Suvendu Adhikari PA Murder: ১০ মিনিট আগে থেকেই গাড়ি-বাইকে অপেক্ষা করছিল আততায়ীরা ! চন্দ্রনাথ আসতেই 'অ্যাকশন' শুরু, তারপর...
Suvendu Adhikari PA Killed: গাড়ি ও বাইক ১০ মিনিট আগে থেকেই ঘটনাস্থলে অপেক্ষা করছিল। গাড়ি দিয়ে গাড়ি আটকে গুলি চালিয়ে খুন করাই ছিল পরিকল্পনা। সেই কারণেই গাড়ি নিয়ে আসা হয়েছিল ঘটনাস্থলে।

মধ্যমগ্রাম, উত্তর ২৪ পরগনা : শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে মাঝরাস্তায় গাড়ি থামিয়ে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছে আততায়ীরা। মধ্যমগ্রামের এই হত্যাকাণ্ডের ছত্রে ছত্রে রয়েছে দুষ্কৃতীদের চরম পেশাদারিত্বের ছাপ। গাড়িতে ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগানো, চেসিস নম্বর নষ্ট করে দেওয়া, পালানোর সময় বাইক ফেলে দেওয়া, আগে থেকে রেইকি করে সুচারু পরিকল্পনায় চোখের নিমেষে খুন করা, গুলি চালানোর আগে থেকেই টার্গেটের জন্য অপেক্ষা করা - একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে মধ্যমগ্রামের এই হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে। কালো কাচের আড়ালে চন্দ্রনাথ চিনে নিয়েই এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে আততায়ীরা। একজন শার্প শ্যুটার ছিল বলে খবর। পুলিশের অনুমান, সুপারি দেওয়া হয়েছিল চন্দ্রনাথকে খুনের জন্য।
শুভেন্দুর PA খুনে ব্যবহৃত বাইক উদ্ধার, নম্বর প্লেট নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি পুলিশের
জানা গিয়েছে, রোজ রাতে মোটামুটি ৯টা সাড়ে ৯টা নাগাদ ওই রাস্তা দিয়েই বাড়ি ফিরতেন চন্দ্রনাথ, যে রাস্তায় বুধবার রাত ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ খুন হয়েছেন তিনি। তাহলে কি আততায়ীদের কাছে আগে থেকেই চন্দ্রনাথের বাড়ি ফেরার সময় এবং রাস্তার ব্যাপারে খবর ছিল? পুলিশ সূত্রে খবর, দুষ্কৃতীরা এসেছিল ২টি বাইক এবং ১টি গাড়ি চেপে। খুনের ৬ ঘণ্টা আগে থেকেই এলাকায় দেখা গেছিল গাড়িটিকে। গতকাল বিকেল ৪ নাগাদ মধ্যমগ্রামের দোলতলায় প্রথম দেখা যায় গাড়িটিকে। গাড়ি ও বাইক ১০ মিনিট আগে থেকেই ঘটনাস্থলে অপেক্ষা করছিল। গাড়ি দিয়ে গাড়ি আটকে গুলি চালিয়ে খুন করাই ছিল পরিকল্পনা। সেই কারণেই গাড়ি নিয়ে আসা হয়েছিল ঘটনাস্থলে। শ্যুটআউটের পর গাড়ি ফেলে মোটরবাইক নিয়ে পালানোর পরিকল্পনা ছিল আগে থেকেই। এলাকার সঙ্কীর্ণ রাস্তা দিয়ে বাইকে পালানোই ঠিক হবে বলে মনে করেছিল আততায়ীরা। গাড়ি ও বাইক ফেলে রেখে যেতে হবে বলে, বাইকের নম্বর প্লেট জাল করা হয়েছিল। গাড়ি ও বাইকের চেসিস নম্বর ঘষে তুলে ফেলা হয় যাতে পুলিশ সহজে আততায়ীদের নাগাল না পায়, সেই জন্য। এর পাশাপাশি শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার গাড়ির নম্বর প্লেট জাল করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ওই একই মডেলের অন্য একটি গাড়ি জোগাড় করে আততায়ীরা।
যে এলাকায় চন্দ্রনাথ খুন হয়েছেন, সেখানে গুলির খোল পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। এই বুলেট শেলের ব্যালিস্টিক পরীক্ষা হবে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, পালানোর সময় ব্ল্যাঙ্ক ফায়ারিং করেছিল আততায়ীরা। এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশও। অতীতেও বিভিন্ন ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, খুনের পর পুলিশ যাতে পিছু নিতে না পারে, এলাকার লোক যাতে ধাওয়া করতে না পারে, তার জন্য একপ্রকার ভয় দেখাতেই শূন্যে গুলি ছুড়তে ছুড়তে এলাকা ছেড়েছে আততায়ীরা। অনুমান, এক্ষেত্রেও সেটা হতে পারে। পুলিশ সূত্রে খবর, খুনের পর বাইক নিয়ে আততায়ীরা দুই দিকে পালিয়েছে। স্বভাবতই ২ দিকের রাস্তা দুটো অন্য জায়গায় যায়। অতএব আততায়ীরা কোথায় গিয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। ১২ ঘণ্টার থেকেও অনেকটা বেশি সময় পার হয়ে গেলেও আততায়ীদের কেউই ধরা পড়েনি। কারা, কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটালো তা এখনও স্পষ্ট নয় তদন্তকারীদের কাছে।
পুরো অপারেশন হয়েছে আটঘাট বেঁধে, রীতিমতো পেশাদারি কায়দায়। গুলি চালিয়েছে একজনই, গুলি চলেছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র থেকে, খবর পুলিশ সূত্রে। সম্ভবত ভাড়া করে আনা হয়েছিল শার্প শ্যুটারকে। কালো কাচের আড়াল থেকে চন্দ্রনাথ রথকে চিনে গুলি করা হয়। গোটা অপারেশন শেষ হয় মাত্র ৫০ সেকেন্ডে। এইটুকু সময়ের মধ্যে গুলি চালিয়ে, মৃত্যু নিশ্চিত করে, বাইকে চড়ে পালিয়েছে আততায়ীরা। এই সময়ের মধ্যে গোটা অপারেশন শেষ করতে পারে একমাত্র পেশাদারি খুনিরাই, মনে করছে পুলিশ। অন্যদিকে, পুলিশের চোখে ধুলো দিতে পালানোর সময় দুটি বাইক, দু'দিকে পালায় বলে খবর।




















