নয়াদিল্লি: গণবিদ্রোহের আগুনে ফুটছে নেপাল। প্রাণে বাঁচাতে সরকারি আধিকারিকদের এয়ারলিফট। প্রকাশ্যে এল ভয়াবহ ভিডিও। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হেলিকপ্টারে করে দড়ির সাহায্য়ে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নেপালের আমলাদের। 

আরও পড়ুন, নেপালে গিয়েছিলেন চোখের চিকিৎসা করাতে, আচমকা পরিস্থিতি উত্তাল হতেই মেয়েকে নিয়ে আটকে পড়েন বর্ধমানের বাসিন্দা..

বুলেট দিয়েও দমানো যায়নি বিদ্রোহ। বরং নেপালে ছাত্র-যুবর আন্দোলনের সামনে নতিস্বীকার করে সেনা এবং পুলিশও। সূত্রের খবর, আন্দোলনের চেহারা দেখে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে কে পি ওলি-কে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেন খোদ সেনাপ্রধানই। কে পি ওলি আরও সেনা নামাতে বললে সেনাপ্রধান পরিষ্কার বলে দেন, আপনি সরে দাঁড়ালে তবেই বাহিনী রাস্তায় নামবে। বিদ্রোহের কাছে হার মানল বুলেট! গণবিদ্রোহের ঝড়ই উল্টে দিল নেপালের গদি! ছাত্র-যুবর বিক্ষোভ কীভাবে সেনা এবং পুলিশকে পিছু হঠতে এবং শাসককে চেয়ার ছেড়ে পালাতে বাধ্য় করতে পারে তা দেখিয়ে দিল নেপাল। সোমবার থেকে পুলিশকে কাজে লাগিয়ে নেপালে ছাত্র-যুবর বিক্ষোভে লাগাম টানার চেষ্টা করেছিলেন সদ্য় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলি। কিন্তু, Gen-Z র বিদ্রোহের ঝড় দেখে সেই সেনাই অবস্থান বদলাতে বাধ্য় হয়। সূত্রের খবর, খোদ সেনাপ্রধানই কে পি ওলি-কে পরামর্শ দেন, প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার ছেড়ে দিতে! দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে, প্রথমে ২৬টা সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করেছিল নেপালের ওলি-সরকার। তা নিয়ে ছাত্র-যুবর বিদ্রোহে সোমবার কাঠমানডু যখন কুরুক্ষেত্র তখনও আন্দোলন দমন করতে সরকার ব্যাপক দমনপীড়ন চালায়। পুলিশ গুলি চালায়। তাতে মৃত্যু হয় একাধিক তরুণ আন্দোলনকারীর। কিন্তু, তাতে আন্দোলনের আঁচ এতটুকু কমেনি। বরং তা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। প্রবল চাপের মুখে রাতেই ওলি সরকার সোশাল মিডিয়া থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য় হয়।  কিন্তু, ততক্ষণে ক্ষোভের আগুন দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলির পদত্য়াগের দাবিতে গর্জে উঠেছে কাঠমানডু। এমনকী, বিদ্রোহের ঝাঁঝ দেখে ঘুরে যায় পুলিশ এবং সেনাও। সূত্রের খবর, ইস্তফা দেওয়ার আগে শেষ চেষ্টা হিসেবে সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগডেলের কাছে সাহায্য় চান প্রধানমন্ত্রী ওলি। পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও সেনা নামাতে বলেন তিনি। এমনকী দেশত্যাগের জন্যও সেনাপ্রধানের কাছে তিনি কাতর অনুরোধ জানান বলে সূত্রের খবর। সূত্রের খবর, তখনই সেনাপ্রধান তাঁকে ইস্তফা দেওয়ার পরামর্শ দেন। সেনাপ্রধান স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ওলি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ালে তবেই বাহিনী রাস্তায় নামবে।