ENG vs SA: ব্রেটস্কের ঐতিহাসিক ইনিংসে ভর করে টানটান ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ় জয় দক্ষিণ আফ্রিকার
Matthew Breetzke: লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওয়ান ডে ম্যাচে শতাধিক স্ট্রাইক রেটে ৮৫ রানের ইনিংস খেলেন ম্য়াথিউ ব্রেটস্কে।

লন্ডন: স্বপ্নের শুরু বললেও যেন কম বলা হয়। ওয়ান ডে ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাথিউ ব্রেটস্কের (Matthew Breetzke) ব্যাট যেন থামছেই না। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে (ENG vs SA) নিজের কেরিয়ারের পঞ্চম ওয়ান ডে ম্যাচেও ফের একবার অর্ধশতরান হাঁকালেন প্রোটিয়া মিডল অর্ডার ব্যাটার। ব্রেটস্কের ব্যাটে এবং নানদ্রে বার্গারের বোলিংয়ে ভর করে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টানটান দ্বিতীয় ওয়ান ডে ম্য়াচে পাঁচ রানে জয় পেল দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ম্যাচ জিতে সিরিজ়ও নিজেদের নামে করল প্রোটিয়া শিবির। ইতিহাসে প্রথমবার ব্য়াটার হিসাবে নিজের প্রথম পাঁচ ওয়ান ডে ম্য়াচেই অর্ধশতরানের গণ্ডি পার করলেন ব্রেটস্কে।
এদিন প্রথমে ব্যাট করে আট উইকেটের বিনিময়ে ৩৩০ রান তুলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে নয় উইকেটে ৩২৫ রানে ইংল্যান্ডের ইনিংস থামে। লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওয়ান ডে ম্যাচে শতাধিক স্ট্রাইক রেটে ৮৫ রানের ইনিংস খেলেন ম্য়াথিউ ব্রেটস্কে। এরপরে বল হাতে নানদ্রে বার্গার তিন উইকেট নেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ফের একবার দুই ওপেনার রায়ান রিকেলটন ও এইডেন মারক্রাম শুরুটা বেশ ভালভাবেই করেন। এদিন অবশ্য মারক্রাম খানিকটা ধরে খেলেন, আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন রিকেলটন। কিন্তু রিকেলটন ৩৫ রানে আউট হওয়ার পর খুব বেশিদূর এগোতে পারেননি মারক্রামও। ৪৯ রানে আউট হন তিনি। অধিনায়ক তেম্বা বাভুমার সংগ্রহ মাত্র চার রান। এরপরে ব্রেটস্কে ও ট্রিস্টান স্টাবস দুরন্ত পার্টনারশিপে দলের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান। তবে শতাধিক রানের পার্টনারশিপ ভাঙেন আর্চার। নিখুঁত ইয়র্কারে ব্রেটস্কেকে ফেরান তিনি। তবে ততক্ষণে ব্রেটস্কে প্রথম ব্যাটার হিসাবে টানা পাঁচ ওয়ান ডেতে অর্ধশতরানের গণ্ডি পার করে ইতিহাস গড়লেন।
স্টাবসও দুরন্ত অর্ধশতরান হাঁকান। তবে ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির জেরে তিনি ৫৮ রানে রান আউট হন। শেষের দিক ব্রেভিসের ৪২ ও করবিন বশের ৩২ রান ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকা বেশ বড় রান তোলে বোর্ডে। জোফ্রা আর্চার চারটি উইকেট নেন। জবাবে ব্যাটে নেমে ইংল্যান্ড শুরুটা দুঃস্বপ্নের মতোই করে। গত ম্যাচে দলের একমাত্র অর্ধশতরানকারী ব্যাটার জেমি স্মিথকে প্রথম বলেই সাজঘরে ফেরত পাঠান বার্গার। আরেক ওপেনার বেন ডাকেটও ১৪ রানে আউট হন।
তবে দলের সবথেকে অভিজ্ঞ ব্যাটার জো রুট ও তরুণ জেকব বেথেল পাল্টা লড়াই শুরু করেন। দুই জনেই অর্ধশতরানের গণ্ডি পার করেন। রুট ও বেথেল যথাক্রমে ৬১ ও ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন। এরপরে খারাপ ফর্মে সমালোচনার শিকার হওয়া জস বাটলারও দুরন্ত অর্ধশতরান হাঁকান। তবে অল্প রানের ব্যবধানে পরপর উইকেট হারিয়ে নিশ্চিত পরাজয়ের পথে এগোচ্ছিল ইংল্যান্ড। ৩১৩ রানে নয় উইকেট পড়ে গিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে যখন ইংরেজ সমর্থকরা জয়ের সব আশা ছেড়ে দিয়েছেন, তখনই নিজের ব্যাটিং দক্ষতার পরিচয় দেন আর্চার। ব্যাট হাতে একের পর এক বড় শট মারেন তিনি। কিন্তু শেষমেশ তাঁর ২৭ রানের অপরাজিত ইনিংস দলকে জেতানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম ইংল্যান্ডের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়ে ইংল্যান্ডকে হারাল রামধনুর দেশ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পর লর্ডসে প্রোটিয়াদের প্রত্যাবর্তন বেশ মধুরই হল।




















