বিজেপির বিরুদ্ধে আঞ্চলিক দলগুলিকে একজোট হওয়ার বার্তা মমতার

পুরী: দিন তিনেক আগেই ভুবনেশ্বরে বসে বঙ্গ ও কলিঙ্গ জয়ের ডাক দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরা। বিজেপির লক্ষ্য স্পষ্ট, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নবীন পট্টনায়েককে সরিয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল।
এই প্রেক্ষাপটে বুধবার পুরী থেকে ফের একবার আঞ্চলিক দলগুলিকে নিয়ে বিজেপি বিরোধী জোটের ডাক শোনা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়।
তৃণমূলনেত্রী বলেন, দেশে উন্নত গণতন্ত্রের স্বার্থে আঞ্চলিক দলগুলির যাতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। তৃণমূলনেত্রী যোগ করেন, বিজেপি পুবে তাকালে, আমি দিল্লির দিকে তাকাই।
একদা বিজেপি ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিল বিজু জনতা দল। কিন্তু, বিজেপি ওড়িশা দখলে ঝাঁপানোর, এখন মুখোমুখি দু’দল। এই পরিস্থিতিতে মোদী বিরোধী আঞ্চলিক জোটের জল্পনা উস্কে দিয়ে বৃহস্পতিবার ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন তৃণমূল নেত্রী। বলেন, কলকাতা ফেরার আগে আমি নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে দেখা করতে চাই।
বিজেপি যখন উন্নয়ন নিয়ে খোঁচা দিচ্ছে, তখন পাল্টা তাদের আঘাত করতে ঘুরিয়ে ধর্মীয় মেরুকরণের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, ওরা ধর্ম, অঞ্চল ও জাতপাতের ভিত্তিতে দেশকে বিভক্ত করতে চাইছে।
মমতা বলেন, বিজেপির মতে পশ্চিমবঙ্গ খারাপ, ওড়িশা খারাপ, বিহার খারাপ, সব অ-বিজেপি রাজ্য খারাপ। তাহলে ওরা কী করে ভাল হল, প্রশ্ন মমতার। তিনি জানিয়ে দেন, সব রাজ্যগুলির নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক ভাল। সেটা কেন্দ্রকে মাথায় রাখতে হবে।
এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে বিভাজনকারী রাজনীতি করার অভিযোগ করেন মমতা। বলেন, আমি প্রকৃত হিন্দু, বিজেপি হিন্দুত্বের কলঙ্ক। কারণ, প্রকৃত হিন্দু পরধর্ম সহিষ্ণুতার কথা বলে। পাশাপাশি নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কে কী খাবে, সেটা তাঁর নিজস্ব ব্যাপার।
গো-মাংস খাওয়া নিয়ে তিনি আগে যা বলেছেন, সেই নিয়ে এদিন নেত্রীর জবাব, যা বলেছেন, সংবিধান মেনেই বলেছেন। মমতার মতে, বিজেপি যা করছে তা হিন্দুত্ব নয়।
এপ্রসঙ্গে তিনি পুরীর মন্দিরে পুজো দেওয়া নিয়ে বিতর্কেও বিজেপিকে আক্রমণ করেন। বলেন, ওরা হিন্দুদের মুসলিমদের বিরুদ্ধে, খ্রীস্টানদের হিন্দুদের বিরুদ্ধে, ওড়িয়াদের বাঙালিদের বিরুদ্ধে বিহারীদের বাঙালিদের বিরুদ্ধে উস্কানি দেয়।






















