এক বিন্দু রক্ত ছাড়াই অ্যানিমিয়াকে পাকড়াও, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সফল EzeRx-এর EzeCheck
EzeCheck একদিকে যেমন বহনযোগ্য, তেমনই অফলাইন-সাপোর্টেড। এটি কোনও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীর সহায়তা ছাড়াই ব্যবহার করা সম্ভব।

কোভিডের নানা ভ্যারিয়েন্ট যখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তখনই এক অদৃশ্য শত্রু নিঃশব্দে আঘাত হানছে আমাদের শরীর ও সমাজে। না, আলোচনার মঞ্চে সে নেই। অথচ তার থাবা ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে দিচ্ছে শরীরের ভিতরের শক্তি। একেবারে মেঘনাদের মতো আড়াল থেকে নিশানা করছে সে, ক্ষইয়ে দিচ্ছে ক্রমাগত। এই “দুর্ধর্ষ দুশমন”-এর নাম— অ্যানিমিয়া।
শুনতে সাধারণ লাগলেও, এই রোগের প্রভাব ভয়ানক। ঘুণপোকার মতো শরীরের গভীরে বাসা বাঁধে এই রোগ। আর বুঝে ওঠার আগেই সে শরীরকে দুর্বল করে দেয়। ফল হিসেবে রয়ে যায় শ্বাসকষ্ট, চর্মশুষ্কতা, বুকে ব্যথা, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, এমনকি জন্ডিসও।
তাহলে উপায় কী? এই জটিল সমস্যার এক যুগান্তকারী সমাধান এনেছে EzeRx, যার নাম—EzeCheck। এই অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে এক মিনিটেরও কম সময়ে জানা যায় কারও শরীরে অ্যানিমিয়া রয়েছে কিনা। তাও বিনা রক্ত ব্যয়ে। শুধু বাঁ হাতের অনামিকা EzeCheck-এর নির্দিষ্ট ফিঙ্গার বেডে রাখলেই এটি হিমোগ্লোবিনের সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করে ফেলে। না সূচ ফোটানোর ঝামেলা, না কোনও ব্যথা! আর এই পরীক্ষার খরচ? মাত্র ১০ টাকা!
EzeCheck একদিকে যেমন বহনযোগ্য, তেমনই অফলাইন-সাপোর্টেড। এটি কোনও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীর সহায়তা ছাড়াই ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও এটি সহজেই ব্যবহারযোগ্য। মাত্র ৬০ সেকেন্ডে ফলাফল পাওয়া যায় বলে, এটি গণস্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আদর্শ। বিশেষত সরকারি-বেসরকারি হেলথ ক্যাম্প, স্কুল স্বাস্থ্যপরীক্ষা, রক্তদান শিবির বা গ্রামবাসীদের স্ক্রিনিংয়ের ক্ষেত্রে।
শুধু গ্রামীণ অঞ্চলে নয়, হাসপাতাল, নার্সিংহোম ও চিকিৎসকের চেম্বারেও এই ডিভাইসটি অত্যন্ত কার্যকরী। EzeCheck এর মাধ্যমে আজ অতি সহজেই “অ্যানিমিয়া-মুক্ত ভারত” গড়ে তোলা সম্ভব।
EzeCheck কেন আলাদা?
রক্ত ও সূচবিহীন পরীক্ষা
মাত্র ৬০ সেকেন্ডে নির্ভরযোগ্য রিপোর্ট
ইন্টারঅ্যাক্টিভ ড্যাশবোর্ড অর্থাৎ রিয়েল-টাইম তথ্য ট্র্যাকিং ও অ্যানালিটিক্স
ইন্টারনেট ছাড়াও ব্যবহারযোগ্য
আকারে ছোট এবং সহজে বহনযোগ্য
সঠিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত (ICMR-RMRCBB validated; CDSCO, ISO-13485, IEC certified)
পরিবেশবান্ধব
এ প্রসঙ্গে EzeRx-এর কর্ণধার ও সিইও পার্থ প্রতিম দাস মহাপাত্র বলেন, “রক্ত ছাড়া কীভাবে অ্যানিমিয়া পরীক্ষা করা যায়, এই প্রশ্নটাই আমাকে ভাবাচ্ছিল। আমি বিশ্বাস করি, যাঁরা রক্তাল্পতায় ভোগেন, তাঁদের শরীর থেকে আবার রক্ত নেওয়া একেবারেই যুক্তিযুক্ত নয়। তার উপর সূচের প্রতি ভীতি আজও বহু মানুষের কাছে বড় বাধা।”
তাঁর কথায়, “তাই আমরা এমন একটি সমাধান তৈরি করেছি, যা ব্যবহার করে রক্ত ছাড়াই হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করা সম্ভব। আমাদের অত্যাধুনিক ডিভাইস EzeCheck সহজেই বলে দিতে পারে, কেউ অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত কিনা।”
তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে EzeCheck ৯৩% নির্ভুল তথ্য দেয়, এবং আমরা শীঘ্রই এটিকে ১০০% নির্ভুল করে তুলব।”
প্রসঙ্গত, বর্তমানে ভারত সহ মোট ১৩টি দেশে —আমেরিকা, দুবাই, মালাওয়ি, ইয়েমেন, সিঙ্গাপুর, ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, মঙ্গোলিয়া, মায়ানমার, উজবেকিস্তান এবং সার্বিয়ায়—ব্যবহৃত হচ্ছে EzeCheck।
ভারতের মধ্যে ওডিশা, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, পঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, গুজরাট, মণিপুর, উত্তরপ্রদেশ সহ একাধিক রাজ্য সরকারের সঙ্গে আমরা নিয়মিতভাবে কাজ করছি। এই তালিকায় রয়েছে বাংলার সরকারও। এমনকি সম্প্রতি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং অ্যাপোলো হাসপাতালে EzeCheck-এর দু’টি পৃথক ট্রায়াল চলেছে। যেখানে হাজারাধিক রোগীদের রক্তপরীক্ষার মাধ্যমে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা পরিমাপ করার পাশাপাশি EzeCheck দিয়েও পরীক্ষা করা হয়। উল্লেখ্যযোগ্যভাবে সেই ট্রায়ালে সাফল্যের সঙ্গে পাশ করেছে আমাদের অত্যাধুনিক নন-ইনভেসিভ হিমোগ্লোবিন স্ক্রিনিং ডিভাইস EzeCheck। উল্লেখ্য, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে প্রথিতযশা চিকিৎসক ডাঃ প্রসূন ভট্টাচার্যের (বিভাগীয় প্রধান, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন) তত্ত্বাবধানে ওই ১১২৫ জনের মধ্যে (৭৮৮ পুরুষ এবং ৩৩৭ মহিলা) ওই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলে। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের নানা সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, স্কুল, অঙ্গনওয়ারি সেন্টার, স্বাস্থ্য শিবির, ক্লিনিক এবং ব্লাড ব্যাঙ্কে সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে EzeRx-এর EzeCheck ডিভাইস। তাছাড়া সমাজসেবী সংস্থা এবং CSR-এর সঙ্গেও নিয়মিত কাজ করছি আমরা। বর্তমানে এই পরিসরকে আরও বাড়িয়ে বাংলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করার লক্ষ্য আমাদের। তার জন্য সমমনস্ক আরও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের সংস্থার।
এদিকে সান ফার্মা, ইন্ডিয়ান অয়েল, সিপলা, ইনফোসিস ফাউন্ডেশন, টাটা স্টিল ফাউন্ডেশন, ইউনিসেফ ইন্ডিয়া, হিরো, স্বদেশ ফাউন্ডেশন, সেলকো ফাউন্ডেশন, পাথ, বায়োকন ফাউন্ডেশন, আমেরিকান ইন্ডিয়ান ফাউন্ডেশন-এর মতো প্রভাবশালী সংস্থাসহ ৪২৭টিরও বেশি সংস্থা আমাদের সঙ্গে যুক্ত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, EzeCheck-এর সাহায্যে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত আমরা ৩৫ লক্ষেরও বেশি মানুষের হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করেছি। এর মধ্যে ১০,৫৬,০০০ জন পুরুষ এবং ২৪,৬৪,০০০ জন মহিলা রয়েছেন।
এই অত্যাধুনিক নন-ইনভেসিভ প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা এখনও পর্যন্ত:
৬,০৭৫ লিটারের বেশি রক্ত সঞ্চয় করেছি।
₹৯৭.৫০ কোটিরও বেশি চিকিৎসা ব্যয় বাঁচিয়েছি।
১৫.২ টনের বেশি মেডিক্যাল বর্জ্য উৎপাদন হ্রাস করেছি।
৮৬ কিলোটনেরও বেশি কার্বন ক্রেডিট অর্জন করেছি।
জনস্বাস্থ্যের পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সরকার, CSR ইউনিট, সমাজসেবী সংস্থা, ব্লাড ব্যাঙ্ক, ক্লিনিক এবং হাসপাতালের সঙ্গে একযোগে কাজ করছি আমরা। EzeRx-এর একমাত্র লক্ষ্য, প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিরোধমুখী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সুচারু করা।
EzeRx সম্পর্কিত তথ্য:
EzeRx Health Tech Pvt. Ltd. একটি যুগান্তকারী হেলথটেক সংস্থা, যার লক্ষ্য স্বাস্থ্যপরীক্ষাকে আরও নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করে তোলা। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে স্বাস্থ্য সুবিধা পৌঁছে দিতে চাই আমরা।
২০১৮ সালে EzeRx-এর পথচলা শুরু হয়। EzeCheck আবিষ্কারের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে স্বাস্থ্যপরীক্ষার ধরনই বদলে দিয়েছে এই সংস্থা।
বর্তমানে আমাদের টিম আরও বেশ কিছু অত্যাধুনিক স্বাস্থ্য পরীক্ষণের যন্ত্রের উপর কাজ করছে। বিজ্ঞানকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে রোগ-মুক্ত, স্বাস্থ্য-সচেতন বিশ্ব গঠনের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে EzeRx।
Disclaimer: This is a featured article. ABP Network Pvt. Ltd. and/or ABP Live do not endorse/subscribe to its contents and/or views expressed herein. All information is provided on an as-is basis. The information does not constitute advice or an offer to buy. Consult an expert advisor/health professional before any such purchase. Reader discretion is advised.















