পূর্ণেন্দু সিংহ, বাঁকুড়া: রাজ্যে একদিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জেরে জেরবার শাসকদল। ইতিমধ্যে শ্রীঘরে একাধিক হেভিওয়েট নেতা। আর সেই চাকরি ইস্যুতেই ফের প্রতারণকাণ্ডের পর্দাফাঁস করল এবার বাঁকুড়া জেলার পুলিশ। চাকরির টোপ দিয়ে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা প্রতারণা (Fraud Case) করার অভিযোগে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ। আজ তাদের বাঁকুড়া জেলা আদালতে (Bankura District Court) তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের (Jail Custody) নির্দেশ দিয়েছেন।
গত বছর ৮ ডিসেম্বর বাঁকুড়ার লোকপুরের বাসিন্দা নিতাই গরাই নামে এক ব্যাক্তি বাঁকুড়া সদর থানায় দুই অভিযুক্তের নামে চাকরির টোপ দিয়ে টাকা নিয়ে প্রতারণার ইস্যুতে লিখিত অভিযোগ জানায়। এরপরেই বাঁকুড়ার পাঠকপাড়া এলাকা থেকে স্বরূপানন্দ পাল ও কেন্দুয়াড়িহী এলাকা থেকে রামকৃষ্ণ মন্ডল নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ। অভিযোগকারীর দাবি, তাঁর ছেলের চাকরি দেওয়ার নাম করে দফায় দফায় তার কাছ থেকে ২৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে অভিযুক্তরা। এরপর তাঁদের কাছে টাকা চাইতে গেলেই বিভিন্ন অছিলায় এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। অভিযুক্তরা তাঁদেরকে ফাঁসানো হয়েছে দাবি তুলে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গতবছরও চাকরি নিয়ে প্রতারণার এমন উদাহরণ রয়েছে। গতবছরের শেষে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে লক্ষাধিক টাকা প্রতারণার (fraud) অভিযোগ উঠেছিল রানাঘাটে। রীতিমতো পুলিশের পোশাক (Police Uniform) পরেই প্রতারণা করা হয় বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত হয়েছিলেন বছর চল্লিশের এক ব্যক্তি। রীতিমতো পুলিশের পোশাক পরে নিজেকে পুলিশের এসআই (SI) পদে কর্মরত পরিচয় দিয়ে পুলিশে কনস্টেবল (Police Constable) পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ৮ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল বছর চল্লিশের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল রাণাঘাট মহকুমা আদালতে।
পুলিশ পরিচয় দেওয়া প্রতারক ব্যক্তির নাম শৈলেন ঘোষ ওরফে রাহুল। তিনি শান্তিপুর থানার সর্বনন্দী পাড়ার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছিল। অভিযোগ, শৈলেন ঘোষ নামে শান্তিপুরের ওই ব্যক্তি গতবছরের বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নদিয়ার হাঁসখালি থানা এলাকার বিষ্ণু মণ্ডল এবং রোহিত মণ্ডল নামে দুই ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করেছিলেন। এরপর শৈলেন ঘোষ নিজেকে ব্যারাকপুর থানার এসআই পদে কর্মরত অফিসার বলে পরিচয় দেন। একইসঙ্গে পুলিশি পোষাক পরে একাধিকবার হাঁসখালিতে ওই দুই ব্যক্তির বাড়িতেও যান। এরপর তৈরি হয় বিশ্বাসযোগ্যতার জায়গা।
আরও পড়ুন, 'BJP বিধায়ক এলাকায় ঢুকলে ঝাঁটাপেটা করুন', ফের বিস্ফোরক তৃণমূল নেতা-নেত্রী
পরবর্তীতে শৈলেন ঘোষ ওই দুই ব্যক্তিকে কনস্টেবল পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বেশ কয়েক দফায় প্রায় ৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। প্রথমদিকে ওই দুই ব্যক্তিকে পুলিশের পোশাক, ব্যাজ, বেল্ট, রিভলভার রাখার কেস, অশোক স্তম্ভ সহ নিয়োগপত্র দিয়ে দেন বলে জানা যায়। এরপর ওই দুই ব্যক্তি সেই নিয়োগপত্র নিয়ে ব্যারাকপুর লাটবাগান পুলিশ ব্যারাকে গিয়ে খোঁজ করে বুঝতে পারেন, তাঁরা দুজনেই প্রতারিত হয়েছেন।