নতুন বছরের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ফিট থাকার এবং স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য সংকল্প নেয়। কিন্তু আসল পরিবর্তন আসে বড় পরিবর্তন থেকে নয়। বরং ছোট ছোট, দৈনন্দিন অভ্যাস থেকে। হার্টের স্বাস্থ্য বজায় রাখা কঠিন নয়। দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কয়েকটি সহজ এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অন্তর্ভুক্ত করলে হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে। তাই, হৃদয়ের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে ২০২৬ সাল শুরু করতে পারেন। এমন পাঁচটি হার্ট টিপস দেখে নেওয়া যাক যা প্রতিদিন গ্রহণ করলে নতুন বছরেও হার্ট সুস্থ থাকবে।

Continues below advertisement

হার্ট সুস্থ রাখতে কী কী করতে হবে ?

হার্ট সুস্থ রাখার জন্য প্রতিদিন শরীরকে সচল রাখা অপরিহার্য। নিয়মিত ব্যায়াম হৃদপিণ্ডের পেশীগুলিকে শক্তিশালী করে, রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করে এবং রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে। বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করেন যে, দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতার কাটার মতো কার্যকলাপগুলি প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিটের জন্য করা উচিত। ধীরে ধীরে শুরু করতে পারেন এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অনুশীলনগুলির সময়কাল বাড়াতে পারেন।

Continues below advertisement

হার্ট সুস্থ রাখার অর্থ কঠোর ডায়েট অনুসরণ করা নয়, বরং একটি সুষম এবং পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করা। খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য, বাদাম, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং কম প্রক্রিয়াজাত খাবার অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, মিষ্টি এবং নোনতা খাবারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। ট্রান্স ফ্যাট, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ভাজা খাবার, প্রক্রিয়াজাত এবং লাল মাংস, অতিরিক্ত লবণ, চিনি এবং মিষ্টিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা হৃদরোগের জন্য উপকারী।

ঘুমের অভাব সরাসরি হৃদরোগের উপর প্রভাব ফেলে। ঘুমের অভাব শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি করে, যা রক্তনালীগুলিকে সংকুচিত করে এবং রক্তচাপ বাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ভাল ঘুম হৃদপিণ্ডের জন্য অপরিহার্য। ভাল ঘুম শরীর এবং মন উভয়কেই চাঙা করে।

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং শারীরিক কার্যকলাপের অভাব হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এর ফলে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টেরলের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই, মানসিক চাপ কমাতে, প্রতিদিন নিজের জন্য কিছু সময় বের করুন, গভীর শ্বাস নিন, ধ্যান করুন অথবা শান্ত সঙ্গীত শুনুন, তা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

অনেক হৃদরোগ প্রাথমিকভাবে লক্ষণ ছাড়াই দেখা দেয়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টেরলের মতো অবস্থা যদি প্রাথমিকভাবে শনাক্ত না করা যায় তবে তা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত হার্ট চেকআপ কেবল রোগ শনাক্তকরণের জন্যই নয়, বরং এটি প্রতিরোধের জন্যও অপরিহার্য। নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে আপনার হার্টের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডিসক্লেইমার: লেখায় উল্লেখিত দাবি বা পদ্ধতি পরামর্শস্বরূপ। এটি মেনে চলার আগে অবশ্যই সরাসরি বিশেষজ্ঞ/চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।