End Of World : ২০২৬-এর নভেম্বরে ধ্বংস হচ্ছে পৃথিবী ? ১৯৬০ সালের গবেষণা ঘিরে চাঞ্চল্য, কী বলছেন বিজ্ঞানীরা ?
World End Prediction : ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। এই দাবিটি ভাইরাল হতেই মানুষের মধ্যে ভয় এবং বিতর্ক উভয়ই সৃষ্টি করেছে। কিন্তু আসল ঘটনাটি কী?

প্রতি বছর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার খবর রাতারাতি ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মাধ্যমে। এবারও অন্যথা হয়নি। আবার একটি ভয়ঙ্কর দাবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে। যা দেখার পর শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা বিশ্বে। এতে বলা হচ্ছে যে, বিজ্ঞানীরা বহু বছর আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। এই দাবিটি ভাইরাল হতেই মানুষের মধ্যে ভয় এবং বিতর্ক উভয়ই সৃষ্টি করেছে। তবে, যখন এই পুরোনো তথ্যটি নিয়ে গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক মডেলটি গভীরভাবে পরীক্ষা করা হয়, তখনই আসল ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
পোস্টটিতে বলা হয়েছে ২০২৬ সালের ১৩ই নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। আসলে, এই ঘটনাটি ১৯৬০ সালে পরিচালিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার সঙ্গে সম্পর্কিত। ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী হাইঞ্জ ফন ফোয়েস্টার (Heinz von Foerster), প্যাট্রিসিয়া মোরা (Patricia Mora) এবং লরেন্স অ্যামিওট (Lawrence Amiot) সেই সময়ে বিশ্বের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার উপর একটি গবেষণা করেন। তাঁরা প্রায় ২,০০০ বছরের জনসংখ্যার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখতে পান যে, বিশ্বের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই গবেষণায় একটি গাণিতিক মডেল তৈরি করা হয়েছিল, যাতে বলা হয়েছে যে জনসংখ্যা যদি এই হরে বা গতিতে বাড়তে থাকে, তবে ২০২৬ সালের ১৩ই নভেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা কখনও ভবিষ্যদ্বাণী করেননি যে ২০২৬ সালে পৃথিবী ধ্বংস হবে বা কোনও মহাপ্রলয় ঘটবে। তাঁরা বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, যদি জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ হাতের বাইরে বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলতে থাকে, তবে মানুষের সম্পদের উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর অর্থ হলো, অতিরিক্ত জনবসতি, খাদ্য সংকট, পরিবেশগত চাপ এবং জীবনযাত্রার কষ্ট উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। গবেষণাটিতে ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধির' কথা বলে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, পৃথিবী ধ্বংসের কথা বলা হয়নি।
আরও পড়ুন - এই বছরের পর আর থাকবে না পৃথিবী, এখনই ধ্বংসের শুরু, এক মহাদেশ হবে বিলুপ্ত, কী বলেছেন বাবা ভাঙ্গা
প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমানে পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। বিশ্বের জনসংখ্যা বর্তমানে ৮ বিলিয়ন অতিক্রম করেছে, কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি আগের তুলনায় মন্থর হচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের জনসংখ্যা ২০৮০ সালের দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এবং এরপর তা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাবে।
আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে জানা যায়, প্রায় ১ বিলিয়ন বছরের মধ্যে সূর্যের ক্রমবর্ধমান তাপ পৃথিবীর অক্সিজেনের মাত্রাকে কমিয়ে দিতে পারে, সমুদ্র শুকিয়ে যেতে পারে এবং তাপমাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যা মানুষের জীবন ধারণকে ও বেঁচে থাকাকে দুর্বিসহ করে তুলবে। তবে, এই সময়কালকে মানব সভ্যতার দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক দূরে বলে মনে করা হয়।
























