নয়া দিল্লি : আর্থিক তছরুপ মামলায় গ্রেফতার ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (National Stock Exchange) প্রাক্তন সিইও ও এমডি রবি নারায়ণ (Ravi Narain)। আজ, মঙ্গলবারই তাঁকে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। 

১৯৯৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এনএসই-র এমডি ও সিইও ছিলেন নারায়ণ। পরে তাঁকে কোম্পানির বোর্ডের নন-এক্সিকিউটিভ ক্যাটেগরিতে ভাইস-চেয়রাম্যান নিয়োগ করা হয়। ২০১৩-র পয়লা এপ্রিল থেকে ২০১৭-র পয়লা জুন পর্যন্ত ওই দায়িত্বে ছিলেন তিনি। 

আরও পড়ুন ; জামিনের আবেদন খারিজ, গ্রেফতার NSE-র প্রাক্তন সিইও চিত্রা রামকৃষ্ণ

এর আগে ৬ মার্চ এনএসই-র প্রাক্তন সিইও চিত্রা রামকৃষ্ণকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। কো-লোকেশন দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৮ সালের মে মাসে মামলা রুজু হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এরপর গত ১৪ জুলাই তাঁকে ফোনে আড়ি পাতা মামলায় গ্রেফতার করে ইডি। 

কী অভিযোগ ?

এই ঘটনা সম্পর্কে যাঁরা ওয়াকিবাহল তাঁদের সূত্রে জানা গেছে, সিবিআইয়ের কাছে পাঠানোর আগে বেআইনিভাবে ফোনে আড়ি পাতার ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। যাতে প্রাক্তন মুম্বই পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় পাণ্ডে, রামকৃষ্ণ এবং নারায়ণের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা করা হয় জুন মাসে। এরপর সিবিআইয়ের এফআইআরের ভিত্তিতে, আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে ইডি। 

তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন যে, রামকৃষ্ণ এবং নারায়ণ রেড সার্ভার নামক ডিভাইস ব্যবহার করে এনএসই কর্মীদের ল্যান্ডলাইন অবৈধভাবে ট্যাপ করার জন্য পাণ্ডের পারিবারিক সংস্থা আইএসইসি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডকে ভাড়া করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অফিসার জানান, “মুম্বইয়ের এনএসই বিল্ডিং-এ প্রায় প্রত্যেকের ল্যান্ডলাইন ট্যাপ করা হয়েছিল এনএসই-এর ব্রাস বাদে । আমাদের কাছে তথ্য আছে যে নজরদারি টানা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলেছিল... সুতরাং, আমরা পুরো সময়কালে আইএসইসির ভূমিকার তদন্ত করছি।”

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে চলা দুর্নীতির বিষয় সামনে আনে সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (SEBI)। রিপোর্টে শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে,  তাদের কাছে NSE-তে দুর্নীতির বিষয়ে চিত্রা রামকৃষ্ণর বিরুদ্ধে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ রয়েছে। যা দর্শায়,  ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে NSE-এর অভ্যন্তরীণ গোপনীয় তথ্য ইমেলের মাধ্যমে একজন অজানা ব্যক্তিকে জানিয়েছেন কৃষ্ণা।