Science News: নক্ষত্রের 'শব' থেকে জন্ম, ফিনিক্স গ্রহের সন্ধান মিলল, সৌরজগতের ভবিতব্যও কি একই?
Phoenix Planet: মহাশূন্যের বুকে সন্ধান মিলল 'দ্বিতীয় প্রজন্মে'র গ্রহের। নক্ষত্রের শবদেহ থেকেই জন্ম।

নয়াদিল্লি: আগুনে ভস্মীভূত হাওয়ার পর ছাই থেকে পুনর্জন্ম। পৌরাণিক গল্পেই এতদিন অলৌকিক ফিনিক্স পাখির কথা শুনেছেন সকলে। সৌরজগতের বাইরে, মহাশূন্যের বুকে এবার ‘ফিনিক্স গ্রহে’র সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা। সূর্যের শবদেহ থেকে জন্ম নিয়েছে গ্রহটি। আগামী দিনে সৌরজগতের ভবিতব্যও তেমন হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। (Phoenix Planet)
সৌরজগতের বাইরে, পৃথিবী থেকে ২৭০ আলোকবর্ষ দূরে ‘ফিনিক্স গ্রহ’টির সন্ধান মিলেছে। HS 0209+0832 নামের একটি শ্বেত বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে সেটি। পুড়তে পুড়তে নিঃশেষ হওয়ার পথে ওই নক্ষত্র। এখন তাপমাত্রা প্রায় ৩৫০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এককালে সূর্যের মতো বিশালাকার নক্ষত্র ছিল নক্ষত্রটি। এখন যেটুকু জ্বালানি অবশিষ্ট রয়েছে, তাতে ধিক ধিক করে জ্বলছে। পুরোপুরি ছাই হয়ে যাওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা। (Science News)
সেই HS 0209+0832 নক্ষত্রটির চারিদিকেই ঘুরতে থাকা একটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ৫ অক্টোবর Nature Astronomy জার্নালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, Hubble টেলিস্কোপ এবং অন্য তথ্যের ভিত্তিতে নক্ষত্রটিতে জিঙ্ক এবং তামার মতো অতি মারী মৌলের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি, পাওয়া গিয়েছে নাইওবিয়াম, যা আগে কোনও শ্বেত বামন নক্ষত্রে পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞানীদের দাবি, মৃত্যুযন্ত্রণার সময়ই বেমানান ওই মৌলগুলির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তার চারপাশে ‘দ্বিতীয় প্রজন্মে’র গ্রহটির জন্ম হয়। নাক্ষত্রিক বায়ুমণ্ডলের সংস্পর্শে এসে সেটির বায়ুমণ্ডল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ওই মৌলগুলি পুনরায় নক্ষত্রটির উপর গিয়ে পড়ছে।
আরও বিশদে গবেষণা করতে গিয়ে দেখা যায়, HS 0209+0832 নক্ষত্রটির ঔজ্জ্বল্য কখনও হ্রাস পাচ্ছে, কখনও আবার বৃদ্ধি পাচ্ছি। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মৃতপ্রায় নক্ষত্রটির সামনে দিয়ে বার বার যাওয়া আসা করছে গ্রহটি। পৃথিবীর হিসেবে গ্রহটির কক্ষপথের সময়কাল ৪.৪ দিন বলে ধরা হচ্ছে। সেটির আকারে বৃহস্পতির মতো বলেই ধারণা। তবে নক্ষত্রের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় বায়ুমণ্ডল ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অফ ওয়ারউইকের জ্যোতির্বিজ্ঞানী তথা জ্য়োতির্পদার্থবিদ জেমি উইলিয়ামস গবেষণাপত্রটির লেখক। তাঁর কথায়, “দ্বিতীয় প্রজন্মের গ্রহ বলতে সেই সব গ্রহকে বোঝায়, নক্ষত্রের মৃত্যুর সময় তার শরীর থেকে ছিটকে পড়া পদার্থ থেকে জন্ম যেগুলির। ওই ধরনের গ্রহ অত্যন্ত বিরল। শ্বেত বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা এমন গ্রহের সন্ধান পাওয়া একেবারেই অপ্রত্যাশিত ঘটনা। এমন একটি গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেল, যা আসলে তারই নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ, ছাই থেকেই জন্ম।”
এর আগে, ২০১৯ সালে একটি শ্বেত বামনগ্রহকে প্রদক্ষিণ করে চলা এক্সোপ্ল্যানেটের সন্ধান মেলে। WDJ0914+1914 নামের নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছিল সেটি। তবে সেটি ছিল ‘প্রথম প্রজন্মে’র গ্রহ, অর্থাৎ নক্ষত্রের ভস্ম থেকে তার জন্ম হয়নি। নক্ষত্রের মৃত্যুর পরও বেঁচে ছিল সেটি। মৃত্যুমুখী নক্ষত্রের চার পাশে আগেও ‘ফিনিক্স গ্রহ’ দেখা গিয়েছে। তবে সেগুলির কোনওটাই শ্বেত বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছিল না। বিজ্ঞানীদের মতে, পুরনো জগতের ধ্বংসাবশেষের উপরই আবার নতুন গ্রহমণ্ডল তৈরি হচ্ছে এক্ষেত্রে। HS 0209+0832 নক্ষত্রটিকে ঘিরে অতীতে একাধিক গ্রহ থেকে থেকে থাকতে পারে। ৫০০ কোটি বছর পর সূর্যের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে, সৌরজগতের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। বিজ্ঞানীদের মতে, পুড়তে পুড়তে একসময় বামন নক্ষত্রে পরিণত হতে পারে সূর্য। তাকে ঘিরে আবারও নতুন গ্রহ তৈরি হতে পারে। তৈরি হতে পারে সৌরজগৎ 2.0 (Solar System 2.0). তবে ওই এক্সোপ্ল্যানেটটি কী ভাবে তৈরি হল, তা পুরোপুরি বুঝতে আরও গবেষণা জরুরি। চার পাশে আরও একটি গ্রহ থাকলেও থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।






















