বুরারিকাণ্ডের ছায়া হাজারিবাগে, একই পরিবারের ৬ জনের রহস্যমৃত্যু

হাজারিবাগ: উত্তর দিল্লির বুরারিকাণ্ডের ছায়া এবার ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগে। একই পরিবারের ৬ জনের রহস্যমৃত্যু। এর মধ্যে বাড়িতেই পাঁচ জনের দেহ উদ্ধার। ছাদ থেকে ঝাঁপ দেওয়ায় অপরজনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ।
উত্তর ছোটানাগপুর রেঞ্জের ডিআইজি পঙ্কজ কম্বোজ জানান, ৬ জনের মধ্যে তিনজনের দেহ ২টি পাশাপাশি ফ্ল্যাটে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। দুটি শিশু—এক ছেলে ও এক মেয়ে—দেহটি একটি ফ্ল্যাটের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়। ষষ্ঠ ব্যক্তির দেহ আবাসনের মূল ফটকের কাছ থেকে উদ্ধার হয়। পুলিশের অনুমান, সম্ভবত তিনি চারতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ৬টি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ৬টি চিঠিই একজনের হাতের লেখা। তবে, ৬ জনই স্বাক্ষর করেছেন। চিঠিতে আত্মহত্যার নেপথ্যে ‘আর্থিক অনটন’-কে দায়ী করা হয়েছে। কম্বোজ জানান, প্রাথমিক অনুমান, পরিবারের প্রাপ্তবয়স্করা এক এক করে আত্মঘাতী হন। তবে, তার আগে শিশুদের আগে বেহুঁশ করে গলার নলি কেটে দেওয়া হয়।

নিহতরা হলেন, মহাবীর প্রসাদ মহেশ্বরী (৭০), তাঁর স্ত্রী কিরণ মাহেশ্বরী (৬৫), ছেলে নরেশ প্রসাদ মাহেশ্বরী (৪০), পুত্রবধূ প্রীতি মাহেশ্বরী (৩৮) এবং দুই নাতি-নাতনি—আমন (১০) ও অনথ (৮)। পুলিশ জানিয়েছে, এর বড় ঘটনা ঘটে গেলেও, প্রতিবেশীরা কোনও টের পাননি। প্রতিবেশীদের দাবি, তাঁরা কোনও চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে পাননি।
ঘটনার সত্যাসত্য যাচাই করতে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি, কীকরে মৃত্যু হয়েছে, যা জানতে দেহগুলির ময়না তদন্ত হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ঋণের ভারে জর্জরিত ছিলেন পেশায় মুদিখানা দোকানের মালিক নরেশ প্রসাদ। ঘটনাস্থল থেকে দুটি স্বাক্ষর করা চেক, ইথারের বোতল, তুলো ও ব্লেড উদ্ধার করেছে পুলিশ। সম্প্রতি, উত্তর দিল্লির বুরারিতে একই পরিবারের ১১ জনের দেহ উদ্ধার হয় ঘর থেকে। ১০ জনকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একজনের দেহ মেঝেতে পড়েছিল।





















