আসছে। ভাঙড়ে তৃণমূল নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে ১২ রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগ। উদ্ধা তাজা বোমাও। তাতে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কার বাণী শোনালেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তা সলিল ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, 'আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন রক্তাক্ত ও ভয়াবহ হতে চলেছে।' এদিকে পঞ্চায়েত ভোটের আগে তেতে উঠছে ব্যাটলফিল্ড নন্দীগ্রাম ! রবিবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যখন গোকুলনগরে, তখন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ জনসংযোগ সারলেন সোনাচূড়ায় ! আর তাঁদের চ্যালেঞ্জ আর পাল্টা চ্যালেঞ্জ ঘিরেই ফের তেতে উঠল নন্দীগ্রামের মাটি। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের বার্তা, ভোট আনতে হবে বিজেপির বাড়িতে ঢুকে। পুরনো নেতারা থাকবে। নতুনরাও থাকবে। শুভেন্দুর ভিত নড়ে গেছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর চ্যালেঞ্জ, আমাদের কোনও চিন্তা নেই, বিজেপির ১৭টার মধ্যে ১২টায় আমাদের প্রধান বসবে, বাকিগুলো আমরা আঙুল যেদিকে দেখাব, সেদিকে।