Vastu Tips : বাড়ির এই ৫টি জিনিস পরিবর্তন করলেই বদলাবে ভাগ্য! বাস্তু দোষ দূর করার সহজ উপায় জেনে নিন
Vastu Principles & Tips : বাস্তু দোষ কীভাবে দূর করা যায় ? আপনার বাড়ির এমন পাঁচটি জিনিস সম্পর্কে জানুন, যা সব বাধা দূর করতে সাহায্য করবে।

ফ্ল্যাট কেনা হোক বা নিজের বাড়ি বানানো, অনেকেই বাস্তুশাস্ত্র মেনে কেনেন বা বানিয়ে থাকেন। বাড়ির জানালাটা কোন দিকে থাকবে, রান্নাঘর কোন দিকে থাকবে, ঠাকুরের জায়গা কোথায় হবে এই ধরণের বিষয় নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়ে থাকে। আবার অন্য দিকে অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, বাড়িতে প্রতিনিয়ত কিছু সমস্যা, আর্থিক বাধা বা মানসিক অশান্তি বাস্তু সমস্যার কারণে হতে পারে। যদিও সব সমস্যার কারণ বাস্তু নয়। তবে বাস্তুশাস্ত্রে এমন কিছু সহজ সমাধান রয়েছে যার জন্য কোনও ভাঙচুরের প্রয়োজন হয় না। মনে করা হয় যে, বাড়ির কিছু উপাদানে ছোটখাটো পরিবর্তন আনলেই ফের ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বৃদ্ধি পেতে পারে।
বাস্তু প্রতিকারগুলো প্রায়শই ধর্মীয় এবং ঐতিহ্যগত বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির দিক এর সাজসজ্জা এবং নির্দিষ্ট কিছু জিনিস সঠিক জায়গায় রাখলে পরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও ইতিবাচক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়িতে সবসময় বড় ধরনের নির্মাণকাজের প্রয়োজন হয় না। কখনও কখনও, ছোটখাটো জিনিসপত্রকে সঠিক জায়গায় রাখা এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করতে পারে।
জ্যোতিষী সঞ্জিত কুমার মিশ্রের মতে, বাস্তু প্রতিকারের উদ্দেশ্য হলো বাড়িতে ইতিবাচকতা এবং ভারসাম্য বজায় রাখা। বাড়িতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং একটি সুসংগঠিত পরিবেশ বজায় রাখলে মানসিক শান্তি ও ইতিবাচক চিন্তাভাবনা গড়ে উঠতে পারে। তবে, যেকোনো সমস্যার সমাধান শুধুমাত্র বাস্তু প্রতিকারের উপর নির্ভর করে না।
১. প্রধান দরজা পরিষ্কার করে রাখা এবং জায়গাটি অন্ধকার করে না রাখা
বাস্তুশাস্ত্রে, প্রধান দরজাকে শক্তি প্রবেশের স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দরজার চারপাশে ময়লা, ভাঙা নেমপ্লেট বা কম আলো থাকলে, তা মেরামত করে নেওয়া শুভ বলে মনে করা হয়। একটি পরিষ্কার এবং আলোকিত প্রবেশদ্বার বাড়িতে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করে বলে বিশ্বাস করা হয়।
২. ভাঙা ঘড়ি এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী সরিয়ে ফেলুন
বাড়িতে ভাঙা ঘড়ি, ভাঙা কাচ বা নষ্ট ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী না রাখাই শ্রেয়। বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, এই ধরনের জিনিসপত্রকে অশুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। এগুলো সরিয়ে ফেলে বাড়িঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাই সবচেয়ে ভালো।
৩. আসবাবপত্র সঠিকভাবে রাখুন
আসবাবপত্র যদি যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে বা চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে, তবে তা সরিয়ে ফেলা উপকারী বলে মনে করা হয়। খোলামেলা জায়গা এবং গোছানো ঘর বাড়ির অভ্যন্তরে শক্তির প্রবাহ উন্নত করে।
৪. বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিক পরিষ্কার রাখুন
বাস্তুশাস্ত্রে উত্তর-পূর্ব দিক (ঈশান কোণ) অত্যন্ত শুভ দিক বলে বিবেচিত হয়। এই স্থানে ভারী জিনিসপত্র, আবর্জনা বা অগোছালো জিনিস জমা করা থেকে বিরত থাকুন। ঐতিহ্যগতভাবে এই স্থানটি পরিষ্কার ও আলোকিত রাখা হয়।
৫. শুকনো গাছ রাখবেন না এবং কৃত্রিম ফুলের পরিবর্তে সবুজ গাছপালা ব্যবহার করুন।
মরা বা শুকিয়ে যাওয়া গাছ সরিয়ে সেগুলোর জায়গায় স্বাস্থ্যকর ও সবুজ গাছ লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তুলসী, মানি প্ল্যান্ট (উপযুক্ত স্থানে) বা অন্যান্য সবুজ গাছপালাকে একটি ইতিবাচক পরিবেশের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
যে জিনিসগুলো মনে রাখবেন -
১. বাড়িতে অপ্রয়োজনীয় আবর্জনা জমতে দেবেন না।
২. প্রতিদিন সকালে বাড়ির জানালাগুলো খুলে দিন, যাতে তাজা বাতাস ঘরে ঢুকতে পারে।
৩. ঠাকুরের ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
৪. ভাঙা বাসনপত্র ও কাচ দীর্ঘ সময় ধরে বাড়িতে জমিয়ে রাখবেন না।
৫. নিয়মিত বাড়ির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আলোর দিকে খেয়াল রাখুন।




















