Char Dham Yatra : চার ধাম যাত্রায় রেকর্ড সমাগমের মধ্যেই প্রায় ২০০ জনের মৃত্যু ? চাঞ্চল্যকর খবর
উদ্বেগ বাড়িয়েছে মৃত্যুর সংখ্যা। সরকারি সূত্র বলছে, এখনও পর্যন্ত ১৯৮ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

নয়াদিল্লি : এপ্রিল থেকে শুধু হয়েছে চার ধাম যাত্রা। সরকারি তথ্য বলছে, উত্তরাখণ্ডের চারধাম যাত্রায় এ বছর রেকর্ড সংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যেই ৩৭ লক্ষেরও বেশি ভক্ত চারধাম দর্শন করেছেন। তবে বিপুল ভিড়ের মধ্যেই এসেছে একটি উদ্বেগজনক খবর। জানা গিয়েছে, এবার এই চারধাম যাত্রায় বহু মানুষের মৃত্য হয়েছে। উদ্বেগ বাড়িয়েছে মৃত্যুর সংখ্যা। সরকারি সূত্র বলছে, এখনও পর্যন্ত ১৯৮ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৯ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই তীর্থযাত্রায় অধিকাংশ মৃত্যুর কারণ স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা। মোট ১৯৮ জনের মধ্যে ১৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে অসুস্থতা বা শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে। বাকি ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে স্বাভাবিক কারণে।
কেদারনাথেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যু
চারধামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কেদারনাথে। সেখানে এখনও পর্যন্ত ৯৫ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, বদ্রীনাথে মৃত্যু হয়েছে ৫৯ জনের । যমুনোত্রীতে মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের । গঙ্গোত্রীতে মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের । উচ্চতা, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার কারণে বয়স্ক ও অসুস্থ তীর্থযাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রশাসনের সতর্কবার্তা
চারধাম যাত্রায় অংশগ্রহণের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। বিশেষ করে হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে যাত্রায় অংশ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
চারধামের মাহাত্ম্য
উত্তরাখণ্ড, যা ‘দেবভূমি’ বা দেবতাদের আবাসভূমি নামেও পরিচিত, ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই রাজ্যের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য মন্দির, ধর্মীয় বিশ্বাস, লোককথা ও কিংবদন্তি। তাই সারা বছরই এখানে ভক্ত ও পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। তবে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায় চারধাম যাত্রার সময়। প্রতি বছর সাধারণত এপ্রিল বা মে মাসে চারধামের দরজা খুলে যায় এবং শীতের আগমনে, অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে মন্দিরগুলির দ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়। হিন্দু ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, জীবনে একবার চারধাম দর্শন করলে পাপমোচন হয় এবং মোক্ষ লাভের পথ সুগম হয়।
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, চারধাম যাত্রা ঘড়ির কাঁটার দিক অনুসরণ করে সম্পন্ন করা উচিত। সেই কারণে যাত্রা শুরু হয় যমুনোত্রী থেকে, তারপর গঙ্গোত্রী, কেদারনাথ এবং শেষে বদ্রীনাথ দর্শনের মাধ্যমে এই পবিত্র সফর সম্পূর্ণ হয়। বর্তমানে সড়কপথের পাশাপাশি হেলিকপ্টার পরিষেবাও রয়েছে। অনেক ভক্ত সময় বা শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে ‘দো ধাম’ যাত্রাও করেন অনেকে, যেখানে কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ দর্শনই মূল লক্ষ্য থাকে।
যমুনোত্রী
উত্তরকাশী জেলায় যমুনা নদীর উৎসের নিকটে অবস্থিত যমুনোত্রী মন্দির দেবী যমুনাকে উৎসর্গীকৃত। দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে এই মন্দিরে পৌঁছাতে হয়। হিন্দুদের কাছে যমুনা নদী অত্যন্ত পবিত্র বলে বিবেচিত।
গঙ্গোত্রী
উত্তরকাশী জেলারই গঙ্গোত্রী মন্দির দেবী গঙ্গার উদ্দেশে নিবেদিত। বিশ্বাস করা হয়, স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হওয়ার পর গঙ্গা প্রথম এই অঞ্চলে প্রবাহিত হয়। তাই গঙ্গোত্রী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ পবিত্র স্থান।
কেদারনাথ
রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১১,৭৫৫ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত কেদারনাথ মন্দির দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম। ভগবান শিবকে উৎসর্গীকৃত এই মন্দিরে পৌঁছাতে দীর্ঘ ট্রেকিং করতে হয়, যা যাত্রাকে আরও কঠিন করে তোলে।
বদ্রীনাথ
চারধামের শেষ এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান বদ্রীনাথ। অলকানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই মন্দির ভগবান বিষ্ণুর বদ্রীনারায়ণ রূপকে উৎসর্গীকৃত। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত এখানে পুজো দিতে আসেন।
কষ্টসাধ্য হলেও আধ্যাত্মিকতার অনন্য অভিজ্ঞতা
চারধাম যাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় সফর নয়, এটি ঈশ্বরলাভের বিশ্বাস। তাই তো দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা, প্রতিকূল আবহাওয়া, উচ্চতা এবং শারীরিক পরিশ্রম—সবকিছুকে অতিক্রম করে ভক্তরা এই যাত্রায় অংশ নেন।
source : PTI






















