Nandigram Byelection: নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে মনোনয়ন তুলে নিতে চাপ দিয়েছিল পুলিশ! চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
Nandigram ReElection: নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচনের ঠিক ১৮ দিন আগে, কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী (Nandigram Byelection) মিলন প্রধানকে (Milan Pradan) মনোনয়ন তুলে নিতে চাপ দিয়েছিল পুলিশ। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস ভট্টাচার্য (Subhashish Bhattacharya)। তাঁর দাবি, ঘটনার দিন মিলন প্রধানের সঙ্গে তাঁকেও তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। যদিও কংগ্রেসের তোলা মনোনয়ন প্রত্যাহারে চাপ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।
২০০৭ সালের মামলায়, গ্রেফতার করা হয়েছে, নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে হলদিয়া মহকুমা আদালত। রাজ্য পুলিশের দাবি, উনিশ বছর ধরে পলাতক ছিলেন ধৃত কংগ্রেস নেতা। উপনির্বাচনের আগে এই গ্রেফতারি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচনের ঠিক ১৮ দিন আগে, কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার সে প্রসঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলল কংগ্রেস। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানার মোট চারটি মামলায়, শুক্রবার বিকেলে, পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের একটি হোটেল থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারি নিয়ে মিলন দাবি করেছিলেন, ‘ভয় পেয়েছে, এই নির্বাচনে...নন্দীগ্রাম তো বঞ্চিত। নন্দীগ্রামের মানুষ মুখিয়ে রয়েছে পরিবর্তন করার জন্য়।’
ঘটনার দিন দলীয় কাজ সেরে চণ্ডীপুরের একটি হোটেলে কংগ্রেস প্রার্থীর সঙ্গেই ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস ভট্টাচার্য। সেই হোটেলের ঘরে বসেই সেদিনের কথা এবিপি আনন্দকে বললেন এই কংগ্রেস নেতা। সেইদিনের বিবরণ দিতে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস ভট্টাচার্য জানান, ‘হঠাৎ করে মিলনের চিৎকার। তাতা দা তাতা দা তাতা দা নিয়ে যাচ্ছে। সম্ভবত বিজেপিরই লোক এবং সাথে মনে হয় পুলিশও আছে। নেমেই দৌঁড়তে গিয়ে দেখি চ্যাংদোলা করে একদম অসভ্যের মতো নিয়ে যাচ্ছে। সিড়ির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। ব্যথা পাচ্ছে মিলন আমি বুঝতে পারছি। জামাকাপড় প্রায় খুলে যাচ্ছে। আমি চেপে ধরেছি যে না নিতে পারবেন না। যেভাবে নিয়ে যাচ্ছেন একটা মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এভাবে আপনি নিয়ে যেতে পারেন না।’
আরও পড়ুন:- বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগে আটক মহাভারত, ব্রহ্মাস্ত্রে অভিনয় করা বলিউড অভিনেতা
কংগ্রেস নেতার দাবি, চোখ বেঁধে দুটি আলাদা গাড়িতে তুলে দেওয়া হয় দু'জনকে। ‘আমি গিয়ে জিপটা আটকে দিই। বলি নিতে দেব না। চণ্ডীপুর থানারই ওসি হবেন, উনি বললেন যে ওঁকেও তুলে নে। আমি বললাম উঠিয়ে নিন কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু আমি মিলনকে নিয়ে যেতে দেব না। তুলে নিল আমাকেও। তারা দুটো গামছা আনলেন। একটা আমার চোখে বাঁধলেন। একটা সম্ভবত মিলনের জন্য এনেছিল।’ দাবি তাঁর।
অভিযোগ, এর পরেই শুরু হয় প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের জন্য চাপ। ‘আমাকে বলল মিলনকে বলুন (প্রার্থীপদ) তুলে নিতে। আমি তখন বললাম এটা আমি বলতে পারব না। তখন SDPO বলছেন আমায় মিলন কিন্তু বলেছেন, যদি আপনি বলেন তুলবেন। আমি বললাম আমাকে UAPA দিন। যত কেস আছে আমার গায়ে লাগিয়ে দিন।’ বলেন তিনি।
মিলন প্রধানকে গ্রেফতারের পর আক্রমণ শাণিয়েছেন খোদ রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, ‘এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, গণতন্ত্রের হত্য়া। অবাধ ভোটের প্রতি বিজেপির কোনও আস্থা নেই। তাই তারা কখনও ভোট চুরি, কখনও সরকার চুরি, কখনও দল চুরি করে ক্ষমতা আকঁড়ে থাকতে চায়।’ পাল্টা বিজেপি নেতা ও অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার দাবি, ‘রাহুল গান্ধী ওঁকে (মিলন প্রধান) খুন করার জন্য লাইসেন্স দিয়েছিলেন নাকি ২০০৭-এ? এটা তো খুনের মামলার আসামী। আপনি কীরকম প্রার্থী বলবেন ওঁকে?’
অন্যদিকে নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা কংগ্রেসের একাংশের প্রশ্ন, প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর, আর কি কোনও বিকল্প ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে? শুভাশিসের দাবি, ‘যখন ওঁর (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) প্রার্থীও আত্মসমর্পণ করে গেছে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে, তখন তাঁর কাছে আর বিকল্প ছিল না আমাদের সমর্থন করা ছাড়া।’
সবমিলিয়ে কংগ্রেসের প্রার্থীকে গ্রেফতার এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ঘিরে উপনির্বাচনের আগে সরগরম নন্দীগ্রাম।
Before You Go
Navaratri | বেহালার চণ্ডীতলার চণ্ডীমন্দিরে নবরাত্রি উপলক্ষে ডান্ডিয়া ডান্স | #abpananda























