এক্সপ্লোর

AQI ভ্রম : তথ্য উধাওয়ের জেরে বানচাল হচ্ছে দেশের দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই !

দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণ সংক্রান্ত স্বতঃপ্রণোদিত জনস্বার্থ মামলাটির শুনানি করছে বোম্বে হাইকোর্ট। এবং সাম্প্রতিক শুনানিগুলি বায়ুদূষণের এই যে অবস্থা (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স), এই যে সংকট, তার সঙ্গে যুক্ত মৌলিক সমস্যাগুলিকে তুলে ধরেছে – দূষণের উৎসগুলি সঠিকভাবে চিহ্নিত করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাব রয়েছে আমাদের, এবং দূষণ কমাতে গৃহীত পদক্ষেপগুলিও আমরা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করি না।

সম্প্রতি সংসদে কেন্দ্র জানায়, উচ্চ বায়ুদূষণ সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স এবং ফুসফুসের সমস্যার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনও তথ্য নেই। আর এই তথ্যে নড়েচড়ে বসেছেন অনেকে। তবে, এই বিষয়টি কেউ উল্লেখ করেননি, যে, এই এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স সংক্রান্ত কোনও তথ্য সংগ্রহ ও সংকলনের জন্য কোনও উদ্যোগ রয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। সম্পর্কযুক্ত হোক বা কার্যকারণমূলক - কোনও একটি সংযোগ যে বিদ্যমান, তা স্পষ্ট। কারণ কেন্দ্রীয় সরকারের একই জবাবে "...বায়ুদূষণ সম্পর্কিত অসুস্থতাগুলিকে কেন্দ্র করে উপকরণ তৈরির..." (“…development of material targeting Air Pollution related illnesses…”) কথা বলা হয়েছে।

আমাদের দেশে বায়ুদূষণ যখন অন্যতম প্রধান সমস্যা, তখন, এই উপযুক্ত ডেটার অভাব একটি সাধারণ সমস্যা। সপ্তাহের শুরুতে শুনানির সময় বোম্বে হাইকোর্ট অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে এও উল্লেখ করেছে যে, দূষণ নিয়ন্ত্রণে বসানো বেশ কয়েকটি দূষণ সেন্সর কাজই করছে না।

এটা উল্লেখ্য যে, নির্মাণস্থলে দূষণ নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা কার্যকর না হওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং সেই নির্দেশিকা কার্যকর করার জন্য BMC-র আপাত প্রচেষ্টার মধ্যেকার ফারাকটি নিয়ে হাইকোর্টকে প্রশ্ন তুলতে হয়েছে।

বিএমসি-র আপাতত নথিগত প্রমাণ, বা যাকে তথ্য বলা যেতে পারে, তা থেকে মনে হয় যে তারা যথাযথভাবে কাজ করেছে। কিন্তু, শহরের পরিস্থিতি অবশ্য অন্য কথাই বলে, এবং আমাদের এই মেগাসিটিতে (এবং সম্ভবত আমাদের সমস্ত শহুরে জনবসতিতে) স্থানিক তারতম্য ও জনসংখ্যার ঘনত্বকে আমলে না নেওয়া একটি দূষণ সেন্সর নেটওয়ার্ক আমাদের এবং আদালতকে এক শূন্যতার মধ্যে কাজ করতে বাধ্য করে।

সমস্যা অনেক বড়,  মনোযোগ অতি সামান্য

আশ্চর্যজনক যে, মহামারীর পর আমরা যে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সংকটের সম্মুখীন হয়েছি, তা প্রয়োজনের তুলনায় কম মনোযোগ পাচ্ছে। আমি যেমনটা সবসময় বলে এসেছি, আমরা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত – আমরা একই বাতাসে শ্বাস নিই, এবং এখন প্রতিটি শ্বাসের সাথে বিপুল পরিমাণ দূষিত জিনিসপত্র শরীরে প্রবেশ করে যা স্বাস্থ্যের জন্য স্পষ্টতই ক্ষতিকর। মুম্বই বা দিল্লিতে একদিনের শ্বাস-প্রশ্বাসকে (অত্যন্ত বিপুল সংখ্যক) ধূমপানের সমতুল বলে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়, তা আমরা পড়ি এবং তারপর নির্বিকারভাবে নিজেদের কাজ চালিয়েও যাই !

অন্ততপক্ষে, আমরা যে বর্তমান ও আসন্ন অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি, তা উপেক্ষা করে যাচ্ছি ; সহজভাবে বলতে গেলে, স্বাস্থ্যক্ষেত্রের খরচ অনেক বেশি, এবং আমাদের বায়ুদূষণ ও সংকটের স্বাস্থ্যগত পরিণতি সম্পর্কে আমরা যা জানি, তা এই সীমিত পরিসরেও যথেষ্ট উদ্বেগজনক।


AQI ভ্রম : তথ্য উধাওয়ের জেরে বানচাল হচ্ছে দেশের দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই !

অনেকগুলি কারণ আমাদের এহেন পরিস্থিতিতে এনে দাঁড় করিয়েছে। খণ্ডিত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা  (fragmented regulation) বাস্তব জগতে সীমিত বা অস্তিত্বহীন প্রয়োগ ও ফলাফল সহ উচ্চাকাঙ্খামূলক নীতি, এবং আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী নির্মল বাতাসের লক্ষ্য ও ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার এক বাস্তব প্রয়োজনীয়তা - সবই এর অন্তর্ভুক্ত।

আমার মতে, এই সবকিছু দুটি প্রধান ত্রুটি থেকেই উদ্ভূত : তথ্যের অভাব এবং প্রত্যক্ষ আর্থিক ইনসেনটিভ ও ডিসইনসেনটিভের অভাব। অন্যান্য সমস্ত কারণ, এবং এই প্রবন্ধে তার মধ্যে কয়েকটি মাত্র উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই প্রধান ত্রুটিগুলো সমাধান না করে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

ডেটা কেন গুরুত্বপূর্ণ

তথ্য (data) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এলাকার দূষণ এবং এর উৎস সম্পর্কে জানতে হবে আমাদের । উদাহরণস্বরূপ, মুম্বাইয়ের বাতাসের মান সূচক সেন্সর নেটওয়ার্কটি বছরের পর বছর ধরে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে, কিন্তু এটি প্রতিটি ওয়ার্ডকে কভার করে না, অথচ প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি এলাকাকে এটির কভার করা উচিত। আমাদের যথাযথভাবে ক্রমাঙ্কিত, স্বল্প খরচের এবং এলাকাভিত্তিক ঘন সেন্সর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সেন্সরের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে এগিয়ে যেতে হবে, যা বর্তমান তথ্য প্রবাহে যুক্ত হবে। দূষণ পর্যবেক্ষণ এবং এর উৎস চিহ্নিত করার জন্য আমাদের একটি কার্যকর ডেটা নেটওয়ার্কের জরুরি প্রয়োজন।

উৎস শনাক্তকরণের বিষয়টি আরেকটি ডেটা ঘাটতিকে সামনে আনে : আমরা নিজেদেরকে যতই ম্যাক্সিমাম সিটি এবং Urbs Prima হিসেবে গণ্য করি না কেন, আমরা MMR-এর বায়ু অঞ্চলের অংশ এবং সেই প্রেক্ষাপটেই বায়ু দূষণকে বোঝা প্রয়োজন, বিশেষ করে দৈনিক স্থল ও সামুদ্রিক বাতাসের কথা বিবেচনা করলে, যা যুক্তিসঙ্গতভাবেই MMR জুড়ে বায়ু দূষণ ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে বলে আমরা ধরে নিতে পারি। বৃহত্তর MMR-এর দূষণ কি সত্যিই শহরটিকে প্রভাবিত করে ? বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং সাধারণ মানুষের যুক্তি থেকে মনে হয় যে এটি করে, কিন্তু, আমরা শুধু এটুকুই জানি যে আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানি না।

আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিই এবং এর প্রভাব সম্পর্কে বুঝতে চাইলে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতেই হবে। স্বচ্ছভাবে তথ্য ভাগ করে নেওয়াও সচেতনতা বাড়াতে সহায়তা করবে। এবং আমাদের বাতাসের মানের সংকটের যে স্বাস্থ্যগত বা অর্থনৈতিক, যদি সেটি বেশি প্রাসঙ্গিক হয় - পরিণতি কমাতে সাহায্য করবে। আমাকে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে যে, ২০২৩ সালে MPCB, CSIR–NEERI এবং আইআইটি বোম্বে কর্তৃক মুম্বইয়ের জন্য পরিচালিত বায়ু গুণমান পর্যবেক্ষণ, নির্গমণ তালিকা এবং উৎস বিভাজন গবেষণায় এই বিষয়গুলো এবং আরও অনেক কিছু তুলে ধরা হয়েছিল, কিন্তু স্পষ্টতই, এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য খুব কমই কাজ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে, আমাদের প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে উৎসাহিত করতে হবে। কর এবং বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে কার্যকর করা ইনসেনটিভ এবং ডিসইনসেনটিভের একটি কাঠামো আমাদের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার আপাত উদাসীনতা পরিবর্তন করতে পারে। এই প্রক্রিয়াগুলি নিয়ে ভারতের সাম্প্রতিক ও সফল অভিজ্ঞতা রয়েছে, এবং আমাদের শ্বাসকষ্টের সংকট মোকাবিলায় এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো উচিত।

অবশ্যই, এই সবকিছুর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য নীতিগত উদ্যোগ এবং শক্তিশালী আইন প্রণয়নমূলক সদিচ্ছা প্রয়োজন, কিন্তু আমাদের এই দিকে এগিয়ে যাওয়া শুরু করতে হবে। ততদিন পর্যন্ত, আমরা আমাদের শ্বাস নেওয়া যে বাতাস তাকে দেখতেই থাকব এবং আশ্চর্যজনকভাবে আমরা কী দেখছি তা বুঝতেই পারব না।

লেখক Bharucha & Partners-এর ম্যানেজিং পার্টনার। মতামত লেখকের নিজস্ব। 

Disclaimer: The opinions, beliefs, and views expressed by the various authors and forum participants on this website are personal and do not reflect the opinions, beliefs, and views of ABP Network Pvt. Ltd.

View More

ওপিনিয়ন

Sponsored Links by Taboola

সেরা শিরোনাম

Anti Social Activities Bill: রাজ্যে চালু 'গুন্ডা দমন আইন'! কারা সুবিধা পাবেন এবং বিপদে কারা ? কী শাস্তি হবে ? জানুন সমস্ত তথ্য
রাজ্যে চালু 'গুন্ডা দমন আইন'! কারা সুবিধা পাবেন এবং বিপদে কারা ? কী শাস্তি হবে ? জানুন সমস্ত তথ্য
Jhalmuri Song : 'দাবাং' থেকে 'রকস্টার' দিলীপ! 'ঝালমুড়ি' নিয়ে গান গেয়ে সুরের ময়দানে মন্ত্রী, দেখুন ভিডিও
'দাবাং' থেকে 'রকস্টার' দিলীপ! 'ঝালমুড়ি' নিয়ে গান গেয়ে সুরের ময়দানে মন্ত্রী, দেখুন ভিডিও
Weather Alert: রাজ্যজুড়ে সতর্কতা, ঝড়বৃষ্টিতে ভাসবে উত্তর থেকে দক্ষিণ, ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের
রাজ্যজুড়ে সতর্কতা, ঝড়বৃষ্টিতে ভাসবে উত্তর থেকে দক্ষিণ, ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের
Road Accident : ভয়ঙ্কর, স্কুটিতে ধাক্কা দ্রুত গতির চারচাকা গাড়ির, উড়ে গিয়ে পড়ল কিশোর; শেষ প্রাণ
ভয়ঙ্কর, স্কুটিতে ধাক্কা দ্রুত গতির চারচাকা গাড়ির, উড়ে গিয়ে পড়ল কিশোর; শেষ প্রাণ

ভিডিও

Congress on Mamata Banerjee :
Saokat Molla : সওকত মোল্লার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল BJP
Cyber Crime News | রাতভর তল্লাশি, নিউটাউনের ফ্ল্যাটে থরে থরে টাকা! এ কী কাণ্ড?
Nirmal Ghosh News |
Nirmal Ghosh |

ব্যক্তিগত কর্নার

সেরা প্রতিবেদন
সেরা রিল
Anti Social Activities Bill: রাজ্যে চালু 'গুন্ডা দমন আইন'! কারা সুবিধা পাবেন এবং বিপদে কারা ? কী শাস্তি হবে ? জানুন সমস্ত তথ্য
রাজ্যে চালু 'গুন্ডা দমন আইন'! কারা সুবিধা পাবেন এবং বিপদে কারা ? কী শাস্তি হবে ? জানুন সমস্ত তথ্য
Jhalmuri Song : 'দাবাং' থেকে 'রকস্টার' দিলীপ! 'ঝালমুড়ি' নিয়ে গান গেয়ে সুরের ময়দানে মন্ত্রী, দেখুন ভিডিও
'দাবাং' থেকে 'রকস্টার' দিলীপ! 'ঝালমুড়ি' নিয়ে গান গেয়ে সুরের ময়দানে মন্ত্রী, দেখুন ভিডিও
Weather Alert: রাজ্যজুড়ে সতর্কতা, ঝড়বৃষ্টিতে ভাসবে উত্তর থেকে দক্ষিণ, ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের
রাজ্যজুড়ে সতর্কতা, ঝড়বৃষ্টিতে ভাসবে উত্তর থেকে দক্ষিণ, ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের
Road Accident : ভয়ঙ্কর, স্কুটিতে ধাক্কা দ্রুত গতির চারচাকা গাড়ির, উড়ে গিয়ে পড়ল কিশোর; শেষ প্রাণ
ভয়ঙ্কর, স্কুটিতে ধাক্কা দ্রুত গতির চারচাকা গাড়ির, উড়ে গিয়ে পড়ল কিশোর; শেষ প্রাণ
Srabanti Chatterjee: ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার টলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রীর PA
ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার টলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রীর PA
Railway Stolen Bedsheets : ১০০০ জনে ১ জন যাত্রী চোর ! ভারতীয় রেলে উধাও ১.২৭ কোটি চাদর-তোয়ালে, ১০৪ কোটির ক্ষতি
১০০০ জনে ১ জন যাত্রী চোর ! ভারতীয় রেলে উধাও ১.২৭ কোটি চাদর-তোয়ালে, ১০৪ কোটির ক্ষতি
CM Suvendu Adhikari:
"মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ..", বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, "আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে.." কী কী পাচ্ছে এবার রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি ?
Ration Controversy: 'ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে মাল দিচ্ছে না, সাহসটা পায় কী করে? জেলে ভরেননি কেন?', হুঁশিয়ারি খাদ্যমন্ত্রীর
'ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে মাল দিচ্ছে না, সাহসটা পায় কী করে? জেলে ভরেননি কেন?', হুঁশিয়ারি খাদ্যমন্ত্রীর
Embed widget